Home বিশ্ব ইরানের শীর্ষ বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা: ইসরায়েলি F-35 ভূপাতিত করা বাভার ৩৭৩ কতটা...

ইরানের শীর্ষ বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা: ইসরায়েলি F-35 ভূপাতিত করা বাভার ৩৭৩ কতটা কার্যকর?

109
0

ইরানের বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার আওতায় অত্যাধুনিক বাভার ৩৭৩ সিস্টেম দিয়ে ইসরায়েলের তিনটি F-35 স্টেলথ যুদ্ধবিমান গুলি করে ভূপাতিত করার দাবি ঘিরে বিশ্বজুড়ে তীব্র আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে। ইরানি রাষ্ট্রীয় মিডিয়ার দাবি অনুযায়ী, এর মধ্যে দুইজন ইসরায়েলি পাইলটকে জীবিত অবস্থায় আটক করা হয়েছে, যা সত্য হলে পঞ্চম প্রজন্মের যুদ্ধবিমানের বিরুদ্ধে ইতিহাসে প্রথম সফল হামলা হবে।

বাভার ৩৭৩ সিস্টেম নিয়ে ইরান সরকারের দেওয়া তথ্যমতে, এটি ইরানের সামগ্রিক বিমান প্রতিরক্ষা নেটওয়ার্কের কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে কাজ করছে। এই নেটওয়ার্কে রয়েছে আরও রাশিয়ান Rezonans-NE রাডার, পুরনো S-200 সিস্টেম এবং অন্যান্য পরিপূরক অস্ত্র। যদিও এই সিস্টেম এককভাবে কাজ করে না, তবুও বিশেষজ্ঞদের মতে এটি ইরানের আকাশ প্রতিরক্ষার মেরুদণ্ড।

বাভার ৩৭৩-এর উন্নয়ন শুরু হয় ২০১০ সালের পর, যখন পশ্চিমা চাপে রাশিয়া S-300PMU-1 সরবরাহ বাতিল করে। এরপর ২০১৬ সালে প্রথম প্রোটোটাইপ প্রকাশ্যে আনা হয়, যার পাল্লা ছিল ২০০ কিলোমিটার। কিন্তু সে সময় এটি কতটা কার্যকর তা নিয়ে যথেষ্ট সংশয় ছিল।

পরবর্তীতে ইরান রাশিয়ার কাছ থেকে উন্নত S-300PMU-2 সংগ্রহ করে এবং গোপনে উত্তর কোরিয়া ও রাশিয়ার প্রযুক্তিগত সহায়তায় বাভার ৩৭৩ আধুনিকায়ন করে। ২০২১ সালে প্রকাশিত নতুন সংস্করণে বলা হয়, এটি রাশিয়ার অত্যাধুনিক S-400-এরও উপরে পারফর্ম করতে সক্ষম। এতে একসাথে ৩০০ টার্গেট শনাক্ত ও ৬০টি লক্ষ্য অনুসরণ করার সক্ষমতা ছিল।

২০২৪ সালের ১৭ এপ্রিল নতুন সংস্করণে যুক্ত হয় সায়্যাদ-৪বি (Sayyad 4B) নামক কঠিন জ্বালানিভিত্তিক মিসাইল, যার পাল্লা ৩০০ কিলোমিটার। পূর্ববর্তী সংস্করণে যেখানে রাডারের শনাক্ত করার ক্ষমতা ছিল ২৬০ কিলোমিটার, সেখানে প্রশ্ন উঠেছে নতুন সংস্করণে হয়তো আরও উন্নত রাডার বা বাইরের উৎস থেকে টার্গেটিং তথ্য নেওয়ার ব্যবস্থা রয়েছে।

২০২৪ সালের অক্টোবর মাসে খবর আসে, ইসরায়েলি মিসাইল প্রতিহত করতে ব্যবহৃত হয় এই নতুন সিস্টেম, যার পাল্লা ছিল ১০০ কিলোমিটার ছাড়িয়ে। ফলে মনে করা হচ্ছে, এটি যুদ্ধক্ষেত্রে সফলভাবে ব্যবহৃত হয়েছে।

পড়ুনঃ  তুরস্কের জন্য গোপনে দরজা খুলছে ইইউ

যদিও প্রযুক্তিগত দিক দিয়ে ইরান এখনও রাশিয়া, চীন বা উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে সমকক্ষ নয়, কিন্তু সামগ্রিক প্রতিরক্ষা কাঠামোর অংশ হিসেবে বাভার ৩৭৩ অত্যন্ত কার্যকর একটি অস্ত্র হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে। বিশেষ করে যদি এটি সত্যিই ইসরায়েলের F-35 যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করে থাকে, তবে সেটি বিশ্বে স্টেলথ প্রযুক্তির যুগে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করবে।

সূত্র: মিলিটারি ওয়াচ ম্যাগাজিন, ১৫ জুন ২০২৫
MilitaryWatchMagazine.com

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here