মো: জাহেদী ক্যারল
লন্ডন, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৫, শনিবার:
২৫০ বছরের পুরনো রয়েল লন্ডন হাসপাতাল ভবনে আজ মহাসমারোহে উদ্বোধন হলো টাওয়ার হ্যামলেটস কাউন্সিলের নতুন হোয়াইটচ্যাপেল টাউন হল। এই উপলক্ষে আয়োজিত হয় দিনব্যাপী “টাউন হল ওপেন ডে” ও স্মারক ফলক উন্মোচনী অনুষ্ঠান।
সকাল থেকেই নারী-পুরুষ ও শিশুদের উপচেপড়া ভিড়ে মুখরিত হয়ে ওঠে টাউন হল প্রাঙ্গণ। হাজারো মানুষের উপস্থিতিতে সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত চলে নানা আয়োজন। বিকাল সাড়ে ১২টায় কাউন্সিল চেম্বারে নির্বাহী মেয়র লুতফুর রহমান ও কাউন্সিলের চিফ এক্সিকিউটিভ স্বাগত বক্তব্য রাখেন। বিকাল ২টায় নির্বাহী মেয়র লুতফুর রহমান নামফলক উন্মোচন করেন, যা ভবনের ঐতিহাসিক রূপান্তরকে স্মরণীয় করে রাখবে।
ওপেন ডে উপলক্ষে কাউন্সিল অফিসাররা জনগণকে বিভিন্ন গ্রুপে ভাগ করে নতুন টাউন হলের নানা কক্ষ ও সেবামূলক কার্যক্রম ঘুরে দেখান। এসময় সাদা, কালো, বাদামী—সব জাতি ও ধর্মের মানুষ একসাথে অংশ নিয়ে এক অনন্য কমিউনিটি ঐক্যের দৃষ্টান্ত স্থাপন করেন।
অনুষ্ঠানের অন্যতম আকর্ষণ ছিল দুপুর ১টার কেক কর্তন, যার মাধ্যমে উৎসবের আনুষ্ঠানিক সূচনা হয়। দিনভর ছিল ফটোগ্রাফি প্রদর্শনী, যেখানে টাওয়ার হ্যামলেটস কাউন্সিলের গত ৬০ বছরের বৈচিত্র্য ও পরিবর্তন ফুটিয়ে তোলা হয়।
গাইডেড ট্যুর ছাড়াও দর্শনার্থীরা উপভোগ করেন সমৃদ্ধ সাংস্কৃতিক পরিবেশনা। ছিল সেল্টিক নৃত্য, স্টিল ব্যান্ড, ক্লেজমার সংগীত, এবং বাংলা, সোমালি ও চীনা সংস্কৃতির মনোমুগ্ধকর পরিবেশনা। পূর্ব লন্ডনের ঐতিহ্যবাহী পার্লি কিং ও কুইনও উপস্থিত থেকে শোনান পুরনো দিনের গল্প।
শিশুদের জন্য ফেস পেইন্টিং ও বেলুন মডেলিং এবং বড়দের জন্য ফিটনেস টেস্টার সেশন ছিল বিশেষ আকর্ষণ। স্থানীয় ব্যবসায়ী ও কমিউনিটি গ্রুপের স্টলে জমে ওঠে কমিউনিটি মার্কেটপ্লেস। এছাড়া ব্রিক লেন কারি ফেস্টিভ্যাল-এ অংশগ্রহণকারীদের জন্য বিশেষ ছাড় ঘোষণা করা হয়, যা রবিবার থেকে সারা সপ্তাহ চলবে।
ভবনের ইতিহাস
১৭৫৭ সালে চালু হওয়া রয়েল লন্ডন হাসপাতাল ভবনটি দীর্ঘদিন ধরে লন্ডনবাসীর জন্ম, চিকিৎসা ও মানবসেবার কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত ছিল। এখানে কাজ করেছেন খ্যাতিমান ব্যক্তিত্ব এনি ব্রুস্টার, এডিথ ক্যাভেল, এলিজাবেথ গ্যারেট এন্ডারসন ও টমাস বার্নার্ডো। ২০১৫ সালে ভবনটি টাওয়ার হ্যামলেটস কাউন্সিলের অধীনে আসে এবং ২০২৩ সালে এটি নতুনভাবে টাউন হল হিসেবে চালু হয়।
আজকের এই উৎসবমুখর দিনটি সাংবাদিক, আইনজীবী, শিক্ষক, ব্যবসায়ী, রাজনীতিবিদ, কমিউনিটি ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বসহ নানা শ্রেণি-পেশার মানুষের মিলনমেলায় পরিণত হয়। সবাই নির্বাহী মেয়র লুতফুর রহমানের নেতৃত্ব ও উদ্যোগের প্রশংসা করেন।






