Home মতামত জামায়াত ক্ষমা চাক; এ দাবি জনগনের, না প্রতিপক্ষের ?

জামায়াত ক্ষমা চাক; এ দাবি জনগনের, না প্রতিপক্ষের ?

89
0

— সিরাজুল ইসলাম শাহীন।

শাহ আজিজুর রহমান মুক্তিযুদ্বের বিরুদ্বে পাক সরকারের জাতিসংঘে প্রেরিত প্রতিনিধি দলের নেতা ছিলেন। তিনি বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হয়েছিলেন। আব্দুর রহমান বিশ্বাস বরিশালে শান্তি কমিটির নেতা ছিলেন। বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি হিসেব প্রথম পূর্ন মেয়াদ পূরণ করতে পেরেছিলেন। বিএনপির অন্যতম প্রতিষ্টাতা মশিউর রহমান যাদু মিয়া প্রধানমন্ত্রীর মর্যাদায় মন্ত্রী সভার সদস্য ছিলেন। রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের কেবিনেটে মন্ত্রী চট্রগ্রামের মাহমুদুন্নবী চৌধুরী যিনি আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর পিতা। বৃহত্তর সিলেট বিএনপির প্রতিস্টাতা সভাপতি শহীদ আলী এডভোকেট, সিলেট জেলা বারের ১৯৭৩ ও ১৯৭৪ সালে পরপর নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট। সাবেক মন্ত্রী ও ভোলার প্রভাবশালী পরিবারের সন্তান মোশাররফ হোসেন শাজাহান, যাকে প্রেসিডেন্ট জিয়া সরাসরি ফোন করে বিএনপিতে যোগদান করিয়েছিলেন। ঠাকুরগার মির্জা রুহুল আমিন বিএনপির প্রভাবশালী নেতা ছিলেন যিনি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের পিতা।

কলেবর বৃদ্বি না করতে আপাতত এখানেই ক্ষান্ত দিলাম। এরা প্রত্যেকেই ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্বের বিরুদ্বে গুরত্বপূর্ন রাজনৈতিক ভূমিকা রেখেছিলেন। পরবর্তীতে স্বাধীন বাংলাদেশে রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব পালন করে সসম্মানে দুনিয়া থেকে বিদায় নিয়েছেন। তারা কি কখনো ক্ষমা চেয়েছিলেন ? শুধু তাই নয়, জীবিত থাকাকালীন তাদের ক্ষমা চাওয়ার দাবিও তোলা হয়নি। অর্থাৎ এ বয়ানটি আরো পরের আবিষ্কার। ১৯৯১ সালের আগে চেতনাবাজদের তা মনেই ছিলনা। এরশাদ পতনের প্রেক্ষাপটে ভারতীয় তাবেদার সরকার গঠনে ব্যর্থ হওয়ায় দাদা বাবুদের ঘুম ভাঙে। জামায়াতের এককভাবে নির্বাচিত ১৮জন সংসদ সদস্য বিএনপিকে নিঃশর্ত সমর্থন দেয়ায় আক্রোশ গিয়ে পড়ে দলটির উপর। গঠিত হয় শাহবাগীর আঁতুরঘর ঘাদানিক। সামনে আনা হয় জাতির কাছে ক্ষমা চাওয়া, গন আদালত, বিচার ইত্যাদি বিষয়। যার ধারাবাহিকতায় পরবর্তীতে ট্রাইব্যুনাল কেলেঙ্কারি ঘটিয়ে হত্যা করা হয় এক ডজন জাতীয় নেতাকে।

শহীদ আমীরে জামায়াত মাওলানা মতিউর রহমান নিজামী বিপুল ভোটে দুইবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন । জামায়াত নায়েবে আমীর শহীদ আল্লামা দেলোয়ার হোসেইন সাঈদী দুইবারই তুখোড় পার্লামেন্টারিয়ান বাবু সুধাংশু শেখর হালদারকে হারিয়ে নির্বাচিত হয়েছিলেন। ১৯৭৯ সালের পর থেকে সকল সংসদে জামায়াতের নেতারা নির্বাচিত হয়ে এসেছিলেন। তাদের এলাকার জনগণ ভোট দেয়ার আগে ক্ষমা চেয়ে আসতে বলেনি। তাহলে জামায়াত ক্ষমা চাওয়ার দাবিটি জনগনের নয়। জনগনের নামে চালিয়ে দেয়া প্রতিপক্ষের আমদানিকৃত রাজনৈতিক অস্ত্র। কারো কারো ক্ষেত্রে দেখা দেখি হিতাহিত বুদ্বিশূন্য মুখস্ত বুলি আওড়ানো ছাড়া আর কিছু নয়।

পড়ুনঃ  আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে দেড় কোটি প্রবাসীদের ভোটাধিকার নিশ্চিত করুনব্যারিস্টার নাজির আহমদ

পৃথিবীর ইতিহাসে প্রতিটি রাষ্ট্রীয় বিভক্তি বা স্বাধীনতার সকল আন্দোলন ও লড়াইয়ে পক্ষে বিপক্ষে রাজনৈতিক অবস্থান হচ্ছে রূঢ় বাস্তবতা।স্কটল্যান্ড, আয়ারল্যান্ড, হংকং এমনকি ১৯৪৭ সালে ভারতবর্ষে তা ছিল। কিন্তু ঘোষনা চূড়ান্ত হওয়ার পরে নিজ দেশে স্বাধীনতা বিরোধী অপবাদ দিয়ে রাজনীতি করা হয় না। ব্যাতিক্রম বাংলাদেশ। কারন অন্যতম কারিগরের গোপন স্বপ্ন বেহাত হওয়ার ভয়ে অগ্রগতির চাবিকাঠি জাতীয় ঐক্য বিনষ্টের বীজ বুনা হয়। আজ অবদি এর ফসল তোলা হচ্ছে। টুকু সাহেবরা বিএনপি নেতা হলেও ওই বিষাক্ত গাছের ফল বৈকি !

বিএনপি স্থায়ী কমিটি সদস্য ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু তাই বলতে পেরেছেন , ” ১৯৭১ সালের অপকর্মের জন্য জামায়াত আগে ক্ষমা চাক ”
অথচ সাড়ে ৯ মাসের মুক্তিযুদ্বকালীন কোন একটি অপরাধের সাথে জামায়াতের নেতা কর্মীর সংশ্লিষ্টতার কোন একটিও প্রমান বিগত ৫৪ বছরে খুঁজে পাওয়া যায়নি। এজন্যই বিগত ফ্যাসিবাদী আমলে ভুয়া মামলা সাজিয়ে ভুয়া স্বাক্ষী দিয়ে দলীয় বিচারপতিদের মাধমে ইতিহাসের জঘন্যতম অবিচার সংগঠিত করতে হয়েছে। জুলাই বিপ্লব উত্তর জাতীয় রাজনীতিতে আবারো ট্যাগের এই অপরাজনীতির পুনরাবির্ভাব জাতি মেনে নিতে পারে না।

তবে প্রতিপক্ষ যে অস্ত্র ব্যাবহার করে তা প্রতিহতের কৌশল আরো আধুনিক হতে হয়। এ দৃষ্টি ভঙ্গিতে জামায়াত ১৯৭১ প্রসঙ্গটি হয়তো এখন স্মার্টলি মোকাবেলা করতে পারে। তা ভিন্ন প্রসঙ্গ। কিন্তু বিএনপি এই আওয়ামী স্লোগানে রাজনীতি করতে গিয়ে নিজেদের আরো লেজেগোবরে করা ছাড়া কোন ফায়দা হাসিলের সুযোগ নেই।

sirajulislamshaheen@yahoo.com; London 00.50; 26/07/2025.

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here