ঢাকা, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৫
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচনে ইসলামী ছাত্রশিবির সমর্থিত ঐক্যবদ্ধ শিক্ষার্থী জোট একক আধিপত্য প্রতিষ্ঠা করেছে। গতকাল অনুষ্ঠিত নির্বাচনে সহসভাপতি (ভিপি), সাধারণ সম্পাদক (জিএস), সহ-সাধারণ সম্পাদক (এজিএস)সহ মোট ৯টি গুরুত্বপূর্ণ পদে শিবির-সমর্থিত প্রার্থীরা জয়ী হয়েছেন। সম্পাদক পদেও তারা ১২টির মধ্যে ৯টিতে বিজয় লাভ করেছে।
গুরুত্বপূর্ণ পদে জয়
ভিপি পদে শিবির সমর্থিত এম. আবু সাদিক কায়েম পেয়েছেন ১৪ হাজার ৪২ ভোট। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ছাত্রদলের আবিদুল ইসলাম খান পান ৫ হাজার ৭০৮ ভোট।
জিএস পদে এস. এম. ফারহাদ (শিবির) পেয়েছেন ১০ হাজার ৭৯৪ ভোট, যেখানে ছাত্রদলের শেখ তানভীর বারী হামিম পান ৫ হাজার ২৮৩ ভোট।
এজিএস পদে মুহা. মঈনুদ্দিন খান (শিবির) ১১ হাজার ৭৭২ ভোটে বিজয়ী হন।
সম্পাদক পদে ফলাফল
শিবির-সমর্থিত প্রার্থীরা মুক্তিযুদ্ধ ও গণতন্ত্র, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি, আন্তর্জাতিক, পরিবহন, ক্রীড়া, সাধারণ কক্ষ ও পাঠাগার, মানবাধিকার ও আইন, স্বাস্থ্য ও পরিবেশ, এবং ক্যারিয়ার উন্নয়ন সম্পাদক পদে বিজয়ী হয়েছেন।
তবে সমাজসেবা, সাহিত্য-সংস্কৃতি এবং গবেষণা ও প্রকাশনা সম্পাদক পদে স্বতন্ত্র প্রার্থীরা জয়ী হন।
ভোটগ্রহণ ও অভিযোগ
সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হয়। প্রধান নির্বাচন কমিশনার অধ্যাপক মো. জসিম উদ্দিন বলেন, “এটি ভবিষ্যৎ নির্বাচনগুলোর জন্য একটি মডেল।” বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের হিসাব অনুযায়ী, ৭৮ শতাংশ শিক্ষার্থী ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন।
তবে ফল ঘোষণার পর কয়েকটি পক্ষ অনিয়ম ও কারচুপির অভিযোগ তোলে। ভিপি পদে পরাজিত ছাত্রদল সমর্থিত প্রার্থী আবিদুল ইসলাম খান সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নির্বাচনের ফল প্রত্যাখ্যান করে বলেন, এটি ছিল “একটি পরিকল্পিত প্রহসন।” একইভাবে স্বতন্ত্র প্রার্থী উমামা ফাতেমা এবং ছাত্রদলের অপর প্রার্থীরাও কারচুপির অভিযোগ আনেন।
রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট
আওয়ামী লীগের দীর্ঘ ১৫ বছরের শাসনামলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে শিবির কার্যত নিষিদ্ধ ছিল। গত বছরের জুলাই পরিবর্তনের পর সংগঠনটি প্রকাশ্যে সক্রিয় হয় এবং এক বছরের মধ্যেই ডাকসুতে বড় ধরনের সাফল্য অর্জন করল।

