ঢাকা, ২০ জুলাই ২০২৫:
গোপালগঞ্জ ও কক্সবাজারে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে হামলা, গুলিবর্ষণ ও প্রাণহানির ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ ও তীব্র নিন্দা জানিয়েছে মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস সাপোর্ট সোসাইটি (HRSS)। সংস্থাটি এক বিবৃতিতে বলেছে, গোপালগঞ্জে যৌথ বাহিনীর গুলিতে পাঁচজন সাধারণ নাগরিকের প্রাণহানি এবং ময়নাতদন্ত ছাড়াই মরদেহ দাফনের ঘটনা দেশের মানবাধিকার, গণতন্ত্র ও আইনের শাসনের জন্য ভয়াবহ হুমকি।
ঘটনা অনুযায়ী, ১৬ জুলাই গোপালগঞ্জ পৌর পার্কে পূর্বঘোষিত ‘জুলাই পদযাত্রা’ কর্মসূচির অংশ হিসেবে এনসিপির সমাবেশ চলাকালে স্থানীয় আওয়ামী লীগ ও নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা ককটেল বিস্ফোরণ ও আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে হামলা চালায়। সংঘর্ষে যৌথ বাহিনীর গুলিতে দীপ্ত সাহা (২৫), রমজান কাজী (১৮), সোহেল মোল্লা (৩৫), ইমন (২৪) ঘটনাস্থলেই নিহত হন এবং রমজান মুন্সী (২৮) ঢাকায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান।
HRSS আরও জানায়, হতাহতদের মধ্যে অনেকে গুলিবিদ্ধ ও মারাত্মক আহত অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি আছেন। নিহতদের দেহ ময়নাতদন্ত ছাড়াই দাফন করা হয়েছে, যা ফৌজদারি বিচার প্রক্রিয়ার গুরুতর লঙ্ঘন এবং প্রমাণ নষ্টের শামিল।
অন্যদিকে, কক্সবাজারের চকরিয়াসহ অন্তত তিনটি উপজেলায় এনসিপির পথসভাগুলোতে প্রশাসনের নীরব ভূমিকার সুযোগে দফায় দফায় হামলা চালিয়ে কর্মসূচি বানচাল করে দেওয়া হয়।
এই প্রেক্ষাপটে HRSS ছয় দফা সুপারিশ তুলে ধরে বলেছে:
১. ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত: একটি স্বাধীন তদন্ত কমিটি গঠন করে হামলাকারীদের পরিচয় ও যৌথ বাহিনীর ভূমিকা বিশদভাবে যাচাই করতে হবে।
২. দোষীদের বিচার: হামলা ও হত্যার সঙ্গে জড়িত আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগ এবং সংশ্লিষ্ট বাহিনীর সদস্যদের চিহ্নিত করে দ্রুত বিচার নিশ্চিত করতে হবে।
৩. আহতদের সহায়তা ও ক্ষতিপূরণ: আহতদের সুচিকিৎসা ও নিহতদের পরিবারকে অর্থনৈতিক সহায়তা দিতে হবে।
৪. বাহিনীর সংস্কার: অতিরিক্ত বলপ্রয়োগ ও বিচারবহির্ভূত হত্যার পুনরাবৃত্তি রোধে প্রশিক্ষণ ও নীতিমালা ঢেলে সাজাতে হবে।
৫. ময়নাতদন্ত আইনি বাধ্যবাধকতা: ময়নাতদন্ত ছাড়া দাফনের জন্য দায়ীদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিতে হবে।
৬. গণতান্ত্রিক অধিকার নিশ্চিতকরণ: মতপ্রকাশ ও শান্তিপূর্ণ সমাবেশের অধিকার রক্ষায় সরকারকে কার্যকর ও দৃঢ় পদক্ষেপ নিতে হবে।
হিউম্যান রাইটস সাপোর্ট সোসাইটি (HRSS) সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে, এই ভয়াবহ ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত করে দোষীদের জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে দৃশ্যমান পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। গণতন্ত্র, মানবাধিকার ও নাগরিক স্বাধীনতা রক্ষায় এখনই কার্যকর উদ্যোগ না নিলে এর পরিণতি হবে ভয়াবহ – এমন সতর্ক বার্তাও দিয়েছে সংস্থাটি।






