লন্ডন, ১৭ নভেম্বর ২০২৫ — বাংলাদেশ সেন্টারের ব্যবস্থাপনা পরিষদের একটি পূর্বনির্ধারিত বৈঠক সোমবার রাতে গুরুতর বিশৃঙ্খলার মুখে পড়ে। সভা শুরু হওয়ার পরপরই ঘটে যাওয়া উত্তপ্ত পরিস্থিতির কারণে বাংলাদেশে নিযুক্ত যুক্তরাজ্যের মাননীয় রাষ্ট্রদূত আবিদা ইসলামকে নিরাপত্তার স্বার্থে সভাস্থল সাময়িকভাবে ত্যাগ করতে বাধ্য হতে হয়। পরে পুলিশ হস্তক্ষেপের মাধ্যমে পরিস্থিতি কিছুটা নিয়ন্ত্রণে এলে তিনি আবার সভায় ফিরে আসেন।
বাংলাদেশ সেন্টারের সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক শহীদুর রহমান স্বাক্ষরিত প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, সভাটি ছিল ব্যবস্থাপনা পরিষদের একটি অ-সর্বজনীন বৈঠক। কিন্তু রাষ্ট্রদূতের আগমনের সঙ্গে সঙ্গেই অনুমোদনবিহীনভাবে কয়েকজন সাংবাদিক সভাকক্ষে ঢুকে তাঁকে ঘিরে ধরেন এবং বিভিন্ন প্রশ্নে তাঁকে বিব্রত করে তোলেন। এই আচরণ শুধু সভার মর্যাদা ক্ষুণ্নই করে না, বরং সভার কাজ শুরুর আগেই তীব্র অস্থিরতার সৃষ্টি করে।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, ব্যবস্থাপনা পরিষদের সদস্য দেলোয়ার হোসেন ও তাঁর সহযোগী মাহবুব আহমেদ, আলী আহমেদ বেবুল, শিব্বির আহমেদ ও মামুনুর রশিদ সভাস্থলে উচ্চস্বরে অশালীন ভাষায় কথা বলেন, চেয়ার-টেবিল গুটিয়ে ফেলে সভা পরিচালনায় বাধা সৃষ্টি করেন এবং এমন এক অস্বস্তিকর পরিবেশ তৈরি করেন যেখানে রাষ্ট্রদূতসহ উপস্থিত কর্মকর্তাদের দাঁড়িয়ে থাকতে হয়। পরিস্থিতি চরমভাবে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে যখন রাষ্ট্রদূত সভাস্থল ত্যাগ করেন এবং মাহবুব আহমেদকে তাঁর গাড়ি পর্যন্ত ধাওয়া করতে দেখা যায়, যা ভিডিও ফুটেজে ধরা পড়েছে বলে প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
অধ্যাপক শহীদুর রহমান জানান, পরিস্থিতি এতটাই অনিরাপদ হয়ে পড়ে যে তিনি অবিলম্বে পুলিশের সহায়তা চান। অল্প সময়ের মধ্যেই পুলিশ এসে উপস্থিত জনতার মধ্যে স্বস্তি ফিরিয়ে আনে এবং সবাইকে আশ্বস্ত করার পর রাষ্ট্রদূতকে আবার সভাকক্ষে ফিরিয়ে আনা হয়। তবে ফিরে আসার পরও দেলোয়ার হোসেন ও তাঁর সহযোগীরা নানা উপায়ে সভার কাজে বাধা দিয়ে যেতে থাকেন, যার ফলে পুলিশ মাহবুব আহমেদকে ডেকে বিশেষভাবে সতর্ক করে।
সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে রাষ্ট্রদূত জানান, বাংলাদেশ সেন্টারের বিগত নির্বাচন ও নির্বাচন-পরবর্তী বিরোধ সম্পর্কে তিনি তাঁর পূর্বসূরি ও অন্যান্য কর্মকর্তাদের কাছ থেকে বিস্তারিত অবহিত হন। বিবদমান পক্ষগুলোর সঙ্গে পৃথক ও যৌথভাবে আলোচনা করে সমঝোতা তৈরির চেষ্টা করা হলেও কিছু পক্ষের অনমনীয় অবস্থানের কারণে সেই উদ্যোগ সফল হয়নি। ফলে সংবিধানসম্মত ক্ষমতাবলে তিনি ব্যবস্থাপনা পরিষদের এই বৈঠক আহ্বান করেন, যার মূল লক্ষ্য ছিল আসন্ন বার্ষিক সাধারণ সভা (AGM) ও দ্বিবার্ষিক নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে আয়োজনের প্রস্তুতি নেওয়া এবং নির্বাচন কমিশন ও সাব-কমিটি গঠন করা।
তিনি আরও বলেন, নির্বাচনের মাধ্যমে নতুন কমিটি গঠিত হলে দীর্ঘদিনের অচলাবস্থা কাটিয়ে বাংলাদেশ সেন্টার একটি সময়োপযোগী সমাজকল্যাণমূলক প্রতিষ্ঠান হিসেবে পুনরায় কার্যকরভাবে পরিচালিত হতে পারবে। কিন্তু কয়েকজন সদস্যের সুপরিকল্পিত বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি এই উদ্যোগকে নস্যাৎ করেছে বলে তিনি গভীর দুঃখ প্রকাশ করেন।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, এ ধরনের আচরণ শুধু নিন্দনীয়ই নয়, বরং বাংলাদেশ সেন্টারের চলমান সংকটকে আরও গভীর করবে। সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক শহীদুর রহমান জানান, কমিউনিটির বৃহত্তর স্বার্থে সেন্টারের অচলাবস্থা দূর করা জরুরি, এবং এজন্য সকল সদস্যের সহযোগিতা প্রয়োজন।





