Home Uncategorised বাংলাদেশের মানবাধিকার পরিস্থিতি-জুলাই ২০২৫

বাংলাদেশের মানবাধিকার পরিস্থিতি-জুলাই ২০২৫

167
0

‘এইচআরএসএস’ এর মাসিক মানবাধিকার পর্যবেক্ষণ প্রতিবেদন ।

২০২৫ সালের জুলাই মাসের মানবাধিকার পরিস্থিতি ছিলো উদ্বেগজনক। ১৬ জুলাই, ২০২৫ তারিখে গোপালগঞ্জে এনসিপির ‘জুলাই পদযাত্রা’ কর্মসূচি কেন্দ্রিক স্থানীয় আওয়ামী লীগ ও নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের সাথে যৌথ বাহিনীর সংঘর্ষে ও গুলিতে ৫ জন নিহত এবং শতাধিক আহত হয়েছেন। এই ঘটনায় মামলা ও গ্রেফতার আতঙ্কে অনেক এলাকা পুরুষ শূণ্য হয়ে পড়েছে। নিহতদের মরদেহ ময়নাতদন্ত ছাড়াই দাফন করা হয়েছে। একইদিনে গোপালগঞ্জের পৌর পার্কে এনসিপির কর্মসূচি ভণ্ডুল করতে স্থানীয় আওয়ামী লীগ ও নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের দ্বারা হামলা, ভাঙচুর, ককটেল বিস্ফোরণ এবং আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহারের ঘটনা ঘটে। রংপুরে ধর্ম অবমাননার অভিযোগে এক কিশোরকে গ্রেপ্তারের পর উগ্র-উত্তেজিত জনতা সংগঠিতভাবে সংখ্যালঘু হিন্দু সম্প্রদায়ের অন্তত ২০ টি বাড়িতে বর্বরোচিত হামলা চালিয়েছে। এই হামলায় বাড়িঘর ভাঙচুর, লুটপাট এবং বহু পরিবারকে আতঙ্কিত করে এলাকা ত্যাগে বাধ্য করার ঘটনা ঘটেছে। পুরান ঢাকার স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের (মিডফোর্ড) সামনে ৯ জুলাই ২০২৫ তারিখে জনসম্মুখে ব্যবসায়ী মোঃ সোহাগকে যেভাবে নির্মমভাবে পিটিয়ে, কুপিয়ে এবং শরীর থেঁতলে হত্যা করা হয়েছে—যা অত্যন্ত দুঃখজনক, লজ্জাজনক এবং উদ্বেগজনক। গত ২১ জুলাই ঢাকার উত্তরা এলাকায় অবস্থিত মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজে বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর একটি যুদ্ধ প্রশিক্ষণ বিমান বিধ্বস্ত হয়ে মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটেছে। এই ঘটনায় এখন পর্যন্ত পাইলটসহ ৩৪ জন নিহত এবং দেড় শতাধিক মানুষ গুরুতর আহত হয়েছেন, যাদের অধিকাংশই শিশু শিক্ষার্থী।
২০২৫ সালের জুলাই মাসের মানবাধিকার পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে দেখা যায় যে, রাজনৈতিক সহিংসতায় মৃত্যু, গণপিটুনিতে নির্যাতন ও হত্যা, সংখ্যালঘু নির্যাতন এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হেফাজতে, ও গুলিতে মৃত্যু বৃদ্ধি পেয়েছে। বাক স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ, নারী নিপীড়ণ ও ধর্ষণ, শিশু নির্যাতন, সাংবাদিকদের ওপর হামলা, শ্রমিকদের উপর হামলা, কারাগারে মৃত্যু, সভা-সমাবেশে বাধা প্রদানের মতো ঘটনা অব্যহত রয়েছে। এসময়ে চাঁদাবাজি, চুরি, ছিনতাই, ডাকাতি, ও হত্যাসহ বেশ কিছু সামাজিক অপরাধ ঘটেছে যা জনমনে ভয় ও আতঙ্ক তৈরি করেছে। আদালত ও কারা ফটকে রাজনৈতিক নেতা-কর্মীদের উপর হামলা; থানা ও পুলিশের ওপর হামলা করে রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টদের আসামি ছিনিয়ে নেওয়ার মতো ঘটনা ঘটেছে, যেখানে রাজনৈতিক সংগঠনের নেতাকর্মীদের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ রয়েছে । এছাড়া, ভারত সীমান্তে উত্তেজনা, বিএসএফের উস্কানি, বাংলাভাষী মানুষদেরকে পুশইন করা, এমনকি নিরীহ বাংলাদেশিকে হত্যা, আহত ও গ্রেফতার এবং মিয়ানমারের আরাকান আর্মি কতৃক সীমান্তে গুলি, মাইন ও মর্টারশেল বিস্ফোরণের মত বিভিন্ন ঘটনা মানবাধিকার পরিস্থিতির বিষয়ে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।
বাংলাদেশের বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদ এবং হিউম্যান রাইটস সাপোর্ট সোসাইটি (এইচআরএসএস) এর সংগৃহীত তথ্যের ভিত্তিতে ২০২৫ সালের জুলাই মাসের মানবাধিকার পর্যবেক্ষণ প্রতিবেদনে নিন্মোক্ত তথ্য উঠে এসেছে:
 জুলাই মাসে কমপক্ষে ৫৯ টি “রাজনৈতিক সহিংসতার” ঘটনায় নিহত হয়েছেন অন্তত ১৫ জন এবং আহত হয়েছেন কমপক্ষে ৬৬১ জন। আধিপত্য বিস্তার, সমাবেশ কেন্দ্রিক সহিংসতা, কমিটি গঠন নিয়ে বিরোধ, চাঁদাবাজি ও বিভিন্ন স্থাপনা দখল কেন্দ্রিক অধিকাংশ সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে। জুলাই মাসে রাজনৈতিক সহিংসতার সংখ্যা জুন মাসের তুলনায় কিছুটা বেড়েছে। গত জুন মাসে ৬৬ টি “রাজনৈতিক সহিংসতার” ঘটনায় নিহত হয়েছিলেন ১২ জন এবং আহত হয়েছিলেন ৫৪৬ জন। জুলাই মাসে সহিংসতার ৫৯ টি ঘটনার মধ্যে বিএনপির অন্তর্কোন্দলে ৩৪টি ঘটনায় আহত হয়েছেন অন্তত ৩৭০ জন ও নিহত ৬ জন, ৭টি বিএনপি-আওয়ামী লীগের মধ্যে সংঘর্ষে আহত হয়েছেন ৩৯ জন, ৫টি বিএনপি-জামায়াতের মধ্যে সংঘর্ষে আহত হয়েছেন ৩৬ জন, ৫টি বিএনপি-এনসিপির মধ্যে সংঘর্ষে আহত হয়েছেন ৮২ জন, এবং ৮টি ঘটনা ঘটেছে বিভিন্ন দলের মধ্যে। নিহত ১৫ জনের মধ্যে বিএনপির ৬ জন, আওয়ামী লীগের ৫ জন, ও ইউপিডিএফের ৪ জন। ৫৯ টি সহিংসতার ঘটনার ৫১ টিই ঘটেছে বিএনপির অন্তর্কোন্দলে ও বিএনপির সাথে অন্যান্য রাজনৈতিক দলের মধ্যে। গোপালগঞ্জে এনসিপির কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে স্থানীয় আওয়ামী লীগ ও নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের সাথে যৌথ বাহিনীর সংঘর্ষে ও গুলিতে ৫ জন নিহত এবং শতাধিক আহত হয়েছেন। এর পাশাপাশি দুষ্কৃতকারীদের দ্বারা রাজনৈতিক দলগুলোর নেতা-কর্মীদের ওপর হামলার অন্তত ১৩টি ঘটনা ঘটেছে । এসকল হামলায় কমপক্ষে ১৩ জন আহত এবং আওয়ামীলীগের ১ জন, ও বিএনপির ৩ জন নিহত হয়েছেন। এছাড়াও এ মাসে রাজনৈতিক সহিংসতায় কমপক্ষে ৩০ জন গুলিবিদ্ধ এবং শতাধিক বাড়ি-ঘর, যানবাহন, ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে ভাংচুর, অগ্নিসংযোগ ও লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে।
 এটি উদ্বেগজনক যে, এ মাসে অন্তত ১৭ টি হামলার ঘটনায় কমপক্ষে ২৭ জন সাংবাদিক নির্যাতন ও হয়রানির শিকার হয়েছেন। এ সকল ঘটনায় আহত হয়েছেন অন্ততপক্ষে ১৫ জন, হুমকির সম্মুখীন হয়েছেন ৫ জন ও লাঞ্চিত হয়েছেন ৫ জন । এছাড়াও ২ টি মামলায় ২ জন সাংবাদিককে অভিযুক্ত করা হয়েছে। এছাড়া সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ধর্ম অবমাননা এবং জুলাই আন্দোলন নিয়ে কটুক্তির জেরে অন্তত ৩ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে । এটি উদ্বেগজনক যে, এ মাসে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের উপর কমপক্ষে ৬ টি হামলার ঘটনায় ২ টি মন্দির, ২ টি প্রতিমা, ২০ টি বসতবাড়িতে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে। এছাড়া জমি দখলের মত একটি ঘটনাও ঘটেছে । গত ২৬ ও ২৭ জুলাই, রংপুর জেলার গঙ্গাচড়া উপজেলার বেতগাড়ী ইউনিয়নের আলদাদপুর বালাপাড়া গ্রামে ধর্ম অবমাননার অভিযোগে এক কিশোরকে গ্রেপ্তারের পর উগ্র-উত্তেজিত জনতা সংগঠিতভাবে সংখ্যালঘু হিন্দু সম্প্রদায়ের অন্তত ২০ টি বাড়িতে বর্বরোচিত হামলা চালিয়েছে। এই হামলায় বাড়িঘর ভাঙচুর, লুটপাট এবং বহু পরিবারকে আতঙ্কিত করে এলাকা ত্যাগে বাধ্য করার ঘটনা ঘটেছে।

পড়ুনঃ  টাকের সমধানঃ দাবী বিজ্ঞানীদের

 এ মাসে মব সহিসতা ও গণপিটুনীর অন্তত ৩২ টি ঘটনায় নিহত হয়েছেন কমপক্ষে ১২ জন এবং আহত হয়েছেন অন্তত ৩৯ জন । বিভিন্ন আওয়ামী বিরোধী রাজনৈতিক দলের সমর্থক ও ছাত্র-জনতা আওয়ামী লীগ এবং এর অঙ্গ, সহযোগী ও ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠনের নেতাকর্মীদের গনপিটুনী দিয়ে পুলিশের কাছে সোপর্দ করার বেশ কিছু ঘটনা ঘটেছে। ১৩ জুলাই রবিবার কুমিল্লার নগরীর ২নং ওয়ার্ড (ছোটরা) আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবদুল হামিদকে গণধোলাই দিয়ে পুলিশে সোপর্দ করেছে ছাত্র-জনতা। ২১ জুলাই সোমবার সিলেট নগরীর আম্বরখানাস্থ সাপ্লাইরোড এলাকায় নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগ নেতা আব্দুল আহাদকে (২৭) মারধর করে পুলিশের হাতে তুলে দিয়েছে স্থানীয় জনতা। নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় বৈষম্যবিরোধী একাধিক হত্যা মামলার আসামি যুবলীগ নেতা মেহেদী হাসান শাহিনকে (৪০) তালাবদ্ধ ফ্ল্যাটের বাথরুম থেকে আটক করে গণপিটুনি দিয়ে পুলিশে সোপর্দ করেছেন স্থানীয় ছাত্র-জনতা। এছাড়াও গত ১২ জুলাই শনিবার দিনাজপুরের হিলিতে চোর সন্দেহে বাবলু হোসেন (২৮) নামে এক যুবককে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে ।
 জুলাই মাসে ভারত- বাংলাদেশ সীমান্তে ৮ টি হামলার ঘটনায় ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী ( বিএসএফ ) কর্তৃক গুলিবিদ্ধ হয়ে ৬ জন বাংলাদেশী নিহত ও ৪ জন আহত হয়েছেন এবং গ্রেফতার করা হয়েছে ৪ জনকে। এছাড়া দেশের বিভিন্ন সীমান্তবর্তী এলাকা দিয়ে কমপক্ষে ৩৬৭ জনকে বাংলাদেশে পুশইন করেছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)। বাংলাদেশ- মিয়ানমার সীমান্তের বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার ঘুমধুম সীমান্তে আরাকান আর্মির পুঁতে রাখা স্থলমাইন বিস্ফোরণে মোহাম্মদ হোসেন (৩৩ ) নামে এক যুবক আহত হয়েছেন।

 দেশের বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদ, ভিকটিমের পরিবার ও এইচআরএসএস এর সংগৃহীত তথ্য অনুযায়ী, এ মাসে আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সাথে হেফাজতে, সংষর্ষে, ও গুলিতে ৬ জন নিহত হয়েছেন। যাদের মধ্যে যৌথ বাহিনীর গুলিতে ৫ জন, এবং ১ জন পুলিশ হেফাজতে নিহত হয়েছেন। ১১ জুলাই শুক্রবার রাজধানীর ভাটারা থানায় পুলিশ হেফাজতে থাকা অবস্থায় বিষপান করে ফিরোজা আশরাফী নামে এক বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষিকার মৃত্যু হয়েছে। ১৬ জুলাই, ২০২৫ তারিখে গোপালগঞ্জে এনসিপির ‘জুলাই পদযাত্রা’ কর্মসূচি কেন্দ্রিক স্থানীয় আওয়ামী লীগ ও নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের সাথে যৌথ বাহিনীর সংঘর্ষে ও গুলিতে ৫ জন নিহত এবং শতাধিক আহত হয়েছেন। নিহতরা হলেন- দীপ্ত সাহা (২৫), রমজান কাজী (১৮), সোহেল মোল্লা (৩৫), ইমন (২৪) এবং রমজান মুন্সী (২৮)। ১ম ৪ জনের মরদেহ ময়নাতদন্ত ছাড়াই দাফন ও সৎকার করলে সমালোচনার মুখে সরকার পরবর্তীতে রমজান কাজী (১৮), সোহেল মোল্লা (৩৫), ও ইমনের (২৪) মরদেহ কবর থেকে তুলে ময়নাতদন্ত সম্পন্ন করে।

পড়ুনঃ  সিরিয়ার সেনাবাহিনী হঠাৎ ভেঙে পড়লো কেন?

জুলাই মাসে সারাদেশে কারাগারে কমপক্ষে ৮ জন আসামী মারা গিয়েছেন । ৮ জনের মধ্যে ৩ জন কয়েদী ও ৫ জন হাজতি । গত ২৩ জুলাই বুধবার , মানিকগঞ্জ সদর উপজেলার গড়পাড়া ইউনিয়ন পরিষদের ৩ নম্বর ওয়ার্ড সদস্য ও একই ওয়ার্ডের আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বাবুল হোসেন (বাবুল মেম্বার) জেলহাজতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেছেন। এছাড়া , মুন্সীগঞ্জে কারাবন্দি অবস্থায় অসুস্থ হওয়া পর সারোয়ার হোসেন নান্নু (৬৫) নামের এক আওয়ামী লীগ নেতা এবং মাদারীপুরে কারা হেফাজতে থাকা আওয়ামী লীগ নেতা ইউসুফ আলী মিয়া (৭০) চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন।

 জুলাই মাসে ১৭ টি শ্রমিক নির্যাতনের ঘটনায় নিহত হয়েছেন ৫ জন এবং আহত হয়েছেন কমপক্ষে ২৩ জন। অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ এবং শ্রমিকদের সুরক্ষামূলক সরঞ্জামের অভাবে দুর্ঘটনায় ২১ জন শ্রমিক তাদের কর্মক্ষেত্রে মারা গেছেন। এছাড়া রাজধানীর ধানমন্ডির একটি বাসায় সাদিয়া আক্তার (১২) নামের এক গৃহকর্মীর অস্বাভাবিক মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে।

 জুলাই মাসে কমপক্ষে ১৬২ জন নারী ও কন্যা শিশু নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। এর মধ্যে ধর্ষণের শিকার হয়েছেন অন্তত ৬৮ জন, যাদের মধ্যে ৪২ জন (৬২%) ১৮ বছরের কম বয়সী শিশু। এটা অত্যন্ত উদ্বেগের বিষয় যে, ১৪ জন নারী ও কন্যা শিশু গণধর্ষনের শিকার হয়েছেন, ধর্ষনের পর হত্যা করা হয়েছে ২ জনকে এবং আত্মহত্যা করেছেন ২ জন নারী। ২৫ জন নারী ও কন্যা শিশু যৌন নিপীড়ণের শিকার হয়েছেন তন্মধ্যে শিশু ১২ জন। যৌতুকের জন্য নির্যাতনের ঘটনায় নিহত হয়েছেন ২ জন এবং আহত হয়েছেন ৩ জন এবং আত্মহত্যা করেছেন ১ জন নারী। । পারিবারিক সহিংসতার শিকার হয়ে নিহত হয়েছেন ৩৯ জন, আহত হয়েছেন ৫ জন এবং আত্মহত্যা করেছেন ১৭ জন নারী। অন্যদিকে, এটি উদ্বেগজনক যে, ২৩৩ জন শিশু নির্যাতনের শিকার হয়েছেন যাদের মধ্যে ৪২ জন প্রান হারিয়েছেন এবং ১৯১ জন শিশু শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের শিকার হয়েছেন।

পড়ুনঃ  বিশ্বনাথের পাঠাকইন গ্রামে নলকূপ স্থাপন

 এ মাসে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও আওয়ামীলীগের নেতাকর্মীসহ অন্যান্য রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীদের নামে কমপক্ষে ৩০ টি মামলা হয়েছে। এ সকল মামলায় ১৬৫২ জনের নাম উল্লেখ করে এবং ১৭৮৩৭ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামী করা হয়েছে। এ মাসে রাজনৈতিক মামলায় কমপক্ষে ৬১৭ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে, যেখানে আওয়ামীলীগের নেতাকর্মী অন্তত ৫৮৭ জন। এছাড়া এ মাসে সারাদেশে পুলিশের বিশেষ অভিযানে আরও ৫ হাজার ৫০৬ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে যাদের অধিকাংশই আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ ও নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের নেতাকর্মী । গত ১৬ জুলাই গোপালগঞ্জে জাতীয় নাগরিক পার্টির এনসিপির সমাবেশকে কেন্দ্র করে সহিংসতায় সন্ত্রাস বিরোধ আইনে এখন পর্যন্ত ১৫টি মামলায় ১৬ হাজার ২০৮ জনকে আসামি করা হয়েছে। এসব মামলায় আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের ১ হাজার ২৫২ জনের নাম উল্লেখ ও অজ্ঞাত ১৪ হাজার ৯১০ জনকে আসামি করা হয় এবং পুলিশ অন্তত ৩৩৬ জনকে গ্রেপ্তার করে জেল হাজতে পাঠিয়েছে।
দেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা, গণতন্ত্র ও মানবাধিকার পরিস্থিতি উন্নয়নে রাজনৈতিক দল, সুশীল সমাজ, সাংবাদিক, ও নাগরিকদের সাথে আলোচনার মাধ্যমে সার্বিক পরিস্থিতি উন্নয়ন করা জরুরী। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে জনগণের মৌলিক ও সাংবিধানিক অধিকার নিশ্চিত করতে হবে। আর এ সকল বিষয় বাস্তবায়ন করতে না পারলে দেশের সার্বিক মানবাধিকার পরিস্থিতি আরো অবনতির দিকে যাবে। তাই “এইচআরএসএস”র পক্ষ থেকে সরকারকে মানবাধিকার রক্ষায় ও সার্বিক পরিস্থিতি উন্নয়নে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে এবং দেশের সকল সচেতন নাগরিক, সাংবাদিক, সুশীল সমাজ, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও দেশি- বিদেশি মানবাধিকার সংগঠনগুলোকে আরো সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানাচ্ছে।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তি

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here