Home Uncategorised ঘুরে এলাম ব্রিটেনের দীর্ঘতম খাল ডাডলি টানেল

ঘুরে এলাম ব্রিটেনের দীর্ঘতম খাল ডাডলি টানেল

121
0

   – মো: আব্দুল মুনিম জাহেদী ক্যারল

ডাডলি টানেল ক্যানাল হল যুক্তরাজ্যের দীর্ঘতম খাল টানেল গুলির মধ্যে একটি যেখানে পায়ে হেঁটে বা সাইকেল চালিয়ে যাওয়ার কোন সুযোগ নেই- নৌকাই প্রবেশ বা বের হওয়ার একমাত্র উপায়!

ডাডলি টানেল (Dudley Tunnel) ইংল্যান্ডের ওয়েস্ট মিডল্যান্ডস-এর ডাডলি শহরে অবস্থিত একটি ঐতিহাসিক খাল-টানেল, যা ১৮শ শতাব্দীর শেষ দিকে শিল্প বিপ্লবের সময় নির্মিত হয়েছিল। এটি মূলত ডাডলি এবং আশেপাশের কয়লা খনি ও চুনাপাথরের খনি থেকে পণ্য পরিবহনের জন্য ব্যবহৃত হত। ঐতিহ্যবাহী এই টানেলের নির্মাণ শুরু হয় ১৭৭৫ সালে এবং শেষ হয় ১৭৭৮ সালে। বিখ্যাত খাল প্রকৌশলী জেমস ব্রিন্ডলি (James Brindley) প্রথম পরিকল্পনা করেন, তবে তার মৃত্যুর পর প্রকৌশলী থমাস শেলফোর্ড (Thomas Shelforth) কাজ শেষ করেন। এই টানেল প্রায় ৩,১৭২ ফুট (৯৬৭ মিটার) লম্বা, যা সেই সময়ে ব্রিটেনের দীর্ঘতম খাল-টানেলের একটি ছিল। ডাডলির চুনাপাথর খনি থেকে ওয়েস্ট মিডল্যান্ডসের অন্যান্য এলাকায় কয়লা, চুনাপাথর ও লোহা পরিবহনের জন্য ব্যবহৃত হত।

টানেলের ভেতরে কোনো টো-পাথ (Towpath) ছিল না, তাই নৌকা নাবিকেরা নৌকাকে “লেগিং” (legging) করে চালাতেন—অর্থাৎ পিঠে শুয়ে দেয়ালের ওপর পা দিয়ে ঠেলে নৌকা এগিয়ে নিতেন। পুরো টানেলের ভিতর বাতাস চলাচলের জন্য কয়েকটি ভেন্টিলেশন শ্যাফট ছিল। টানেলটি খনির নিচ দিয়ে চলে গেছে, ফলে পাশের শাখা টানেলগুলো খনিতে পণ্য তুলতে ব্যবহৃত হত।

শিল্প বিপ্লবের সময় এটি ছিল চুনাপাথর ও কয়লা পরিবহনের একটি গুরুত্বপূর্ণ পথ। ডাডলির খনি থেকে আসা কাঁচামাল স্থানীয় লোহা কারখানায় সরাসরি পৌঁছানো যেত, যা ব্ল্যাক কান্ট্রির (Black Country) শিল্প বিকাশে বড় ভূমিকা রেখেছে।

২০শ শতাব্দীর মাঝামাঝি খনি ও শিল্পকারখানার অবনতি হলে টানেলের ব্যবহার কমে যায়। ১৯৬২ সালে নিরাপত্তাজনিত কারণে টানেলটি পণ্য পরিবহনের জন্য বন্ধ হয়ে যায়। পরে এটি পর্যটন আকর্ষণ হিসেবে পুনর্নির্মাণ করা হয়। বর্তমানে Dudley Canal & Tunnel Trust-এর তত্ত্বাবধানে নৌকা ভ্রমণের ব্যবস্থা রয়েছে।

পড়ুনঃ  Announcing a specification for PHP

বর্তমান গুরুত্ব টানেলটি ব্রিটেনের একটি নির্মিত ঐতিহাসিক স্মারক (Scheduled Ancient Monument)।

এখানে পর্যটকরা ঐতিহাসিক নৌকা ভ্রমণ, খাল-খনির জাদুঘর এবং লাইমস্টোন কেভস (Limestone Caverns) দেখতে পারেন। এটি এখনও “লেগিং” পদ্ধতির ঐতিহ্য ধরে রেখেছে, যা এক বিশেষ ধরনের অভিজ্ঞতা।

এবারে আমাদের সফর সংগী ছিলেন বৃটেনের প্রাচীন একটি ইসলামি ইয়থ সংগঠন ইয়াং মুসলিম অর্গানাইজেশনের সাবেক নেতা কর্মী, তাদের মধ্যে অন্যতম আব্দুল মালিক, আব্দুল মুনিম জাহেদী ক্যারল, আব্দুল মুকাব্বির জেহাদী (জাহিদ), আব্দুল আজিজ, আব্দুল জব্বার, আব্দুল মুকিত, আজমল মসরুর, আরজ মিয়া, আসাদ এম জামান, আসকির আলী, আজিজুল হক, চপল আহমেদ, দিলওয়ার হোসেন খান, ফজলুর রহমান, ফখরুল ইসলাম, ফরমুজ আলী, গউস উদ্দিন, হারুন রশীদ খান, জাহিদ আহমেদ, কয়সুর রহমান, মুসাদ্দিক আহমেদ, এন এইচ টিপু, নুরুজ্জামান, রফিকুল হক, রানা মিয়া, সাঈদ মিয়া, শাহার আলী ইমরান, সিরাজুল ইসলাম, সুহেল মিয়া, সৈয়দ দোহান নূহ, তেজাব চৌধুরী, ওয়াহিদ আলী, মাহমুদ এইচ বাহার প্রমুখ।

লেখক সাংবাদিক ও কমিউনিটি এক্টিভিস্ট।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here