লন্ডন, ৪ ডিসেম্বর ২০২৫ —
যুক্তরাজ্যের একাধিক বিশ্ববিদ্যালয় বাংলাদেশ ও পাকিস্তান থেকে নতুন শিক্ষার্থী ভর্তি সাময়িকভাবে স্থগিত বা সীমিত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। অভিবাসন নীতির পরিবর্তন, বাড়তি ভিসা প্রত্যাখ্যানের হার এবং ভিসার অপব্যবহার–সংক্রান্ত উদ্বেগের কারণে বিশ্ববিদ্যালয়গুলো এই পদক্ষেপ নিয়েছে বলে জানা গেছে।
সাম্প্রতিক নতুন নিয়ম অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের ভিসা প্রত্যাখ্যানের হার ৫ শতাংশের নিচে রাখতে হবে—যা পূর্বের ১০ শতাংশ সীমার তুলনায় অনেক কঠোর। কিন্তু চলতি বছরে পাকিস্তানি শিক্ষার্থীদের ভিসা প্রত্যাখ্যানের হার ছিল প্রায় ১৮ শতাংশ এবং বাংলাদেশের ছাত্রদের ক্ষেত্রে তা প্রায় ২২ শতাংশ। নিয়মের সঙ্গে মিল না থাকায় বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে Basic Compliance Assessment (BCA)–এ টিকে থাকতে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে হচ্ছে।
এ পরিস্থিতিতে University of Wolverhampton, University of Chester, University of East London, Sunderland University, Coventry University, University of Hertfordshire, Oxford Brookes University, Glasgow Caledonian University, London Metropolitan Universityসহ বেশ কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয় বাংলাদেশ ও পাকিস্তান থেকে নতুন আবেদন গ্রহণ বন্ধ বা সীমিত করেছে। এর মধ্যে University of Chester পাকিস্তানি শিক্ষার্থীদের ভর্তি ২০২৬ সালের শরৎকাল পর্যন্ত স্থগিত করেছে।
বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর দাবি, কিছু ভুয়া আবেদন, ভুল তথ্য প্রদান এবং শিক্ষার্থী ভিসাকে স্থায়ীভাবে থাকার পথ হিসেবে ব্যবহার করা—এসব কারণে তারা ‘উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ দেশ’ শ্রেণিতে বাংলাদেশ ও পাকিস্তানকে রাখতে বাধ্য হয়েছে। একই সঙ্গে বাড়তি আশ্রয় (asylum) দাবির হারও তাদের সিদ্ধান্তকে প্রভাবিত করেছে।
এই পদক্ষেপের ফলে প্রকৃত শিক্ষার্থীরা যে বড় ধরনের অনিশ্চয়তায় পড়ছেন তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। অনেক ছাত্র ইতোমধ্যে অফার লেটার পেলেও বিশ্ববিদ্যালয়গুলো হঠাৎ ভর্তি স্থগিত করায় তারা দিশেহারা। আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী নির্ভর, তুলনামূলক কম-ফি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর জন্যও এটি আর্থিক চাপ তৈরি করবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
ব্রিটিশ সরকার বলেছে, কেবল এমন শিক্ষার্থীরাই ভিসা পাবেন যারা সত্যিকারের পড়াশোনা করতে চান; ভিসার পথকে কেউ যেন দীর্ঘমেয়াদি বসবাসের উপায় হিসেবে ব্যবহার না করতে পারে, সেজন্যই নিয়ম কঠোর করা হয়েছে। তবে শিক্ষা বিশেষজ্ঞদের মতে, বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর তড়িঘড়ি সিদ্ধান্ত অনেক সম্ভাবনাময় শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা থমকে দিয়েছে।
বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের বিপুল সংখ্যক শিক্ষার্থী যুক্তরাজ্যকে উচ্চশিক্ষার প্রধান গন্তব্য হিসেবে দেখে থাকেন। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে তাদের বিদেশে পড়াশোনার স্বপ্ন নতুন করে অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে।






