Home বাংলাদেশ সাবেক প্রধান বিচারপতি খায়রুল হক গ্রেপ্তার: রাজনৈতিক ভূমিকা ও দুর্নীতির অভিযোগ ঘিরে...

সাবেক প্রধান বিচারপতি খায়রুল হক গ্রেপ্তার: রাজনৈতিক ভূমিকা ও দুর্নীতির অভিযোগ ঘিরে তীব্র বিতর্ক

151
0

ঢাকা, ২৪ জুলাই ২০২৫ – দেশের সাবেক প্রধান বিচারপতি এ. বি. এম. খায়রুল হককে ঢাকায় তার নিজ বাসভবন থেকে গ্রেপ্তার করেছে মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ। বুধবার সকাল আটটার দিকে ধানমন্ডির বাসা থেকে তাকে আটক করা হয়। তার বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ, রায় সংশোধন ও সংবিধান সংশোধনী সংক্রান্ত অনিয়মের অভিযোগে একাধিক মামলা দায়ের করা হয়েছে। গ্রেপ্তারের পরপরই দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়।

খায়রুল হক সবচেয়ে বেশি আলোচনায় আসেন ২০১১ সালে আপিল বিভাগের নেতৃত্বে থেকে ১৩তম সংবিধান সংশোধনীকে বাতিল করে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা অবৈধ ঘোষণা করার রায়ের মাধ্যমে। তার এই রায়ের ফলে দেশে আর কোনো তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়নি। অনেকের মতে, এই সিদ্ধান্ত আওয়ামী লীগ সরকারকে দীর্ঘমেয়াদে ক্ষমতা ধরে রাখার সুযোগ করে দেয় এবং একটি ‘ফ্যাসিস্ট’ শাসনের পথ সুগম করে। বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলো, বিশেষ করে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামী, বরাবরই এই রায়কে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করে এসেছে।

গ্রেপ্তারের সঙ্গে সঙ্গে তার বিরুদ্ধে ঘুষ গ্রহণ, রায় জালিয়াতি এবং সরকারি প্লট বরাদ্দে অনিয়মের অভিযোগ আবার সামনে চলে আসে। আইনজীবী মুজাহিদুল ইসলাম শাহীন সম্প্রতি এক মামলায় অভিযোগ করেন, খায়রুল হক তার ক্ষমতা অপব্যবহার করে একটি গুরুত্বপূর্ণ রায় সংশোধনের মাধ্যমে আর্থিক লাভবান হন এবং একাধিক প্লট জালিয়াতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন। দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) ইতিমধ্যে তাকে আয়কর নথি ও সম্পদের বিবরণ জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে।

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এই গ্রেপ্তারকে ‘বিলম্বিত হলেও সঠিক পদক্ষেপ’ বলে উল্লেখ করেন এবং বলেন যে, যারা বিচার বিভাগকে রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করেছেন, তাদের অবশ্যই জবাবদিহির আওতায় আনা উচিত। জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকেও তীব্র প্রতিক্রিয়া জানানো হয়েছে। দলটির আমির ড. শফিকুর রহমান বলেন, খায়রুল হক শেখ হাসিনার ফ্যাসিবাদী শাসনকে প্রতিষ্ঠিত করার নেপথ্য কারিগর। আজ তার গ্রেপ্তার প্রমাণ করে যে, সত্য একদিন প্রকাশ পেতেই থাকে।

পড়ুনঃ  জামায়াতে যোগদান করলেন সাবেক এমপি ও বীর মুক্তিযোদ্ধা মেজর (অব.) আক্তারুজ্জামান

সরকারের পক্ষ থেকে এখনও কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। তবে সরকারের ঘনিষ্ঠ মহল মনে করে, বিচার বিভাগের স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করতে এই গ্রেপ্তার প্রয়োজনীয় ছিল।

সাবেক প্রধান বিচারপতির গ্রেপ্তার এবং তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ বাংলাদেশের বিচার ও রাজনৈতিক ব্যবস্থার নৈতিক ভিত্তি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে। অনেকেই বলছেন, এই ঘটনা দেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা এবং বিচার বিভাগের নিরপেক্ষতা পুনরুদ্ধারের জন্য একটি পরীক্ষা হিসেবে বিবেচিত হবে। এখন দেখার বিষয়, এই মামলাগুলোর তদন্ত কতটা স্বাধীন ও নিরপেক্ষভাবে সম্পন্ন হয়, এবং সত্যিই কি দেশের জনগণ বিচার পায়, নাকি এটি কেবল রাজনৈতিক পাল্টা আঘাতের অংশ হয়ে থাকবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here