Home বিশ্ব ইউরোপজুড়ে ইসলামবিদ্বেষের উত্থান: অস্ট্রিয়া, জার্মানি ও ফিনল্যান্ডে ভয়াবহ বৃদ্ধি

ইউরোপজুড়ে ইসলামবিদ্বেষের উত্থান: অস্ট্রিয়া, জার্মানি ও ফিনল্যান্ডে ভয়াবহ বৃদ্ধি

87
0

ইউরোপজুড়ে গত এক বছরে মুসলমানদের বিরুদ্ধে ঘৃণামূলক হামলা ও বৈষম্যের ঘটনা উদ্বেগজনকভাবে বেড়ে গেছে। ইউরোপীয় মানবাধিকার সংস্থাগুলোর সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে দেখা গেছে, অস্ট্রিয়া, জার্মানি ও ফিনল্যান্ডে ইসলামবিদ্বেষী ঘটনার সংখ্যা সবচেয়ে বেশি।

ইউরোপীয় ইউনিয়নের ফান্ডামেন্টাল রাইটস এজেন্সি (FRA) জানায়, ১৩টি সদস্যদেশে করা জরিপে প্রায় অর্ধেক মুসলিম নাগরিক জানিয়েছেন যে তারা গত পাঁচ বছরে ধর্ম বা বর্ণের কারণে বৈষম্যের শিকার হয়েছেন— যা ২০১৬ সালের ৩৯ শতাংশ থেকে উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।

অস্ট্রিয়ায় ২০২৩ সালে ১,৫০০-এরও বেশি ইসলামবিদ্বেষী অপরাধের ঘটনা রেকর্ড করা হয়েছে— যা ২০১৫ সালের পর থেকে সর্বোচ্চ। জার্মানিতে ২০২৪ সালে ৩,০০০-এর বেশি ইসলামবিদ্বেষী ঘটনা রেকর্ড হয়, যা আগের বছরের তুলনায় প্রায় ৬০ শতাংশ বৃদ্ধি। ফিনল্যান্ডে ৬৩ শতাংশ মুসলিম জানিয়েছেন যে তারা জীবনের বিভিন্ন ক্ষেত্রে বৈষম্যের সম্মুখীন হয়েছেন।

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ডানপন্থী জাতীয়তাবাদ, অভিবাসীবিরোধী রাজনীতি এবং ২০২৩ সালের অক্টোবরের হামাস-ইসরায়েল সংঘাত— এসব কারণই সাম্প্রতিক ইসলামবিদ্বেষ বৃদ্ধির মূল উৎস।
“এই ঘটনাগুলো ইউরোপজুড়ে মুসলমানদের বিরুদ্ধে ঘৃণা ও বিভাজনের ঢেউ সৃষ্টি করেছে,” বলেন FRA–এর এক মুখপাত্র। “অনলাইন ঘৃণাবার্তা এবং রাস্তার সহিংসতা সমাজের গভীর বিভাজনকে প্রতিফলিত করছে।”

ইসলামী সহযোগিতা সংস্থা (OIC) তাদের সর্বশেষ প্রতিবেদনে জানিয়েছে, ইসলামবিদ্বেষমূলক ঘটনার দিক থেকে ইউরোপ বর্তমানে বিশ্বের দ্বিতীয় সর্বাধিক আক্রান্ত অঞ্চল। সংস্থাটির তথ্য অনুযায়ী, এসব ঘটনার প্রায় এক-চতুর্থাংশই ডানপন্থী রাজনীতির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট।

যদিও অস্ট্রিয়ায় সর্বাধিক নথিভুক্ত ঘটনা পাওয়া গেছে, বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন যে প্রতিটি দেশের রেকর্ডপদ্ধতি ভিন্ন হওয়ায় তুলনামূলক বিশ্লেষণ কঠিন। তাছাড়া, অনেক ভুক্তভোগী ভয় বা অবিশ্বাসের কারণে অভিযোগ দায়ের করেন না— ফলে প্রকৃত সংখ্যাটি আরও বেশি হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

যুক্তরাজ্যেও একই ধারা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। হোম অফিসের তথ্য অনুযায়ী, গত বছর ইংল্যান্ড ও ওয়েলসে সংঘটিত ধর্মভিত্তিক ঘৃণাজনিত অপরাধের প্রায় ৪০ শতাংশ ভুক্তভোগী ছিলেন মুসলমান। সাম্প্রতিক সময়ে মসজিদে হামলা ও অনলাইন ঘৃণাবার্তার হারও দ্রুত বেড়েছে।

পড়ুনঃ  বাধার পাহাড় কাটিয়ে আনোয়ার মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী

সামাজিক সংগঠন ও মুসলিম অধিকার সংস্থাগুলো ইউরোপীয় সরকারগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়েছে—
ঘৃণাজনিত অপরাধের বিরুদ্ধে কঠোর আইন প্রয়োগ, তথ্যসংগ্রহের উন্নয়ন, এবং আন্তঃধর্মীয় শিক্ষা বিস্তারে বিনিয়োগ করার জন্য।

“ইসলামবিদ্বেষ শুধু মুসলমানদের সমস্যা নয়— এটি ইউরোপের গণতন্ত্র ও সামাজিক সংহতির জন্য এক বড় হুমকি,” FRA–এর বিবৃতিতে সতর্ক করা হয়।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here