Home বিশ্ব নির্ধারিত সময়ের আগেই ইরান থেকে চার মিলিয়ন আফগানকে দ্রুত বিতাড়ন

নির্ধারিত সময়ের আগেই ইরান থেকে চার মিলিয়ন আফগানকে দ্রুত বিতাড়ন

118
0

৭ জুলাই ২০২৫: ইরান সরকার নির্ধারিত সময়সীমার আগেই চার মিলিয়নেরও বেশি আফগান শরণার্থীকে দ্রুত দেশে ফেরত পাঠানোর উদ্যোগ নিয়েছে। দেশটির সরকারের নির্দেশ—যাদের বৈধ কাগজপত্র নেই, তাদের অবিলম্বে ইরান ছাড়তে হবে।

গত এক মাসে প্রায় আড়াই লাখ আফগান নাগরিককে ইরান থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। এর মধ্যে অনেকেই একাকী নারী, যারা এখন তালেবানের শাসনাধীন কঠোর নিষেধাজ্ঞার মুখে পড়েছেন। তালেবানরা নারীদের কাজ, চলাফেরা এমনকি শিক্ষার অধিকারও কঠোরভাবে সীমিত করেছে।

এক নারী, যার নাম এখানে প্রকাশ করা হচ্ছে না, জানান:
“তারা মধ্যরাতে আমাদের ঘর থেকে বের করে দিল। আমি বারবার অনুরোধ করলাম—আমাদের অন্তত দুই দিন সময় দিন, কিন্তু তারা শুনল না। তারা আমাদের আবর্জনার মতো ফেলে দিল।”

আগে ইরান পুরুষ শ্রমিকদের বেশি লক্ষ্যবস্তু করলেও, এবার নারী ও শিশুদেরও জোরপূর্বক ফেরত পাঠানো শুরু হয়েছে। শুধুমাত্র নিমরোজ সীমান্ত দিয়ে মার্চ থেকে মে মাসের মধ্যে শতাধিক একাকী নারীকে আফগানিস্তানে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে।

তীব্র গরম ও পানিশূন্যতার কারণে সীমান্ত পার হতে গিয়ে অনেকেই অসুস্থ হয়ে পড়ছেন। এদের অধিকাংশের কাছেই খাবার, পানি বা সামান্য যাতায়াতের খরচও নেই। বাচ্চাদের সঙ্গে নিয়ে শত শত পরিবার মরুভূমির পথে হাঁটতে বাধ্য হচ্ছেন, যেখানে কোনো আশ্রয় বা সহায়তা নেই।

ফেরত যাওয়া নারীদের অধিকাংশই আফগানিস্তানে কোনো জমি, ঘর বা কাজ পাচ্ছেন না। তালেবান কর্তৃপক্ষ জানিয়ে দিয়েছে—যাদের সঙ্গে কোনো পুরুষ অভিভাবক নেই, তারা সরকারি সহায়তা পাবে না।
সেই নারী আরও বলেন:
“আমি শুধু একটা ছোট্ট ঘর বা একটু কাজ চাইছিলাম। কিন্তু তারা বলল, ‘তুমি নারী, তোমার সঙ্গে কোনো মাহরাম (পুরুষ অভিভাবক) নেই, তুমি অযোগ্য।’”

আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো সীমান্তে সাময়িক সহায়তা দিলেও, দীর্ঘমেয়াদে ফেরত আসা মানুষদের জন্য কোনো টেকসই সমাধান নেই। বাস, ট্রাক বা পায়ে হেঁটে দীর্ঘ পথ পাড়ি দিতে গিয়ে অনেকেই অপমান, গালাগালি ও শারীরিক দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন। প্রচণ্ড গরমে শিশুদের অসুস্থ হওয়া এখন প্রতিদিনের ঘটনা।

পড়ুনঃ  বিক্ষোভকারীদের ‘যৌক্তিক দাবি’ শোনার আশ্বাস দিল ইরান সরকার

জাতিসংঘের অভিবাসন সংস্থা (IOM) জানিয়েছে, ইরানের এই নির্বাসন প্রক্রিয়া এখন আরও জোরদার হয়েছে। অবৈধ আফগানদের জন্য আর কোনো ছাড় দেওয়া হবে না বলেও ইরান সরকার জানিয়ে দিয়েছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই অবস্থা চলতে থাকলে বহু নারী, শিশু ও অসহায় মানুষের জীবন চরম ঝুঁকিতে পড়বে।


উৎস: The Guardian প্রতিবেদন


LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here