ঢাকা, ৭ জুলাই ২০২৫:
হিউম্যান রাইটস সাপোর্ট সোসাইটি (এইচআরএসএস) প্রকাশিত সর্বশেষ প্রতিবেদনে ২০২৫ সালের প্রথম ছয় মাসে বাংলাদেশের মানবাধিকার পরিস্থিতিকে ‘গভীর উদ্বেগজনক’ বলে উল্লেখ করা হয়েছে। স্বৈরাচার শেখ হাসিনার পতনের পর অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ক্ষমতায় এলেও প্রত্যাশিত উন্নতি দেখা যায়নি। বরং পুরনো নিপীড়নের ধারার সঙ্গে যুক্ত হয়েছে নতুন নতুন উদ্বেগ।
রাজনৈতিক সহিংসতা ও হামলা
প্রথম ছয় মাসে দেশে ৫২৯টি রাজনৈতিক সহিংসতার ঘটনায় অন্তত ৭৯ জন নিহত ও ৪১২৪ জন আহত হয়েছেন। এরমধ্যে বিএনপির অন্তর্দ্বন্দ্বে আহত হয়েছেন ২৮৩৪ জন। এই সময় রাজনৈতিক হামলায় আরও ৫৭ জন নিহত হন। পাশাপাশি শতাধিক বাড়ি-ঘর, অফিস, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও যানবাহনে হামলা, অগ্নিসংযোগ ও লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে।
সাংবাদিক নির্যাতন
জানুয়ারি থেকে জুনে ১৫২টি হামলায় ২৫৭ জন সাংবাদিক নির্যাতনের শিকার হন। এরমধ্যে ১১১ জন আহত ও ২০ জন লাঞ্ছনার শিকার হন। রাজধানীতে এক নারী সাংবাদিকের দলবদ্ধ ধর্ষণের ঘটনাও ঘটেছে, যা মানবাধিকার পরিপন্থী এক ভয়াবহ নজির।
গণপিটুনি ও সামাজিক সহিংসতা
গণপিটুনির ঘটনায় ৬৭ জন নিহত ও ১১৯ জন আহত হয়েছেন। সামান্য সন্দেহে জনগণের হাতে আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার প্রবণতা আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে।
নারী ও শিশু নির্যাতন
প্রথম ছয় মাসে ধর্ষণের শিকার হয়েছেন অন্তত ৪৭৬ জন নারী ও শিশু, যাদের ৬০% শিশু। গণধর্ষণের শিকার ১১০ জন। ধর্ষণের পর হত্যা ও আত্মহত্যার ঘটনাও ঘটেছে। পারিবারিক সহিংসতা, যৌতুকের জন্য নির্যাতন এবং শিশু হত্যার ঘটনা ভয়াবহভাবে বেড়েছে।
সীমান্ত পরিস্থিতি
ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) গুলিতে ১৪ জন নিহত ও ২০ জন আহত হয়েছেন। ভারত থেকে বাংলাদেশে জোরপূর্বক পুশইন করা হয়েছে দুই হাজারের বেশি মানুষ। মিয়ানমার সীমান্তেও গোলাগুলি, মর্টারশেল বিস্ফোরণ এবং মাইন বিস্ফোরণে হতাহতের ঘটনা ঘটেছে।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ভূমিকা
বন্দুকযুদ্ধ, হেফাজতে মৃত্যু ও নির্যাতনের ঘটনায় ১৪ জনের মৃত্যুর অভিযোগ পাওয়া গেছে। নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযানে অতিরিক্ত বলপ্রয়োগ, বেআইনি গ্রেফতার এবং নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে।
গ্রেফতার ও মামলা
এই সময় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতাদের নামে ১১৬টি মামলা হয়েছে। গ্রেফতার হয়েছে প্রায় ২৩ হাজার ব্যক্তি, যাদের বেশিরভাগই সাবেক আওয়ামী লীগ সরকারের নেতা-কর্মী।
সংখ্যালঘু ও শ্রমিক নিপীড়ন
শ্রমিক নির্যাতনে ৫৯ জন নিহত ও ৭২০ জন আহত হয়েছেন। সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের উপাসনালয় ও বাড়িঘরে হামলা, অগ্নিসংযোগ ও লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে। মাজারেও হামলা অব্যাহত রয়েছে।
এইচআরএসএস-এর মতে, দেশে মানবাধিকার রক্ষা ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় সরকারের আরও দায়িত্বশীল ভূমিকা প্রয়োজন। মানবাধিকার পরিস্থিতির উন্নয়নে সুশীল সমাজ, গণমাধ্যম, মানবাধিকার সংস্থা ও সকল রাজনৈতিক পক্ষের সম্মিলিত উদ্যোগ জরুরি।





