Home বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মহাজাগতিক ‘সুড়ঙ্গপথে’ সৌরজগত! বিজ্ঞানীদের বিস্ময়কর আবিষ্কার

মহাজাগতিক ‘সুড়ঙ্গপথে’ সৌরজগত! বিজ্ঞানীদের বিস্ময়কর আবিষ্কার

154
0

পবিত্র কুরআনে আকাশের নানা পথের কথা বলা হয়েছে। এটি হচ্ছে কোরআনের যেগুলোর অর্থ সমকালীন মানুষের জানা ছিল না। এখন বিজ্ঞানীরা মহাকাশে অনেক সুরঙ্গ পথের কথা বলছেন। বিজ্ঞান কল্পকাহিনী যারা পড়েন তারা জানবেন ওয়ার্ন হোল একটি বহুল প্রচলিত টার্ম সে সাহিত্যে। ওয়ালমোল হলো এমন পথ যার মধ্য দিয়ে বিশাল দূরত্বে মুহূর্তের মধ্যে পাড়ি দেয়া যায়। কোরআন আকাশে এরকম অসংখ্য পথের কথা বলেছে।

সম্প্রতি মহাকাশ গবেষণায় নতুন চমক দিলেন জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা। বহুদিন ধরেই ধারণা ছিল, আমাদের সৌরজগত এক বিশেষ উষ্ণ ও কম-ঘনত্বের অঞ্চলের মধ্যে অবস্থান করছে। কিন্তু সম্প্রতি পাওয়া প্রমাণে জানা গেছে—এই অঞ্চল হয়তো অদ্ভুত এক ‘মহাজাগতিক সুড়ঙ্গপথে’ যুক্ত, যা সরাসরি দূরের নক্ষত্রমণ্ডল পর্যন্ত প্রসারিত।

জার্মানির খ্যাতনামা ম্যাক্স প্ল্যাঙ্ক ইনস্টিটিউট-এর গবেষক দল eRosita এক্স-রে পর্যবেক্ষণ যন্ত্রের তথ্য বিশ্লেষণ করে এই রহস্যময় চ্যানেলের অস্তিত্ব নিশ্চিত করেছেন। তাদের গবেষণা প্রকাশিত হয়েছে Astronomy & Astrophysics সাময়িকীতে।

‘লোকাল হট বাবল’-এর ভেতরে আমাদের ঘর

বিজ্ঞানীরা দীর্ঘদিন ধরে জানেন, সৌরজগত Local Hot Bubble বা ‘স্থানীয় উষ্ণ বুদবুদ’ নামের এক বিশাল গহ্বরাকৃতির অঞ্চলের ভেতরে রয়েছে। প্রায় ৩০০ আলোকবর্ষ বিস্তৃত এই অঞ্চল কয়েক মিলিয়ন বছর আগে ধারাবাহিক সুপারনোভা বিস্ফোরণের ফলে তৈরি হয়েছিল। সেই বিস্ফোরণে মহাকাশের গ্যাস উত্তপ্ত হয়ে হালকা ও কম-ঘনত্বের রূপ নিয়েছিল।

ড. এল. এল. সালা জানান, উচ্চ অক্ষাংশে এই বুদবুদের তাপমাত্রায় উত্তর-দক্ষিণে সুস্পষ্ট পার্থক্য রয়েছে, যা আগে নজরে আসেনি।

রহস্যময় পথ সেন্টোরাসে

সর্বশেষ বিশ্লেষণে দেখা গেছে, এই উষ্ণ গ্যাসপূর্ণ বুদবুদ থেকে সেন্টোরাস নক্ষত্রপুঞ্জের দিকে একটি দীর্ঘ চ্যানেল প্রসারিত। শুধু তাই নয়—আরও একটি চ্যানেলের দিক ক্যানিস মেজর নক্ষত্রপুঞ্জের দিকে। গবেষকদের ধারণা, এগুলো আসলে বিশাল এক আন্তঃনাক্ষত্রিক পথের অংশ, যা নক্ষত্রগঠন অঞ্চল ও উষ্ণ গ্যাসের পকেটগুলোকে সংযুক্ত করে রেখেছে।

ম্যাক্স প্ল্যাঙ্ক ইনস্টিটিউটের তৈরি থ্রিডি মানচিত্রে দেখা যায়, প্রাচীন সুপারনোভার উত্তাপে তৈরি এই গহ্বরের বিভিন্ন স্থানে তাপমাত্রা ভিন্নতা রয়েছে, এবং এসব সুড়ঙ্গ হয়তো মিল্কিওয়ের অন্যান্য ‘সুপারবাবল’-এর সাথে যুক্ত।

পড়ুনঃ  কুইপার বেল্টে আভাস: প্লুটোর বাইরেও লুকিয়ে থাকতে পারে নতুন গ্রহ

পুরনো তত্ত্বের প্রমাণ

গত শতাব্দীতেই কিছু বিজ্ঞানী অনুমান করেছিলেন, আমাদের চারপাশে সংযুক্ত গহ্বর ও উষ্ণ চ্যানেলের এক বিশাল নেটওয়ার্ক থাকতে পারে। কিন্তু পর্যাপ্ত প্রমাণের অভাবেই তা কেবল তত্ত্বে সীমাবদ্ধ ছিল। eRosita-এর মতো আধুনিক পর্যবেক্ষণযন্ত্র এখন সেই অনুমানকে অনেকটাই বাস্তব প্রমাণে রূপ দিচ্ছে।

মহাকাশ শূন্য নয়

আমরা প্রায়ই মহাকাশকে শূন্য মনে করি, কিন্তু বাস্তবে নক্ষত্রের মাঝেও ধূলিকণা, প্লাজমা, বিকিরণ ও চৌম্বক ক্ষেত্রের জটিল মিশ্রণ রয়েছে। এই উপাদানগুলোর পারস্পরিক ক্রিয়াই মহাকাশের পরিবেশকে এত বৈচিত্র্যময় ও জটিল করে তুলেছে।

সামনে আরও চমক

গবেষকরা বলছেন, এই চ্যানেলগুলোর পুরো মানচিত্র এখনও তৈরি হয়নি। ভবিষ্যতের আরও সংবেদনশীল এক্স-রে মিশন ও গভীর জরিপ একদিন হয়তো আমাদের মহাজাগতিক ‘পাড়া’ সম্পর্কে আরও বিস্ময়কর তথ্য উন্মোচন করবে—যা শুধু বর্তমান মহাকাশ নয়, প্রাচীন মহাজাগতিক ঘটনাবলিও ব্যাখ্যা করবে।

– সূত্র: আর্থ ডট কম।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here