— HRSS-এর তীব্র নিন্দা ও শাস্তির দাবি
রংপুর জেলার গঙ্গাচড়া উপজেলার বেতগাড়ী ইউনিয়নের আলদাদপুর বালাপাড়া গ্রামে ধর্ম অবমাননার অভিযোগকে কেন্দ্র করে এক কিশোরকে গ্রেপ্তার করার পর সহিংস পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কিশোরটির বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একটি ধর্মীয় পোস্টের অভিযোগ ওঠে। এরই জেরে গতকাল রাতে উগ্র ও উত্তেজিত জনতা সংখ্যালঘু হিন্দু সম্প্রদায়ের অন্তত ১৫টি বাড়িতে পরিকল্পিত ও বর্বরোচিত হামলা চালায়।
এই হামলায় ঘরবাড়ি ভাঙচুর, লুটপাট এবং আতঙ্ক ছড়িয়ে বহু পরিবারকে এলাকা ছাড়তে বাধ্য করা হয়েছে। ঘটনার পরপরই স্থানীয় প্রশাসন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করে, তবে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ ইতোমধ্যেই উদ্বেগজনক।
এই ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে হিউম্যান রাইটস সাপোর্ট সোসাইটি (HRSS)। আজ এক লিখিত বিবৃতিতে সংগঠনটির নির্বাহী পরিচালক ইজাজুল ইসলাম বলেন, “এটি শুধু একটি সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর হামলা নয়, বরং এটি দেশের সংবিধান, ধর্মীয় সহাবস্থান এবং মানবাধিকারের চরম লঙ্ঘন। ফেসবুকে কোনো পোস্টকে কেন্দ্র করে গোষ্ঠীগত প্রতিশোধ গ্রহণ অগ্রহণযোগ্য।”
সংগঠনটি এই ঘটনায় চার দফা দাবি উত্থাপন করেছে:
১. একটি স্বাধীন ও নিরপেক্ষ তদন্ত পরিচালনা করা
২. ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পূর্ণ পুনর্বাসন নিশ্চিত করা
৩. উসকানিদাতা ও হামলাকারীদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেওয়া
৪. ভবিষ্যতে এমন ঘটনা রোধে প্রশাসনিক ও সামাজিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা
বিবৃতিতে HRSS সকল ধর্ম ও সম্প্রদায়ের মানুষের নিরাপত্তা ও মর্যাদা রক্ষায় সরকারের কার্যকর হস্তক্ষেপ কামনা করেছে এবং দেশের সকল নাগরিককে আইন ও সহনশীলতার প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকার আহ্বান জানিয়েছে।
এ বিষয়ে স্থানীয় প্রশাসনের একাধিক কর্মকর্তা যোগাযোগে থাকলেও বিস্তারিত মন্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর অতিরিক্ত সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে এবং পরিস্থিতি স্থিতিশীল রাখতে নজরদারি চালানো হচ্ছে বলে জানা গেছে।
মানবাধিকারের এই চরম লঙ্ঘনকে কেন্দ্র করে রংপুরসহ সারাদেশে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। সংশ্লিষ্ট মহলের দাবী, দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপের মধ্য দিয়েই সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের আস্থা পুনরুদ্ধার সম্ভব।
[শেষ]





