বৃটেনের সমমনা ইসলামী দলসমূহ ও উলামায়ে কেরামের সভায় আগামী দিনের রাষ্ট্র ও সরকার গঠনে নিয়ামকের ভূমিকা পালন করতে হলে সব ইসলামী দলকে নিজেদের বোঝাপড়া ও সমঝোতাকে আরও দৃশ্যমান ও সুস্পষ্ট করার আহ্বান জানানো হয়।
তারা বলেন, সব ইসলামী দল ইসলাম ও জাতীয় প্রশ্নে এক মঞ্চের বৃহত্তর আন্দোলন গড়ে তুলুন। এটাই জুলাই গণবিপ্লব ও জন আকাঙ্ক্ষার দাবি।
তারা আরও বলেন, এক্ষেত্রে দলীয় সাময়িক সুবিধার জন্য কোন সেক্যুলার অথবা সেমি সেক্যুলার দল বা জোটের সাথে ঐক্য বা সমঝোতার চিন্তাকে কোনোভাবেই বিবেচনায় নেয়ার সুযোগ নেই। আগামী নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ‘এক বাক্স ও এক ক্যান্ডিডেইট’ পলিসিতে পরস্পর কার্যকর সমঝোতা স্বাক্ষর করার জন্য তারা সকল ইসলামি দলের নেতৃবৃন্দের প্রতি আহ্বান জানান।
গত ২৫ মে সোমবার লন্ডন ফোর্ড স্কোয়ার অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত এ সভায় সভাপতিত্ব করেন খেলাফত মজলিসের কেন্দ্রীয় নায়েবে আমির মাওলানা আবদুল কাদির সালেহ।
জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম ইউ কে’র সাধারণ সম্পাদক হাফিজ মাওলানা সৈয়দ নাঈম আহমদের সঞ্চালনায় সভায় বক্তব্য রাখেন- বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা ফয়েজ আহমদ, জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম যুক্তরাজ্যের সিনিয়র সহ সভাপতি মুফতি আবদুল মুনতাকিম,জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম ইউরোপের মহাসচিব মুফতি মাওসুফ আহমদ,হেফাজতে ইসলাম ইউ কে’র সাধারণ সম্পাদক মাওলানা গোলাম কিবরিয়া, খেলাফত মজলিশ যুক্তরাজ্যের সহ সভাপতি হাফিজ মাওলানা আবদুল কাদির,বাংলাদেশ খেলাফত মজলিশ যুক্তরাজ্যের সহ সভাপতি আলহাজ মাওলানা আতাউর রহমান,জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম ইউ কে’র সহ সভাপতি মাওলানা সৈয়দ তামিম আহমদ, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিশ যুক্তরাজ্যের সহ সভাপতি মাওলানা শাহনূর আহমদ,খেলাফত মজলিশ যুক্তরাজ্যের সহ সাধারণ সম্পাদক হাফিজ মাওলানা আবদুল করীম,জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম ইউরোপের যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা মামনূন মহিউদ্দিন,জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম ইউকে’র জয়েন্ট সেক্রেটারি মাওলানা আখতারুজ্জামান,জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম ইউরোপের সহ সাধারণ সম্পাদক মাওলানা আবদুল বাসিত,লন্ডন মহানগর হেফাজতে ইসলামের সভাপতি মাওলানা ইমদাদুর রহমান মাদানী,যুক্তরাজ্য খেলাফত মজলিসের নির্বাহী পরিষদ সদস্য মাওলানা আবদুল আহাদ ও কওমি সলিডারিটি অ্যালায়েন্সের সমন্বয়ক মাওলানা আনিসুর রহমান প্রমুখ উলামায়ে করাম।
সভায় বাংলাদেশের চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও রাজনৈতিক মেরূকরণ বিশ্লেষণ করে বলা হয়, আগামী দিনের রাষ্ট্র ও সরকার গঠনে ইসলামী দলগুলোকে প্রাসঙ্গিকতা অর্জনের জন্য সম্মিলিত ইসলামী জোট গঠন করে বিকল্প তৃতীয় শক্তি হিসেবে গড়ে তুলতে হবে।
সভায় এজন্য স্বল্প এবং দীর্ঘমেয়াদি রাজনৈতিক কর্মকৌশল গ্রহণ অপরিহার্য বলে অভিমত ব্যক্ত করেন তাঁরা।
উপস্থিত উলামায়ে কেরাম বলেন, স্বল্প মেয়াদি কৌশল হলো, আগামী নির্বাচনের জন্য সারাদেশে ইসলামী দলসমূহকে ‘এক ক্যানিডিডেইট এক বাক্স’নীতির সুদৃঢ় ঐক্য গড়ে তুলতে হবে। আর দীর্ঘ মেয়াদি কৌশল হলো, জাতীয় পর্যায়ে পলিসি মেকিংয়ের তৃতীয় শক্তি হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে সুদৃঢ় অঙ্গীকার নিয়ে জাতীয় ভিত্তিক ঐক্যবদ্ধ কর্মসূচি প্রণয়ন করা।
সভায় বাংলাদেশের উলামায়ে কেরাম এবং ইসলামী নেতৃত্বের বিবেচনা ও এ ব্যাপারে আশু সিদ্বান্ত গ্রহণের আহ্বান জানিয়ে কয়েকটি প্রস্তাব গৃহীত হয়।
প্রস্তাবে বলা হয়:
১. অবিলম্বে সকল ইসলামী দলগুলোর আনুষ্ঠানিক ঐক্যের ঘোষণা ও একত্রে প্রোগ্রাম ঘোষণা।
২. অবিলম্বে ‘এক বাক্স এক ক্যান্ডিডেইট ‘নীতিতে আনুষ্ঠানিক ঐকমত্য এবং এর জন্য সমঝোতা ভিত্তিক এলাকাও প্রার্থী নির্ধারণ করা।
৩. বিভাগীয় ও জেলা ভিত্তিক সম্মিলিত সমাবেশ ও কর্মসূচি পালন করা।
৪. কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় সমন্বয় কমিটি করা।
৫. স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব রক্ষায় দৃঢ় অবস্থান ঘোষণা, ফ্যাসিবাদের বিচার, ন্যায় বিচার ও সুশাসন প্রতিষ্ঠা, অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন,সংবিধান থেকে বহুত্ববাদের প্রস্তাব প্রত্যাহার ও মহান আল্লাহর প্রতি অবিচল আস্থা ও বিশ্বাস প্রতিস্থাপন ও ব্লাসফ্যামীর জন্য শাস্তির বিধান অন্তর্ভুক্তির দাবিতে দেশ ব্যাপী সম্মিলিত জনসভা করা।
৬. বড় কোনো সেক্যুলার বা সেমি সেক্যুলার জোটের সাথে না যাওয়া।
৭. নিছক সংসদদের কয়েকটি আসন এবং সাময়িক ক্ষমতাকে লক্ষ্য না করে বৃহত্তর ইসলামী শক্তিজোট গড়ে তোলে জাতীয়ভাবে অপরিহার্য স্বতন্ত্র শক্তি হিসেবে আত্মপ্রকাশের লক্ষ্যে দীর্ঘমেয়াদি পলিসিতে ঐকমত্যে পৌঁছা




