— সিরাজুল ইসলাম শাহীন।
প্রধান উপদেষ্টা ডঃ মুহাম্মদ ইউনুস লন্ডন সফর করে গেলেন। রাজা চার্লস (৩য়) প্রদত্ত সম্মানজনক ” হারমনি এওয়ার্ড ২০২৫” গ্রহণ ছাড়াও বিএনপি প্রধানের সাথে সফল বৈঠক ছিল বড় অর্জন। অন্যদিকে মূদ্রার ওপর পিঠ দুঃখজনক, বিভ্রান্তিকর ও রহস্যজনক। অনাকাঙ্খিত এমন তেলেসমাতি কেন ও কার স্বার্থে ? জুলাই বিপ্লব ব্যর্থ করতে নিরলস প্রয়াসরত ক্রীড়নক গোষ্ঠীর সফল অভিযান নয়তো ?
যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রীর সাথে কাঙ্খিত বৈঠক হয়নি। প্রবাসী কমিউনিটির অনুষ্টিতব্য সম্বর্ধনা অনুষ্টান আকস্মিক বাতিল হয়। উদ্যোগ নেয়া আর বাতিল হওয়া দুটোই রহস্যে ঘেরা। পরিকল্পিতভাবে ডঃ ইউনুসকে জনগনের কাছে আসতে দেয়া হয়নি। থিঙ্ক ট্যাংক ” চাটাম হাউস ” এর অনুষ্ঠানে চিহ্নিত আওয়ামী মহলের একচেটিয়া উপস্থিতি প্রকৃতপক্ষে ভয়ানক। আরো বাজে যে কোন ঘটনা ঘটে যেতে পারত। পার্লামেন্ট ভবনে অনুষ্টিত কিছু অনুষ্টান ছিল রীতিমত অপমানজনক। মিট এন্ড গ্রিটের নামে আয়োজন ছিল কমিউনিটির সাথে তামাশার শামিল। জুলাই বিপ্লবী ব্যানারে তথাকথিত পরিচয় পর্বটি যেন একদম হাস্যকর ছেলেখেলা। জনাব তারেক রহমানের সাথে বৈঠকের পর অহেতুক যৌথ প্রেস ব্রিফিং দরকার ছিল না। বিদেশে বসে ঐতিহ্য লঙ্ঘন করে অভ্যন্তরীন রাজনৈতিক বিষয়ে সরকারি বক্তব্য পেশ অনেক বড় ভুল। সাফল্য প্রস্ফুটিত করার বদলে বিতর্কিত ও ব্যর্থ করতেই যেন কলকাঠি নাড়া হয়েছে। রাষ্ট্রীয় ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন হয়েছে। ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে বাংলাদেশী কমিউনিটিতে। এই হ-য-ব-র-ল অবস্থার দায় সংশ্লিষ্টরা এড়াতে পারেন না। উচ্চ পর্যায়ে তদন্ত পূর্বক দূর্বলতা সনাক্ত করে দোষীদের বিরুদ্বে কঠোর ব্যাবস্থা নিতে হবে।
দেখতে হবে সফরের আগে যুক্তরাজ্যের উপর মহলে যোগাযোগ যথাযথ হয়েছিল কি না ? এ জন্য পররাষ্ট্র উপদেষ্টা ও তার টীমকে দায় নিতে হবে। সফরসূচি নির্ধারণে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্তদের ভূমিকা অবশ্যই প্রশ্নবোধক। আয়োজনের মূল দায়িত্ব থাকে হাইকমিশনের। কমিউনিটির সংশ্লিষ্ট সক্ষম অনেক দায়িত্বশীল এবং বিপ্লবের পক্ষের মূল সংগঠকদের সৌজন্য কলটা পর্যন্ত করা হয় নি। পরামর্শ ও সহযোগিতা চাওয়া বা নেয়াতো বহুদূর। অনভিজ্ঞ দু ‘একজনকে সামনে দিয়ে পিছন থেকে বিষয়টি আরো বিতর্কিত করা হয়েছে। ফ্যাসিবাদী হায়েনাদের পূর্ব প্রস্তুতি জেনেও এড়িয়ে যাওয়া সাৰোটাইজের সমান। বিভিন্ন ভেন্যুতে ওদের লম্ফোজম্প দেখে মনে হয়েছে ইচ্ছা করে ওয়াকওভার দেয়া হয়েছে। খামখেয়ালী ও সঠিক প্রস্তুতির অভাবে খুনী বাহিনী আস্কারা পেয়ে গেল। কারন এসব নিয়ে কোন মাথা ব্যাথা ছিল না। অথচ আলতাব আলী পার্কে স্বতঃস্ফূর্ত প্রবাসীদের জনস্রোত ইতিহাস তৈরী করেছে। কিন্তু সেই জনতার সামনে কোন প্রতিনিধি পর্যন্ত আসেন নি। এর মূল আয়োজকদের মুল্যায়ন দূরের কথা, কোন খোঁজ নেয়ার প্রয়োজন মনে করা হয়নি। সবকিছুর জন্য বিতর্কিত হাইকমিশনার ও সরকারে ঘাপটি মেরে থাকা আওয়ামী লেসপেন্সারদের দুরভিসন্ধি এবং সংশ্লিষ্টদের অনভিজ্ঞতা ও ব্যার্থতা দিবালোকের মত স্পষ্ট।
প্রবাসী বাংলাদেশীদের আকাঙ্খা ছিল জাতির দু:সময়ের কান্ডারী নোবেল লরিয়েট ডঃ ইউনুসকে কাছে পাওয়ার। আয়োজন করা সহজ ছিল ইতিহাসের বৃহত্তম সফল এক গণসংবর্ধনার। ব্রিটিশ সমাজে আপন আলোয় উদ্ভাসিত প্রতিভাধর ব্যাক্তিত্বদের উপস্থাপন করা যেত। প্রবাসীদের প্রাণের দাবী ভোটাধিকার, ডুয়েল সিটিজেনশীপ, বিমান ভাড়া, বিমানবন্দরের সার্ভিস এবং হাইকমিশনে প্রবাসীদের সেবার মান সহ দীর্ঘদিনের দাবী সমূহ মনের মত তুলে ধরার সুযোগ ছিল। এসেছিল দাবী আদায়ের এক সুবর্ন মহেন্দ্রক্ষন। এখানে জুলাই বিপ্লবের পক্ষে জাতীয় ঐক্যের অপ্রতিরোধ্যে শক্তির বহিঃপ্রকাশ প্রতিপক্ষের জন্য হতে পারত যথার্থ চপোটাঘাত। কতিপয় কর্মকর্তাদের উদাসীনতা, অদক্ষতা ও হীনকুটকৌশলের কাছে যা অধরা রয়ে গেল। কমিউনিটির নেতৃস্থানীয়রা এই ব্যার্থতায় একেবারে দায়মুক্ত নয়। ” ব্যক্তির চেয়ে দল বড়, দলের চেয়ে দেশ বড় ” এই মন্ত্রের বাস্তব নমুনা দেখিয়ে সময়মত নেতৃত্ব দিতে হয়।
সরকারের প্রধান নির্বাহীর সফর নিয়ে এই চিত্র থেকে রাষ্ট্রের বর্তমান হাল হকিকত ধারনা করা যায়। সকলকে সচেতন হতে হবে। সময়ের কাজ সময়ে না করলে কেউ রেহাই পাবেন না।
মহান আল্লাহতায়ালা প্রানপ্রিয় দেশবাসী ও আত্মার ঠিকানা স্বদেশভূমি হেফাজতে রাখুন। আমাদের সকলকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে সর্বোচ্চটুকু উজাড় করে দেয়ার তাওফিক দান করুন। আমিন।।
sirajulislamshaheen@yahoo.com; London 02:15; 18/06/2025.





