Home ইউকে যুক্তরাজ্যে বেড়েছে মসজিদে হামলা

যুক্তরাজ্যে বেড়েছে মসজিদে হামলা

83
0

ব্রিটিশ পতাকা ও খ্রিষ্টান জাতীয়তাবাদী স্লোগানের ব্যবহার বৃদ্ধি পেয়েছে

যুক্তরাজ্যে সাম্প্রতিক মাসগুলোতে মসজিদের ওপর হামলার সংখ্যা আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে বলে জানিয়েছে সরকারের ইসলামবিদ্বেষ পর্যবেক্ষণ সংস্থা। এসব ঘটনার ৪০ শতাংশেরও বেশি ক্ষেত্রে ব্রিটিশ বা ইংরেজ পতাকা এবং খ্রিষ্টান জাতীয়তাবাদী প্রতীক বা স্লোগান ব্যবহার করা হয়েছে।

গত তিন মাসে একাধিক ভয়াবহ ঘটনা ঘটেছে — ইস্ট সাসেক্সে একটি মসজিদে আগুন দেওয়া হয়েছে; মেরসিসাইডে শিশু উপস্থিত অবস্থায় একটি মসজিদের জানালায় এয়ারগান দিয়ে গুলি চালানো হয়েছে; গ্রেটার ম্যানচেস্টারে এক মসজিদের জানালায় পাথর ছোঁড়া হয়েছে; এবং গ্লাসগোতে লোহার দণ্ড দিয়ে জানালা ভাঙা হয়েছে।

ব্রিটিশ মুসলিম ট্রাস্ট (BMT)-এর তথ্য অনুযায়ী, জুলাই থেকে অক্টোবরের মধ্যে সারা ব্রিটেনে ২৫টি মসজিদে ২৭টি হামলা হয়েছে—যার এক-চতুর্থাংশেরও বেশি ছিল সহিংস বা ধ্বংসাত্মক। অন্য ঘটনাগুলোর মধ্যে ছিল দেয়ালে গ্রাফিতি লেখা, ক্রস ও পতাকা লাগানো ইত্যাদি। তিনটি মসজিদ একাধিকবার লক্ষ্যবস্তু হয়েছে।

BMT জানায়, ৪০ শতাংশ ঘটনার ক্ষেত্রে ব্রিটিশ ও ইংরেজ পতাকা বা প্রতীক এবং “Christ is King” ও “Jesus is King” স্লোগান ব্যবহার করা হয়েছে খ্রিষ্টান জাতীয়তাবাদী প্রেক্ষাপটে। এতে দেখা যায়, চরম দক্ষিণপন্থীরা খ্রিষ্টান প্রতীক ও ভাষাকে রাজনৈতিকভাবে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করছে।

তথ্য সংগ্রহের আগের মাস জানুয়ারিতে লন্ডনে সাতটি হামলা হয়েছিল, এরপর কিছুদিন পরিস্থিতি শান্ত ছিল। তবে গ্রীষ্মকাল থেকে দেশজুড়ে হামলার সংখ্যা বেড়ে যায়—জুলাইয়ে ১টি, আগস্টে ৮টি, সেপ্টেম্বর ও অক্টোবরে ৯টি করে হামলা হয়।

সরকার জুলাই মাসে BMT-কে যুক্তরাজ্যজুড়ে ইসলামবিদ্বেষমূলক কর্মকাণ্ড পর্যবেক্ষণ ও প্রতিক্রিয়া প্রদানের দায়িত্ব দেয়। সংস্থাটির প্রতিবেদন A Summer of Divisionদ্য গার্ডিয়ান পত্রিকা দেখার সুযোগ পেয়েছে।

প্রতিবেদনটি জানায়, আগস্ট মাস থেকে হামলার প্রকৃতি পরিবর্তন হয়—“একক ভাঙচুর থেকে পরিকল্পিত প্রতীকী ভয় দেখানো ও সহিংস আক্রমণে” রূপ নেয়, যা পরিমাণ ও উদ্দেশ্য উভয়ই বেড়েছে।

পড়ুনঃ  জালিয়াতির জন্য সাবেক কাউন্সিলরের জেল

“যেখানে কেউ কেউ ‘Raise the Colours’ প্রচারণা ও ‘Unite the Kingdom’ সমাবেশকে জাতীয় ঐক্যের ডাক হিসেবে দেখেছেন, বাস্তবে দেখা গেছে এই দুটি আন্দোলনের সময় পতাকাটি নিজেই জাতিগত-জাতীয়তাবাদী ভয় দেখানোর অস্ত্রে পরিণত হয়েছে,” ।

BMT জানায়, যদিও সরাসরি কারণ-ফল সম্পর্ক স্থাপন করা যায়নি, তথাপি এই জাতীয় প্রচারণাগুলোর সময় ও মসজিদে হামলার বৃদ্ধির মধ্যে সময়গত সম্পর্ক অত্যন্ত লক্ষণীয়। এটি ইঙ্গিত দেয় যে, জাতীয়তাবাদী প্রচারণার মূলধারায় দৃশ্যমানতা স্থানীয় পর্যায়ে ইসলামবিদ্বেষী আচরণকে স্বাভাবিক বা উৎসাহিত করেছে।

BMT যুক্তরাজ্যের আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়েছে যাতে তারা মসজিদগুলোর জন্য “দ্রুত প্রতিক্রিয়া” ও নিরাপত্তা প্রোটোকল তৈরি করে, নিরাপত্তা তহবিলের আবেদন প্রক্রিয়া সহজ করে এবং সামাজিক সংহতি বৃদ্ধির জন্য শিক্ষামূলক উদ্যোগ নেয়—যাতে মসজিদগুলোকে “সামাজিক কেন্দ্রবিন্দু” হিসেবে গুরুত্ব দেওয়া হয়।

প্রতিবেদনটি আরও জানায়, ইসলামবিদ্বেষমূলক অপরাধের শিকাররা নিয়মিতভাবে পুলিশ ও অনলাইন প্ল্যাটফর্ম থেকে সীমিত অনুসন্ধান বা প্রতিক্রিয়া পেয়েছেন, যা সমাজে এই ধারণা সৃষ্টি করছে যে ইসলামবিদ্বেষ হয়তো সহনীয় বা উপেক্ষিত।

BMT-এর প্রধান নির্বাহী আকিলা আহমেদ বলেন, “এই গ্রীষ্মের প্রমাণ অস্বীকার করার উপায় নেই—ব্রিটেনে ইসলামবিদ্বেষ দৃশ্যমানতা ও তীব্রতা উভয় দিকেই বাড়ছে, এবং মসজিদগুলো অভূতপূর্ব হারে হামলার লক্ষ্যবস্তু হচ্ছে।

এই প্রতিবেদনটি আমাদের জন্য সতর্কবার্তা—কিছু একটা ভয়াবহভাবে বদলে গেছে, এবং জাতি হিসেবে আমাদের তা সংশোধন করতে হবে।”

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here