
লন্ডন, ৭ আগস্ট:
লেবার পার্টির গৃহহীনতা বিষয়ক মন্ত্রী রুশনারা আলী পূর্ব লন্ডনের নিজস্ব টাউনহাউজ থেকে চারজন ভাড়াটিয়াকে সরিয়ে দিয়ে বাড়িটি আগের তুলনায় মাসে ৭০০ পাউন্ড বেশি ভাড়ায় পুনরায় ভাড়া দিয়েছেন — এমনটাই জানিয়েছে ব্রিটিশ দৈনিক দি আই পেপার।
রুশনারা আলী এর আগে বহুবার বেসরকারি ভাড়াটিয়াদের শোষণের বিরুদ্ধে কথা বলেছেন। তিনি বলেছিলেন, “আমাদের সরকার ভাড়াটিয়াদের অধিকার রক্ষায় কাজ করবে এবং অযৌক্তিক ভাড়া বৃদ্ধির বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলবে।” অথচ নিজেই এমন সিদ্ধান্ত নেওয়ায় তাঁকে নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়েছে।
তাঁর এই পদক্ষেপ আগামী বছর কার্যকর হতে যাওয়া রেন্টারস রাইটস বিল-এর মূল চেতনার পরিপন্থী। এই বিল অনুযায়ী, যদি কোনও বাড়িওয়ালা বিক্রির উদ্দেশ্যে ভাড়াটিয়াকে সরিয়ে দেন, তবে কমপক্ষে ছয় মাসের মধ্যে সেই বাড়িটি পুনরায় ভাড়ায় তোলা যাবে না।
রুশনারার ঘনিষ্ঠ এক সূত্র দাবি করেছে, ভাড়াটিয়াদের আগেই জানিয়ে দেওয়া হয়েছিল যে চুক্তি নবায়ন করা হবে না। চাইলে তাঁরা রোলিং কনট্রাক্টে থাকতে পারতেন। পরে বাড়িটি বিক্রির জন্য বাজারে তোলা হয়। তবে বিক্রি না হওয়ায় সেটি আবার ভাড়ার জন্য তালিকাভুক্ত করা হয়।
এ নিয়ে রুশনারার মুখপাত্র বলেন, “তিনি আইনের সব নিয়মকানুন মেনেই কাজ করেছেন এবং একজন দায়িত্বশীল বাড়িওয়ালা হিসেবে সবকিছু সততার সঙ্গে করেছেন।”
তবে বিষয়টি নিয়ে কড়া সমালোচনা করেন কনজারভেটিভ পার্টির ছায়া আবাসনমন্ত্রী জেমস ক্লেভারলি। তিনি বলেন, “এটা চরম রকমের দ্বিচারিতা। এমন একজন মানুষ যিনি গৃহহীনতা দূর করার দায়িত্বে আছেন, তাঁর এমন কাজ করা নৈতিকভাবে সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য। তাঁর উচিত পদত্যাগ করা।”
জানা গেছে, ২০২৪ সালের মার্চে রুশনারা যে চার বেডরুমের টাউনহাউজটি ভাড়া দিয়েছিলেন, তার মাসিক ভাড়া ছিল £৩,৩০০।
ভাড়াটিয়া লরা জ্যাকসন বলেন, “নভেম্বরে আমাদের জানানো হয়, আমাদের লিজ আর নবায়ন হবে না। চার মাস সময় দিয়ে আমাদের ঘর ছাড়তে বলা হয়।”
কিন্তু ঘর ছাড়ার কিছুদিন পরই তিনি দেখতে পান, বাড়িটি আবার ভাড়ার জন্য তোলা হয়েছে, এবার মাসে প্রায় £৪,০০০ ভাড়ায়।
“এটা একেবারেই হাস্যকর,” বললেন লরা। “এত টাকা ভাড়া চাওয়া একরকম লুটপাট। এটা চরম অন্যায়।”
বাড়িটি রুশনারার পক্ষ থেকে পরিচালনা করছিল দুইটি লেটিং এজেন্সি — Jack Barclay Estates ও Avenue Lettings। ভাড়াটিয়ারা অভিযোগ করেন, ঘর ছাড়ার সময় তাঁদের কাছ থেকে £২,০০০ রঙের খরচ ও £৩৯৫ পেশাদার ক্লিনিং ফি দাবি করা হয়। অথচ টেন্যান্ট ফিস অ্যাক্ট ২০১৯ অনুযায়ী, এই ধরনের চার্জ সম্পূর্ণ অবৈধ, যদি না ঘরে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি হয়ে থাকে।
লরা বলেন, “ঘরে ওঠার সময়ই সেটা পরিষ্কার ছিল না। অথচ যাবার সময় আমাদের কাছ থেকে এত টাকা চাওয়া হলো! সবমিলিয়ে আমাদের প্রত্যেকের জন্য প্রায় £৫০০ করে পড়তো। এটা খুব চাপের ছিল।”
তিনি আরও জানান, যখন এজেন্সিকে জানানো হয় যে বাড়ির মালিক একজন এমপি, তখন হঠাৎ করেই সব চার্জ বাতিল করে দেওয়া হয়।
“আমরা যদি আইন না জানতাম, তাহলে আমাদেরকে এসব টাকা দিতে হতো। এটা একধরনের শোষণ। এমপিরা যেন নিজেদের এলাকায় বাড়ি ভাড়া দিতে না পারেন, সেটা নিশ্চিত করা দরকার।”
রুশনারা পরে বিষয়টি জানার পর এজেন্সিকে নির্দেশ দেন এই ফি বাতিল করতে।
এদিকে, বাড়িটি বর্তমানে বিক্রির জন্য তালিকাভুক্ত হয়েছে £৮৯৪,৯৯৫ দামে, যা তিনি ২০১৪ সালে যে দামে কিনেছিলেন তার চেয়ে £৩ লক্ষের বেশি। শুরুতে দাম ছিল £৯১৪,৯৯৫, পরে তা কমিয়ে বর্তমান মূল্য নির্ধারণ করা হয়।
দি আই পেপার জানিয়েছে, এই টাউনহাউজটি রুশনারার মালিকানাধীন দুটি ভাড়ার সম্পত্তির একটি। তিনি ২০২৪ সালের নির্বাচনে জয়লাভের পর থেকে গৃহহীনতা বিষয়ক মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
রুশনারা এর আগে নিজেই বলেছিলেন, “আমরা রেন্টারস রাইটস বিলের মাধ্যমে গৃহহীনতার মূল কারণ নির্মূল করতে চাই।”
এই বিল অনুযায়ী, শুধুমাত্র বাড়ি বিক্রি, বাড়িওয়ালা বা তাঁর পরিবারের প্রয়োজনে ভাড়াটিয়াকে চুক্তি থেকে সরানো যাবে। এছাড়া স্থায়ী মেয়াদি চুক্তি উঠে যাবে এবং সব ভাড়ার চুক্তি রোলিং কনট্রাক্টে রূপান্তরিত হবে।
Generation Rent-এর প্রধান নির্বাহী বেন টোয়ুমি বলেন, “এই ঘটনাগুলো অত্যন্ত উদ্বেগজনক। যখন একজন সাধারণ বাড়িওয়ালা ভাড়াটিয়াকে তাড়িয়ে বেশি ভাড়া তুলতে চান, তাও খারাপ। কিন্তু একজন গৃহহীনতা বিষয়ক মন্ত্রী যদি এমন করেন, সেটা ভয়ঙ্কর দ্বিচারিতা।”
আবাসন মন্ত্রণালয় রুশনারা আলীর বিষয়ে মন্তব্য করতে রাজি হয়নি। তবে মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, “সরকার এমন একটি ব্যবস্থা গড়ে তুলতে চায়, যেখানে ভাড়াটিয়া ও বাড়িওয়ালার মধ্যে ভারসাম্য থাকবে এবং ভাড়াটিয়ারা নিজ ঘরে নিরাপদ বোধ করবেন।”
Jack Barclay Estates ও Avenue Lettings এই বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেনি।




