ফয়সালাবাদ, পাকিস্তান – স্ক্যাম কল সেন্টারের বিরুদ্ধে পরিচালিত এক বড় আকারের অভিযানে পাকিস্তানের জাতীয় সাইবার অপরাধ তদন্ত সংস্থা (NCCIA) ১৪৯ জনকে গ্রেপ্তার করেছে। বৃহস্পতিবার সংস্থাটি জানিয়েছে, একটি গোপন সূত্রের ভিত্তিতে ফয়সালাবাদ শহরে এই অভিযান চালানো হয়।
NCCIA জানায়, অভিযুক্তরা পনজি স্কিম পরিচালনার মাধ্যমে মানুষকে প্রতারণা করে কোটি কোটি রুপি হাতিয়ে নিচ্ছিল। তারা ভুয়া বিনিয়োগ প্রকল্পের নামে প্রথমে সামান্য লাভ দেখিয়ে পরবর্তীতে বড় অঙ্কের টাকা আদায় করত।
গ্রেপ্তার হওয়া ১৪৯ জনের মধ্যে ৭৮ জন পাকিস্তানি, ৪৮ জন চীনা, ৮ জন নাইজেরিয়ান, ৪ জন ফিলিপিনো, ২ জন শ্রীলঙ্কান, ৬ জন বাংলাদেশি, ২ জন মিয়ানমারের নাগরিক এবং ১ জন জিম্বাবুয়ের নাগরিক রয়েছেন। এদের মধ্যে ১৮ জন নারী।
পুলিশের অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, অভিযুক্তরা হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ ব্যবহার করে সাধারণ মানুষকে বিনিয়োগের জন্য আকৃষ্ট করত। প্রাথমিকভাবে তাদের ছোট ছোট টাস্ক—যেমন টিকটক ও ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করার মতো কাজে নিযুক্ত করা হতো। পরে তাদের টেলিগ্রাম গ্রুপে স্থানান্তর করা হতো, যেখানে বড় অঙ্কের বিনিয়োগে উৎসাহিত করা হতো।
এক পাকিস্তানি নাগরিক মোহাম্মদ সাজিদ BBC উর্দুকে বলেন, তাকে একটি টেলিগ্রাম চ্যানেলে যুক্ত করা হয় যেখানে কয়েক হাজার সদস্য ছিল। তিনি কোম্পানির কার্যক্রম দেখে মুগ্ধ হয়ে ৩১ লাখ ৩৮ হাজার রুপি (প্রায় $৩৬,৬০০) বিভিন্ন কিস্তিতে প্রদান করেন।
মঙ্গলবারের অভিযানে পুলিশ শত শত কম্পিউটার, সার্ভার, ক্রিপ্টোকারেন্সি এক্সচেঞ্জ ও বিদেশি সিম কার্ড জব্দ করেছে।
বুধবার গ্রেপ্তার ১৪৯ জনকে আদালতে তোলা হলে ৮৭ জনকে পাঁচ দিনের শারীরিক রিমান্ডে NCCIA হেফাজতে পাঠানো হয়। বাকি ৬২ জনকে ২৩ জুলাই পর্যন্ত বিচারিক রিমান্ডে জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
সংস্থা আরও জানায়, এই কল সেন্টারটি পরিচালিত হচ্ছিল মালিক তাহসিন আওয়ান নামের একজন ব্যক্তির বাসভবন থেকে। তিনি ফয়সালাবাদের বিদ্যুৎ বিভাগের সাবেক প্রধান। তবে তাকে এখনও গ্রেপ্তার করা হয়নি।






