বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন, শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় সংসদ সম্প্রতি বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরকে জড়িয়ে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মিথ্যাচার ও ষড়যন্ত্রমূলক বিবৃতি প্রদান করে। তাদের এই মিথ্যাচার সদূরপ্রসারি ষড়যন্ত্রের অংশ উল্লেখ করে এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির, শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় শাখা। আজ (১৮ আগস্ট, সোমবার) এক যৌথ বিবৃতিতে শাখা সভাপতি তারেক মনোয়ার ও সেক্রেটারি মাসুদ রানা তুহিন এ নিন্দা জানান।
প্রতিবাদবার্তায় নেতৃবৃন্দ বলেন, “রাজনৈতিকভাবে দেউলিয়া ও ফ্যাসিবাদের সহযোগী সংগঠন ছাত্র ইউনিয়ন সাধারণ শিক্ষার্থীদের কাছে ধিকৃত হয়ে ছাত্রশিবিরের বিরুদ্ধে বিষোদগার শুরু করেছে। ঐতিহাসিকভাবেই ছাত্র ইউনিয়ন ফ্যাসিবাদের দোসর—তারা শেখ মুজিব কর্তৃক ঘোষিত বাকশালকে স্বাগত জানিয়েছিল।”
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, “বাংলাদেশের শিক্ষাঙ্গনে সন্ত্রাসের সূচনা হয়েছিল ছাত্র ইউনিয়নসহ তথাকথিত বামপন্থী সংগঠনগুলোর হাত ধরে। তাদের আক্রমণেই শাহাদাতবরণ করেন ছাত্রশিবিরের প্রথম শহীদ সাব্বির আহমেদ থেকে নিয়ে হামিদ, আইয়ুবসহ আরও অনেক মেধাবী ছাত্র। ২০০৬ সালে তারাই আওয়ামীলীগের সাথে মিলে হত্যাযজ্ঞ ঘটিয়ে লাশের উপর নৃত্য করে। তারাই শাহবাগের মাধ্যমে বিচারিক হত্যাকাণ্ড সংঘটিত করে আওয়ামী ফ্যাসিবাদ কায়েম করে। পরবর্তীতে শাপলা চত্বরসহ নানা খুনি হাসিনার সমস্ত হত্যাকাণ্ডের বৈধতা উৎপাদনে ভূমিকা রেখেছে। তারা আওয়ামী লীগের গুম-খুন ও দমননীতির সহযোগী হিসেবে কাজ করছে। আবার আওয়ামীলীগের বিরুদ্ধে সীমিত প্রতিবাদ দেখিয়ে বরাবরের মতোই মূল আন্দোলনকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে। আয়নাঘরকে বৈধতা দানের দায় তারা এড়াতে পারে না।
ক্রসফায়ার, গুম, খুন ও গণহত্যাকারী নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সহযোগী বলেই তারা জুলাই স্পিরিটের বিরোধিতা করে নতুন করে বিভাজনের রাজনীতি শুরু করেছে। তারা সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে তথাকথিত “লাল বিপ্লব” বা “রেড টেরর”-এর স্বপ্ন দেখে। নিজেদের এসব অপকর্ম আড়াল করতেই তারা অন্যের বিরুদ্ধে অপপ্রচারে লিপ্ত হচ্ছে। শিক্ষার্থীবান্ধব সংগঠন ইসলামী ছাত্রশিবিরকে আদর্শিকভাবে মোকাবিলা করতে না পেরে তারা আওয়ামী বয়ানের আশ্রয় নিয়েছে।”
নেতৃবৃন্দ আরও বলেন, “আমরা স্পষ্ট ভাষায় বলে দিতে চাই, ১৯৪৭ সালের ব্রিটিশবিরোধী সংগ্রাম ও ১৯৭১ সালের মহান স্বাধীনতাকে মনে-প্রাণে ধারণ করে ১৯৭৭ সালে ছাত্রশিবির তার যাত্রা শুরু করে। প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে ইসলামী ছাত্রশিবির দেশের ছাত্রসমাজের নৈতিক, জাগতিক ও আদর্শিক উন্নয়নে কাজ করে আসছে। দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় ছাত্রশিবির সবসময় অতন্দ্র প্রহরীর ভূমিকা পালন করছে। সুতরাং ছাত্রশিবিরকে নিয়ে মিথ্যাচার ছাত্রসমাজে কখনও গ্রহণ করেনি, আগামীতেও করবে না ইন শা আল্লাহ। বরং ফ্যাসিবাদী বয়ান হাজির করে যারা ভারতীয় আধিপত্যবাদী ও বিভাজনমূলক রাজনীতির মাধ্যমে দেশে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে চায়, তাদের ধিকৃত হতেই হবে।”
আমরা ছাত্র ইউনিয়নকে অতীতের অন্ধকারের পথ পরিহার করে গঠনমূলক রাজনীতির পথে আসার আহ্বান জানাই। অন্যথায় ক্যাম্পাস অস্থিতিশীল করার যেকোনো প্রচেষ্টা সাধারণ শিক্ষার্থীদের কাছেই প্রত্যাখ্যাত হবে।




