সংবাদ সংগ্রহের সময় অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীদের ভিডিও ধারণ করছিলেন সাংবাদিক আসাদুজ্জামান। ঠিক সেই মুহূর্তেই তাকে প্রকাশ্যে গুলি করে হত্যা করা হয়। হিউম্যান রাইটস সাপোর্ট সোসাইটি (HRSS) এ ঘটনাকে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও সাংবাদিকদের নিরাপত্তার ওপর সরাসরি হামলা বলে অভিহিত করেছে। সংস্থাটি পূর্ণাঙ্গ তদন্ত, প্রকৃত অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি এবং সাংবাদিকদের জন্য জাতীয় পর্যায়ে নিরাপত্তা ব্যবস্থা গঠনের দাবি জানিয়েছে।
HRSS এক বিবৃতিতে জানায়, জানুয়ারি থেকে জুলাই—এই সাত মাসে দেশে অন্তত ১৬৯টি হামলায় ২৮৪ জন সাংবাদিক নির্যাতন ও হয়রানির শিকার হয়েছেন। এর মধ্যে আহত হয়েছেন ১২৬ জন, লাঞ্ছিত ২৫ জন, হুমকির মুখে ৩৯ জন এবং গ্রেফতার হয়েছেন ১০ জন। এছাড়া ২৪টি মামলায় ৯৪ জন সাংবাদিককে আসামি করা হয়েছে এবং সাইবার নিরাপত্তা আইন ২০২৩-এর অধীনে ৫টি মামলা দায়ের হয়েছে। সংস্থাটি আরও জানায়, মার্চ মাসে রাজধানীতে সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে এক নারী সাংবাদিক দলবদ্ধ ধর্ষণের শিকার হন, যা সাংবাদিক নিরাপত্তার চরম অবনতির প্রমাণ।
বিবৃতিতে বলা হয়, সাংবাদিক আসাদুজ্জামান হত্যার ঘটনায় সরকার ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে দ্রুত সময়ের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ ও নিরপেক্ষ তদন্ত করে প্রকৃত অপরাধীদের চিহ্নিত ও গ্রেফতার করতে হবে। সাময়িক গ্রেফতার বা দায় এড়ানোর চেষ্টা না করে, অপরাধীদের মুখোশ উন্মোচন করতে হবে এবং এমন দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে, যাতে ভবিষ্যতে কেউ সাংবাদিকদের ওপর আঘাত করার সাহস না পায়। পাশাপাশি, পেশাগত দায়িত্ব পালনরত সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে একটি স্বতন্ত্র ও কার্যকর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গড়ে তোলা জরুরি।
HRSS দেশের সব সাংবাদিক, মানবাধিকারকর্মী, নাগরিক সমাজ ও গণমাধ্যমকে আহ্বান জানিয়েছে এই হত্যাকাণ্ডের বিচার ও সাংবাদিক নিরাপত্তার দাবিতে ঐক্যবদ্ধভাবে সোচ্চার হওয়ার জন্য। সংস্থাটি সাংবাদিক আসাদুজ্জামানের পরিবার, সহকর্মী ও শুভানুধ্যায়ীদের প্রতি গভীর শোক ও সহমর্মিতা জানিয়ে বলেছে, তাঁর আত্মত্যাগ যেন বৃথা না যায়—এটাই তাদের প্রত্যাশা।






