Home অর্থনীতি ইকনোমিক টাইমস এর প্রতিবেদন: বাংলাদেশের পেঁয়াজ আমদানি কমে যাওয়ায় হতাশ ভারতের রপ্তানিকারকরা

ইকনোমিক টাইমস এর প্রতিবেদন: বাংলাদেশের পেঁয়াজ আমদানি কমে যাওয়ায় হতাশ ভারতের রপ্তানিকারকরা

51
0

সম্প্রতি বাংলাদেশ’র আমদানি-নীতিতে পরিবর্তন ও বাজারের চাহিদা কমে যাওয়াযর ফলে ভারতের পেঁয়াজ রফতানিকারকরা উদ্বেগে পড়ে গেছেন। প্রথাগত কলকাতার রফতানি-মার্কেট হারিয়ে ফেলায়, অনেকেই জানাচ্ছেন — “ক্রেতারা এখন গুণগত মান দেখেই নয়, বরং দাম দেখে ক্রয় করছে।”

২০২৩-২৪ অর্থবছরে, ভারতেরপ্তানিকৃত মোট পেঁয়াজের প্রায় ৪২ % বা ৭.২৪ লক্ষ টন পেঁয়াজ বাংলাদেশ আমদানি করেছিল।

কিন্তু ২০২৫ সালের এপ্রিল–সেপ্টেম্বরের মধ্যে, ভারতে থেকে বাংলাদেশে গড়েই এসেছে মাত্র ১২,৯০০ টন পেঁয়াজ — যা ভয়াবহ ভাবে অর্ধেকের থেকেও কম।

প্রধান কারণ: ভারতীয় রফতানিতে নিয়মিত বিধিনিষেধ আরোপ এবং রফতানি-নিয়ন্ত্রণ, পাশাপাশি বাংলাদেশে ভোক্তা বাজারে আমদানি-নির্ভরতা কমিয়ে দেশীয় উৎপাদন ও বিকল্প উৎসের দিকে ঝোঁকার সিদ্ধান্ত।

রফতানিকারকদের উদ্বেগ

ভূমিকা হিসেবে রপ্তানিকারকরা (যেমন একজন সিনিয়র রপ্তানিকারক, সাবেক প্রধান, Horticulture Produce Exporters’ Association –HPEA) জানাচ্ছেন, দীর্ঘ সময় রপ্তানির বাজার থেকে অনুপস্থিত থাকায়, তারা তাদের প্রধান ক্রেতা-ভিত্তি হারিয়েছেন। “এখন ক্রেতারা মান নয়, দাম দেখে ক্রয় করছে,”।

ঐতিহ্যগতভাবে ভারতীয় পেঁয়াজের ওপর নির্ভরতা থাকা দেশগুলো নিজেদের উৎপাদন বাড়াতে সক্ষম হচ্ছে , যা ভবিষ্যতে ভারতের এই বাজারে আধিপত্য আরো দুর্বল করে দেবে।

রফতানিকারকরা বলছেন,  অভ্যন্তরীণ দামের ওঠানামা এবং নিয়মিত রফতানি-নীতি বদলের কারণে, তারা আর গতানুগতিক বাজারে থাকতে পারছেন না।

বাংলাদেশে পরিবর্তন: আমদানির বিকল্প ও অভ্যন্তরীণ উৎপাদন

বাংলাদেশ সরকার, বাজারে পেঁয়াজের দাম এবং চাহিদা বিবেচনায়, “স্বনির্ভরতা ও বিকল্প আমদানির উৎস” নীতিতে আগ্রহ দেখাচ্ছে। ফলে, ভারতের পেঁয়াজ আমদানির ওপর নির্ভরতা কমছে, এবং দেশীয় পেঁয়াজ উৎপাদন ও অন্যান্য সরবরাহকারী দেশ থেকে আমদানির দিকে ঝোঁকা বাড়ছে।

এই সিদ্ধান্ত নতুন বাজার গঠন, ক্রেতাদের স্বল্প দামের পেঁয়াজ সরবরাহ, এবং একই সঙ্গে স্থানীয় কৃষকদের সুরক্ষার উদ্দেশ্যে। তবে দীর্ঘ মেয়াদে উৎপাদন–শেয়ার এবং গুণগত মান নিয়ন্ত্রণ করার চ্যালেঞ্জ থাকবে।

অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক প্রভাব

ভারতের রফতানিকারকদের জন্য এটি আর্থিকভাবে ক্ষতিকর: একসময় প্রিমিয়াম দামে রফতানি করতো; এখন বিকল্প উৎস এবং গুণগত চাহিদার বদলে দাম-ভিত্তিক কেনাকাটা, তাদের বিক্রয়-মূল্য কমিয়ে দিয়েছে।

বাংলাদেশে পেঁয়াজ আমদানি উৎস বৈচিত্র্য পেলে, স্থানীয় বাজারে দামের ওঠানামা নিয়ন্ত্রণে সাহায্য পাওয়া যাবে; তবে গুণগত মান বজায় রাখাও জরুরি হবে।

প্রসারিত গ্লোবাল কৃ্ষি বাণিজ্যে — যেখানে ভারত একসময় পেঁয়াজ রপ্তানিতে আধিপত্য রাখতো — এখন সেই ভারসাম্য বদলানো শুরু হয়েছে, এবং নতুন রপ্তানিকারক ও আমদানিকারক দেশগুলোয়ের অংশ বাড়ছে।

পড়ুনঃ  মাথাপিছু সম্পদের পরিমাণ ১৬ লাখ ৩৭ হাজার টাকা

বাংলাদেশের নীতি পরিবর্তন ও আমদানিতে উৎস বৈচিত্র্যের ফলে ,  পুরনো ক্রেতা-ভিত্তি হারিয়ে, ভারতীয় পেঁয়াজ রফতানিকারকরা এখন “কাঁদছে”। তবে এ পরিবর্তন শুধুই এক-পক্ষীয় নয়; এটি পেঁয়াজ বাণিজ্য ও গ্লোবাল সরবরাহ শৃঙ্খলে বড় ধরনের পরিবর্তন নিয়ে আসছে। ভবিষ্যতে বাজারে গুণগত মান, টেকসই উৎপাদন ও সাশ্রয়ী ভোক্তা মূল্য একসঙ্গে বজায় রাখতে বাংলাদেশকে এবং রফতানিকারকদের উভয়কেই পরিকল্পনামূলকভাবে কাজ করতে হবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here