আজ শনিবার (২৬ জুলাই ২০২৫) ঢাকার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর মোজাফফর আহমেদ চৌধুরী মিলনায়তনে মানবাধিকার সুরক্ষা ও সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে Human Rights Support Society (HRSS)-এর আয়োজনে অনুষ্ঠিত হলো ১১তম মানবাধিকার সম্মেলন–২০২৫। “Restore Human Rights, Rebuild the Society” প্রতিপাদ্য নিয়ে সকাল ৯টা থেকে দুপুর ১টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত চলা এই সম্মেলনে ব্যক্তি-স্বাধীনতা, মতপ্রকাশের অধিকার, গুম, খুন, বিচারবহির্ভূত হত্যা, নারী নির্যাতন এবং রাষ্ট্রের জবাবদিহিতাসহ মানবাধিকারের নানা গুরুত্বপূর্ণ দিক নিয়ে আলোচনা করা হয়।
সম্মেলনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মাননীয় উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল। তিনি বলেন, মানবাধিকার কার্যকর করা যত সহজ মনে হয়, বাস্তবে তা বাস্তবায়ন করা ততটাই কঠিন। তিনি ইউরোপের অভ্যন্তরীণ মানবাধিকার বাস্তবায়নের প্রসঙ্গ টেনে বলেন, বিশ্বব্যাপী মানবাধিকার লঙ্ঘনের চিত্র আরও ভয়াবহ, যার পেছনে কখনও সেই শক্তিরই ভূমিকা থাকে। ১৯৭২ সালের সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রের তিনটি অঙ্গ—নির্বাহী, আইনসভা ও বিচার বিভাগ—সংস্কার না করলে মানবাধিকার রক্ষা করা সম্ভব নয় বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর সহযোগী অধ্যাপক সাইফুদ্দিন আহমেদ, আইন অনুষদের ডিন ড. মোহাম্মদ একরামুল হক, ব্লাস্টের নির্বাহী পরিচালক ব্যারিস্টার সারা হোসেন, মানবাধিকার কর্মী ও HRSS-এর প্রধান উপদেষ্টা নূর খান এবং UNRCO বাংলাদেশের সিনিয়র হিউম্যান রাইটস অ্যাডভাইজার হুমা খান।
সম্মেলনে শহীদ পরিবারের সদস্য, গুমের শিকার ভিকটিম সদস্য, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, মানবাধিকার সংগঠনের প্রতিনিধি ও গণমাধ্যমকর্মীরা অংশ নেন। শহীদ সামিউ আমান নূরের স্ত্রী বন আফরিন আমান, শহীদ নাইমা সুলতানের মা আইনুন নাহার এবং শহীদ শাহরিয়ার খানের মা সানজিদা খান দীপ্তি তাদের প্রিয়জন হারানোর করুণ বর্ণনা তুলে ধরে হত্যার বিচার দাবি করেন।

গুম থেকে ফিরে আসা ব্যারিস্টার আহমাদ বিন কাসেম আরমান এবং মাইকেল চাকমা তাদের ভয়ানক অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেন। মাইকেল বলেন, তাঁকে গুম করার ফলে তাঁর পরিবার ধ্বংস হয়ে যায়, বাবার মৃত্যু ঘটে, এবং তাঁকে মৃত ভেবে শেষকৃত্যও সম্পন্ন করা হয়েছিল।
ব্যারিস্টার সারা হোসেন বলেন, নাগরিক অধিকার রক্ষার জন্য গুম হওয়া মাইকেল চাকমা ও ব্যারিস্টার আরমানসহ অনেকে তাদের জীবন দিয়েছে। তিনি বলেন, মানবাধিকার লঙ্ঘন আজো অস্বীকার করা হচ্ছে, যা খুবই উদ্বেগজনক।
শহীদ শাহরিয়ারের মা বলেন, দেশের প্রতিরক্ষা বাহিনীই তাঁর সন্তানের ঘাতক হয়েছে, ট্যাক্সের টাকায় কেনা গুলিতে তিনি সন্তান হারিয়েছেন।
সম্মেলনের শুরুতে HRSS-এর নির্বাহী পরিচালক ইজাজুল ইসলাম বলেন, শিক্ষার্থীদের মাঝে মানবাধিকার চর্চা প্রসার ও নেতৃত্ব তৈরির লক্ষ্যে কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি বিচারবহির্ভূত হত্যা ও গুমের ঘটনাগুলো অনুসন্ধান ও রিপোর্ট আকারে প্রকাশ করে সরকারকে নীতিগত প্রস্তাব দেওয়া হচ্ছে।
এ বছর HRSS দেশের প্রথম মানবাধিকার অলিম্পিয়াড আয়োজন করে, যেখানে বিজয়ী ১০ জনকে সম্মাননা দেওয়া হয়।
সমাপনী বক্তব্যে HRSS-এর চেয়ারপারসন ব্যারিস্টার শাহজাদা আল-আমীন কবীর (সোহেল) বলেন, মানবাধিকার রক্ষায় সকলকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করতে হবে এবং আগামী দিনে এই আন্দোলনকে আরও শক্তিশালী করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।







