Home মতামত একাত্তরের গণহত্যার বিচার দাবী ও রাজনীতিতে অর্বাচীনতার প্রাদূর্ভাব

একাত্তরের গণহত্যার বিচার দাবী ও রাজনীতিতে অর্বাচীনতার প্রাদূর্ভাব

145
0

– সিরাজুল ইসলাম শাহীন।

১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধকালীন নৃশংস গনহত্যা সংঘঠিত হয়েছে। এটা যেমন চরম বাস্তবতা, তেমনি এর বিচারের নামে বয়ে যাওয়া ইতিহাসের ভয়াবহ অপরাজনীতিও স্বীকার করতে হবে। তবুও সেই গনহত্যার বিচার দাবী যে কেউ করতেই পারেন। এই গনহত্যা কখনো অস্বীকার করা হয়নি এবং জামায়াতে ইসলামী এর ন্যায়বিচারের বিরোধিতা কোনদিন করেনি। কাজেই, বাংলাদেশে জামায়াতে ইসলামীর অগ্রযাত্রা রোধে ভারত ও আওয়ামী বয়ানের এই নবসংস্করন প্রতিপক্ষের জন্য লাভজনক যে হবে না; তা নির্দ্বিধায় বলা যায়।

বিএনপি এবং এনসিপি সহ কতিপয় রাজনৈতিক মহল এই ইস্যুটি নিয়ে জামায়াতে ইসলামীকে উদ্দেশ্য করে বক্তব্য রাখা অব্যাহত রেখেছেন। আওয়ামী উচ্ছিষ্টভোগী বুদ্বিজীবি ও টকশোজীবীরা যথারীতি ইন্ধন দিয়ে যাচ্ছেন। বিশেষ করে বিএনপি মহাসচিব সহ সিনিয়র নেতৃত্ব সরাসরি এতে জড়িয়ে পড়ায় কিছু কথা স্পষ্ট করা জরুরী হয়ে পড়েছে।

প্রথমত: স্বাধীনতার ৫৪ বছর পরে এটি এখন একটি পূর্ণাঙ্গ প্যাকেজ। একসাথে যে কয়টি বিষয় সামনে চলে আসে অবধারিতভাবে –

১) ২৬ মার্চ ‘৭১ এর আগের বিহারী গনহত্যা
২) ১৬ ডিসেম্বর পর্যন্ত মুক্তিযুদ্বকালীন প্রায় সাড়ে ৯মাসের সকল গনহত্যা ও মানবতা বিরোধী অপরাধ
৩) ১০ ই জানুয়ারী ‘৭২ পর্যন্ত দেশব্যাপী সংঘঠিত নির্মম হত্যাকান্ড
৪) ১৪ আগস্ট ‘৭৫ পর্যন্ত সকল রাষ্ট্রীয় হত্যাকান্ড
৫) বিতর্কিত ট্রাইবুনালে প্রহসনের বিচারে জাতীয় নেতৃবৃন্দের ধারাবাহিক হত্যাকান্ড

ইতিহাসের দায়শোধের জাতীয় দায়বোধ থেকে মুক্তি পেতে অন্তত এই সব ঘটনাগুলোর কঠোর ন্যায়বিচার নিশ্চিতকরনের প্রয়োজনীতা অনস্বীকার্য । কিন্তু পুরো প্যাকেজ এড়িয়ে খন্ডিত দাবি তুলে অপরাজনীতির সুযোগ নেই। প্যান্ডোরার বাক্স অপেন করা সম্ভব হলে জামায়াতের জন্য শাপে বর হবে। কারন তখন দুধ কে দুধ আর পানি কে পানি বিলকুল পরিষ্কার হয়ে যাবে।

দ্বিতীয়ত : আমীরে জামায়াত ডাঃ শফিকুর রহমান দ্ব্যর্থহীন কন্ঠে বলেছেন, ” জামায়াতের সাথে সংশ্লিষ্ট কারো বিরুদ্বে মুক্তিযুদ্বকালীন অপরাধের সাথে জড়িত থাকার অভিযোগ থাকলে আইনের আশ্রয় নিন, প্রমান থাকলে আমরা আপনাদের সহায়তা করব ”। এরপরও এসব নিয়ে অহেতুক মাঠ গরমের অপচেষ্টা কারীদের ভাগ্যে নব্য আওয়ামী – ভারতীয় লস্পেনসার উপাধী ছাড়া আর কিছুই জুটবে না।

পড়ুনঃ  আধুনিক বিচ্ছিন্নতার যুগে চরিত্রভিত্তিক বন্ধুত্বের নববী মডেল

তৃতীয়ত : মনে রাখতে হবে, ১৯৯১ জাতীয় নির্বাচনে আওয়ামী পরাজয়ে ভারতীয় থিঙ্কট্যাংকের মাথায় বাজ পড়ে। তখন ভারতীয় আগ্রাসন বিরোধী জাতীয় জাগরনে স্থায়ী বিভক্তি আনতে ‘ যুদ্বাপরাধীদের বিচার ‘ প্রসঙ্গ আমদানি করা হয়। শেখ মুজিব আমলের শিমলা চুক্তির পরে সুদীর্ঘ সময়ে এই শব্দটি বাংলাদেশের কোথাও উচ্চারিত হয়নি। গঠিত হয় ঘাদানি কমিটি। মঞ্চস্থ হয় গণআদালত। যার ধারাবাহিকতায় ২০০৮ পরবর্তী ফ্যাসিবাদী খুনী হাসিনা ইতিহাসের জঘন্যতম বিচারিক প্রহসনে জাতীয় নেতৃবৃন্দকে ধারাবাহিক হত্যা করে। খুনের শিকার প্রত্যেকেই ছিলেন ভারতীয় আগ্রাসন বিরোধী দেশপ্রেমিক পরীক্ষিত রাজনৈতিক নেতা।

চতুর্থত : স্বাধীন বাংলাদেশে প্রায় অর্ধ শতাব্দীকাল জামায়াতে ইসলামী প্রকাশ্যে রাজনীতি করে আসছে। ১৯৭১ পরবর্তী তাজা সময়েও কোন জামায়াত নেতার বিরুদ্বে গনহত্যা বা অপরাধের অভিযোগ উঠেনি। দীর্ঘ এ পথ চলায় দেশবাসী কাছে থেকে যাদের দেখে আসছে, তাদের বিরুদ্ধে গায়েবী বয়ান দিয়ে হালে পানি পাওয়ার কোন কারন নেই। অতএব, এই ইস্যুটির পুনঃ আমদানী আগামী দিনে জামায়াতের রাজনীতিতে কোন প্রতিবন্ধকতা তৈরী করতে পারবে না।

পঞ্চমত : ‘২৪ এর গনহত্যার রায় বাস্তবায়ন মুহূর্তে ‘৭১ এর বিচার ইস্যুটি এখনই টেনে আনা গভীর স্বড়যন্ত্রের অংশ। এক ঢিলে তারা কয়েক পাখি শিকার করতে চায়। জুলাই গণহত্যায় প্রধান অভিযুক্ত বাংলার কসাই শেখ হাসিনাকে রক্ষা করা, জুলাই বিপ্লবের রক্ষা কবচ জাতীয় ঐক্য বিনষ্ট করা এবং জাতীয় আস্থার প্রতীকে পরিণত হওয়া জামায়াতের রাজনীতি বাধাগ্রস্থ করা। এই প্রজেক্টের কামলা, চিহ্নিত পরজীবীদের খপ্পরে পড়ে কোন কোন মহল জিগিরটি তোলতে গিয়ে রাজনীতিতে অর্বাচিনতার পরিচয় দিচ্ছেন।

৩৬ জুলাই বিপ্লব উত্তর বাংলাদেশ; হাজারো সন্তানের রক্ত সাগর মাড়িয়ে এ এক পরিবর্তিত স্বদেশবাসী। পুরোনো বস্তাপচা বয়ানের রাজনীতি করার অপচেষ্টা বোকার স্বর্গে বাস করার শামিল। উইপোকার ডানা গজানোর মত আত্মাহুতি দিয়ে স্বীয় রাজনীতির পতন টানতে চাইলেতো আর করার কিছুই থাকে না। নগদ ফলাফল কিন্তু আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে মিলে যেতে পারে।
sirajulislamshaheen@yahoo.com: 24/11/2025; London 22.58 pm.

পড়ুনঃ  যুক্তরাজ্যে পরবর্তী বাংলাদেশ হাইকমিশনার বৃটেনের বাংলাদেশী কমিউনিটি থেকে দেয়া দরকার:

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here