Home বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মহাবিশ্বের ‘মৃত্যুর দিন’ জানিয়ে দিলেন বিজ্ঞানীরা — পৃথিবীর জন্য সময় যেন এখন...

মহাবিশ্বের ‘মৃত্যুর দিন’ জানিয়ে দিলেন বিজ্ঞানীরা — পৃথিবীর জন্য সময় যেন এখন উল্টো দিকে চলছে

158
0

৯ জুলাই ২০২৫, আন্তর্জাতিক ডেস্ক: মহাবিশ্ব কবে শেষ হবে—এই প্রশ্ন বহুদিন ধরেই মানুষকে ভাবিয়ে তুলেছে। সম্প্রতি বিজ্ঞানীদের এক গবেষণায় উঠে এসেছে এক বিস্ময়কর তথ্য। তাঁদের দাবি, আর সাত বিলিয়ন বছর পর থেকে মহাবিশ্ব ধীরে ধীরে সঙ্কুচিত হতে শুরু করবে। শেষমেশ, সবকিছু গিয়ে মিলবে একটি একক বিন্দুতে। এই ভয়ংকর ঘটনাকে বলা হচ্ছে ‘বিগ ক্রাঞ্চ’, যা যেন বিগ ব্যাংয়ের উল্টো রূপ।

যুক্তরাষ্ট্রের করনেল ইউনিভার্সিটি এবং চীনের সাংহাই জিয়াও টং ইউনিভার্সিটির পদার্থবিদরা যৌথভাবে এই গবেষণা পরিচালনা করেছেন। তাঁরা Dark Energy SurveyDark Energy Spectroscopic Instrument-এর মতো বিভিন্ন জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক জরিপের তথ্য বিশ্লেষণ করে এই তত্ত্ব প্রকাশ করেছেন।

তাঁদের মতে, মহাবিশ্ব এখন তার সর্বোচ্চ প্রসারণে পৌঁছে গেছে। এখন থেকে এটি রাবার ব্যান্ডের মতো ধীরে ধীরে সঙ্কুচিত হবে, এক সময়ে ‘ছিঁড়ে’ যাবে, আর তখনই সবকিছু আবার ফিরে যাবে আদ্যাবস্থায়—যেখানে সময়, স্থান আর বস্তু সবকিছু এক বিন্দুতে লীন হয়ে যাবে।

তবে আতঙ্কের কিছু নেই—এই বিগ ক্রাঞ্চ ঘটতে এখনও প্রায় ৩৪ বিলিয়ন বছর সময় বাকি। তবে তার আগেই পৃথিবীর জন্য সময় শেষ হয়ে যাবে বলেই বিজ্ঞানীদের অনুমান। গবেষণা বলছে, সাত বিলিয়ন বছরের মধ্যে আমাদের সূর্য তার জীবনের শেষ পর্বে প্রবেশ করবে এবং ধ্বংসের আগে পৃথিবীকে সম্পূর্ণ গ্রাস করে নেবে।

এদিকে, এই বিজ্ঞানভিত্তিক ভবিষ্যদ্বাণীর পাশাপাশি ইতিহাস ঘেঁটে আরেকটি চমকপ্রদ তথ্য সামনে এসেছে—সেই ১৭০৪ সালে, বিজ্ঞানী স্যার আইজ্যাক নিউটন নিজের হাতে লেখা একটি চিঠিতে বলেছিলেন, পৃথিবীর শেষ সময় হবে ২০৬০ সালে

নিউটনের সেই চিঠিতে লেখা ছিল:
“১২৬০ দিন মানে তিন বছর ছয় মাস, যদি তা এ.সি. ৮০০ সালে তিনটি রাজ্যের দখল থেকে গোনা হয়, তাহলে এর শেষ হবে ২০৬০ সালে। এটা পরে হতে পারে, কিন্তু এর আগে হওয়ার কোনও কারণ দেখি না।”

পড়ুনঃ  মাত্র ১৫ পাউন্ড দামের ওষুধ আপনার স্মৃতি শক্তি ফিরিয়ে আনবে।

তিনি আরও লিখেছিলেন, “আমি এই তারিখ বলছি না নিশ্চয়তার জন্য, বরং যারা অযথা বারবার পৃথিবীর শেষ নিয়ে ভবিষ্যদ্বাণী করে, তাদের রাশ টানতেই এই বার্তা।”

নিউটন শুধু একজন পদার্থবিদই নন, বরং ধর্মতত্ত্বেও ছিলেন গভীরভাবে অনুরাগী। তিনি বিশ্বাস করতেন বাইবেলের ‘আখিরাত’ বা ‘শেষ সময়’-এর ভবিষ্যদ্বাণীতে। তাঁর মতে, ২০৬০ সালে হবে খ্রিস্টের দ্বিতীয় আগমন, এবং পৃথিবী আবার পরিণত হবে ‘ঈশ্বরের রাজ্যে’।

আজ থেকে লক্ষ কোটি বছর পর মহাবিশ্ব সত্যিই যদি ভেঙে পড়ে, আর মানুষ যদি কোনোভাবে ততদিন টিকে থাকে—তবে এই ‘বিগ ক্রাঞ্চ’-এর মুখোমুখি হতে হবে এক ভয়ংকর পরিণতির। তবে নিউটনের কথাই হয়তো এখানে সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ—
“শেষ দিন কবে, তা জানার অধিকার আমাদের নেই। ঈশ্বরই জানেন কখন সব শেষ হবে।”

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here