Home সম্পাদকীয় ওসমান হাদী ভাইয়ের শাহাদাত ও নতুন বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয়

ওসমান হাদী ভাইয়ের শাহাদাত ও নতুন বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয়

75
0

আব্দুদ্দাইয়ান মুহাম্মদ ইউনুছ

যে মুহূর্তে হাদি ভাইয়ের গুলির খবর পেলাম-জীবনের ছন্দ থেমে গেল
১১ ডিসম্বের ২০২৫, শরীফ ওসমান হাদী বলেন, আমি তো ভীষণ ভাবে প্রত্যাশা করি, কোনো একটা বিপ্লবে কোনো একটা মিছিলে আমি সামনে আছি, একটি বুলেট এসে বিদ্ধ হয়ে গেছে আমার মাথায়, আমি হাসতে হাসতে শহীদ হয়ে যাচ্ছি। মনীব তাঁর দুআ এত দ্রুত এইভাবে কবুল করলেন । ডিসেম্বর মাসের ১২ তারিখ, দুপুরের দিকে হঠাৎ এক ফেসবুক পোস্ট চোখে পড়ে। শিরোনাম- “ওসমান হাদী ভাইকে গুলি করা হয়েছে।”আমার বুক ধক করে উঠল। এই কি সেই মানুষ, যার ভিডিও শুনে আমি সাহস পেতাম; উদ্দীপ্ত হতাম? সেই মানুষ, যার মুখে সত্যের দীপ্তি ছিলো, চোখে ছিলো ঈমানের আলো, কণ্ঠে ছিলো আগুন নয়-বরং কুরআনের শীতলতা? ভাষায় ছিল দেশপ্রেম; দেশের প্রতি ভালবাসা। ইনসাফের বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয়; যেই স্বপ্নে বিভোর কোটি কোটি জনতা।


মিডিয়াতে চোখ বুলাতেই আমি স্তব্ধ হয়ে যাই। হাত-পা ঠান্ডা হয়ে আসে। বুকের ভেতর শূন্যতা- যেন কোনো আপনজনের মৃত্যু সংবাদ পেলাম। সব সময় বুকের এক কোনায় হাদি থেকেই যাচ্ছে। কোন ভাবেই সরাতে পারছিনা। আমার ছেলে-মেয়ের সাথেও তার কতঅ স্মরণ করে দুআ করেছি অনেকবার; আল্লাহর কাছে তার সুস্থতার জন্য আকুতি জানিয়েছি অশ্রুভারাক্রান্ত মনে; দেশ-বিদেশে অবস্থানরত কোটি কোটি ভাই-বোনদের মত।


আমি কখনো তাকে সামনে থেকে দেখিনি ; প্রবাস জীবনে থাকার কারণে পরবর্তীতে দেশে গেলে দেখার ইচ্ছা ছিল। আল্লাহর কাছে আকুতি জান্নাতে যেন তাঁর সাথে দেখা হয়। সেই ধরনের আমলে সালেহজ যেন করতে পারি আমরণ। তাঁর গুলিবিদ্ধ হওয়ার সংবাদে বুকটা কেঁপে উঠেছিল। কারণ, ওসমান হাদী ছিলো আমাদের আশা- আকাংখার প্রতীক। আধিপত্যবাদবাদ বিরোধী বলিষ্ঠ কন্ঠস্বর; সত্যের প্রতিচ্ছবি, ইনসাফের বাংলাদেশ গড়ার ভাষ্যকার। আফসোস, কতিপয় মানুষরুপী পাশবিকদের নির্মম গুলির শব্দে স্তব্ধ হলো বিবেকবান প্রজন্মের এক বলিষ্ঠ কণ্ঠ। কিন্তু তার রক্ত দ্রোহ হয়ে কোটি হ্রদয়ে নাড়া দিয়েছে। চারিদিকে একই শ্লোগান ‘ আমরা সবাই হাদি হব- হাদির মত লড়ে যাবো‘।
ওসমান হাদীকে ঢাকার পুরানা পল্টনে জুমার নামাযের পর একটি চলন্ত মোটরসাইকেল থেকে গুলি করা হয়। এই থেকে বুঝা যায় শুটার-কিলার প্রফেশনাল। গুলির পরে প্রথমে তাকে ঢাকা মেডিকেলে নেওয়া হয়। জরুরি অস্ত্রোপচারের পর বলা হয়, তার অবস্থা “অত্যন্ত সংকটাপন্ন”। গুলি লেগেছে স্পাইনাল কর্ডের আশেপাশে ও অভ্যন্তরীণ অঙ্গপ্রত্যঙ্গে। পরে তাকে এভারকেয়ার হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।


হাদির অবস্থা সংকটাপন্ন। এই অবস্থায় পুরো জাতি আল্লাহর দরবারে ধরণা দেয়। চোখের পানি ফেলে অনেকই দুআ করেন, ‘‘ হে আল্লাহ আমার সব কিছু নিয়ে হলেও হাদিকে আমাদের মাঝে সুস্থ করে ফেরত দাও‘। সারা বাংলাদেশের মানুষের কণ্ঠে দোয়া আর সেই চিৎকার, “ওসমান, ছেড়ে যাইস না ওসমান!” আল্লাহ রহম করো। ওসমান হাদীকে আমাদের মাঝে ফিরিয়ে দাও। হাদী ভাই তখন জীবন আর মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে। তাই আরও উন্নত চিকিতসার জন্য তাকে সিঙ্গাপুরে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে পাঠানো হয়। চিকিৎসা খরচ রাষ্ট্র বহন করে। তার ভক্তরাও প্রস্তুত ছিল সব কিছুই করার জন্য। শরিফ ওসমান হাদী সিঙ্গাপুরের একটি হাসপাতালে সংকটাপন্ন অবস্থায় চিকিৎসাধীন ছিলেন। যুক্তরাজ্যে নেয়ার কথা উঠলেও নেয়া সম্ভব হয়নি শারীরিক অবস্থা বেশী খারাপ থাকার কারণে। দেশ-বিদেশের সর্বস্তরের মানুষ সব সময় উতকন্ঠায় ছিল তার সংবাদ জানার জন্য। এমতাবস্থায় ১৮ ডিসেম্বর ২০২৫ ইং তারিখে সিঙ্গাপুরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শাহাদাত বরণ করেছেন। ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন। মহান আল্লাহ তাঁকে ক্ষমা করুন, তাঁর প্রতি রহম করুন এবং শাহাদাতের মর্যাদা দিয়ে জান্নাতুল ফিরদাউসের উঁচু মাকাম দান করুন। আমিন।


ওসমান হাদী-শুধু একজন মানুষ নন-একটি বিপ্লবের নাম
তিনি কোনো প্রথাগত রাজনীতিবিদ ছিলেন না। ছিলেন ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র-তরুণদের এক বিশ্বাস, এক উজ্জ্বল আলো। ফেসবুক লাইভে, ইউটিউব ভিডিওতে তিনি বলতেন: “দেশ মানে শুধু মাটি নয়-এটা বিশ্বাস, আত্মত্যাগ আর দায়িত্ব।“আমরা যদি আমাদের ইতিহাস না জানি, তবে আমাদের ভবিষ্যৎও ছিনিয়ে নেওয়া হবে।”এই কথাগুলো আবেগ দিয়ে নয়, সাহস দিয়ে বলা হত। চোখে ছিল নির্ভীকতা, মুখে ছিল ধৈর্য আর হৃদয়ে ছিল তাকওয়া।

পড়ুনঃ  ঈদ মোবারক : ঈদ নিয়ে ইদুরামি বন্ধ হোক


কেন এমন মানুষেরা আমাদের হৃদয় ছুঁয়ে যায়?
তারা শুধু একজনকে গুলি করেনি-তারা এক জাতির অন্তর্জগতকে আঘাত করেছে। বাংলাদেশ এর জাতিসত্বার উপর আঘাত করেছে। ওসমান হাদী ছিল সেই প্রজন্মের কণ্ঠস্বর, যারা মাইকের সামনে দাঁড়িয়ে নির্ভয়ে সত্য বলতে জানেন; আধিপত্যবাদের রক্ত চক্ষুকে উপক্ষো করে ঘোষনা করেন‘ বাংলাদেশ আমার গর্ব- আমরা কোন আধিপত্যবাদী শক্তির ডিক্টেশনে আমাদের দেশ গড়বনা। আমরাই আমাদের দেশ গড়ব‘। ওসমান হাদী ছিলো এমন একজন, যিনি একা দাঁড়িয়ে বলতেন-“এই দেশ আমাদের আমানত- কোন ফ্যাসিবাদ আমরা মেনে নেবনা”। হাদি সময় টিভির এক অনুষ্ঠানে বলেন, ‘‘ আমাকে ভোট দিলে লাভ কি? আমি চুরি করবো না আপনার টাকা। আপনার টাকা তো সবাই চুরি করছে। সংসদে বিসমিল্লাহ বলে চাঁদাবাজদের তালিকা প্রকাশ করবো। https://youtu.be/PLlCg7lbGbI?si=OQlLbw9ZTsGLNe5– তার নির্বাচনী প্রচারণায় স্লোগান ছিলো- ভোট ফর হাদি, ভোট পর চেঞ্জ, নারায়ে তাকবির, আল্লাহু আকবার https://www.facebook.com/reel/1570330747491426.
হাদি ভাই বলতেন, রক্ত পানি করা পয়সায় মানুষ আমাদেরকে ভালোবাসে শুধু দেশটাকে একটু দাঁড় করানোর জন্য। আর আমরা তা কেজি দরে বেচে দেই। এই মানুষগুলোর সাথে যেনো কোনোদিন আমরা গাদ্দারি না করি খোদা। https://www.facebook.com/share/r/1BgFmX4otM/ এক প্রশ্নের জবাবে হাদি বলেন, ‘‘নির্বাচনে জিতবো কিনা? এটাতে ছোট প্রশ্ন। শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের মতো, মাওলানা ভাসানীর মতো, এখানকার ভূমি পুত্র শেরে বাংলার মতো, আমাদের সব থেকে স্বাধীন সন্তান স্যার সলীমুল্লার মতো, বাংলাদেশের ছাপান্ন হাজার বর্গমাইলে প্রতিটি ইঞ্চিতে ইঞ্চিতে আমরা পায়ে হেঁটে নতুন আযাদী , নয়া বাংলাদেশ বির্নিমাণের জন্য ইনশাআল্লাহ পদ যাত্রা শুরু করবো। https://www.facebook.com/share/r/1D6jVcDDxH/ তার আরেক বক্তব্য বারবার কানে শিহরিত হয়: কেউ যদি এসরি মধ্যে মারা যায় আর কাউরে একদম গুলি করে মেরে ফেললো মানে কবরেই তো যাবে আর ব্যাপরটা তো এমন না যে… যে এসির মধ্যে মারা গেল তার মৃত্যু কষ্ট কম বরং জীবনে তো পাপ আমাদের সাবারই আছে। হয়তো আমার প্রচন্ড পাপ থাকা সত্ত্বেও আমি একটা ইনসাফের পক্ষে দাঁড়ানোর কারণে আমার এই মৃত্যুর মধ্য দিয়ে আল্লাহ তোমারে মাফ করে দিতে পারে। এটুকু নূন্যতম প্রত্যাশা আমাদের থাকা দরকার। https://www.facebook.com/share/r/1Btrf2KVu3/.


তিনি শহীদ আব্দুল কাদের মোল্লার ব্যাপরে বলেছিলেন, ‘‘ আমি বাসায় চিৎকার করে কাঁদতে ছিলাম। আমি আমার বোনের বাসায় থাকতাম। আমার বোন এসে আমার চোখ চেঁপে ধরতেছে, সেও কাঁদতেছে। আমি তারে জীবনে দেখি নাই। মনে হচ্ছে আমার বাসা থেকে আধা ঘন্টার দূরুত্বে একজন মানুষ নিরাপরাধ তাকে ফাঁসি দেওয়া হচ্ছে পুরো বাংলাদেশ দেখতাছে। কেউ কিছু করতে পারতাছে না। আমি চিৎকার করে আমার মুখ চেপে ধরতে ছিল এই জন্য আমি কান্না করতাছি এটা আমাদের পাশের ফ্ল্যাটের কেই শুনলে আমাদের বাসা ছাড়া লাগতে পারে। এমন ভয়াবহ পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে গেছি। এবং সে রাত্রে কাদের মোল্লা সাহেব এর বাসায় ও হামলা ছাত্রলীগ করল। এই । ইটারভিউ দেখার পর কাদর মোল্লা সাহেবের ছেলে শাহাবাগের একটা প্রোগ্রামে এসে আমাকে জড়িয়ে ধরে বলছে ভাই আমি উনার সন্তান। তো আমি জামাত বা শিবির না করিয়া কাদের মোল্রা সাহেবের ফাঁসিতে কাধতে পারি এবং সেটা আমি কোনো ধরণের গ্লানি ছাড়া বলতে পারি। এটা আমাদের রাজনীতি।‘‘ https://www.facebook.com/share/v/1LfVdaUN7a/


ঢাকা ৮ আসনে শরিফ ওসমান হাদি অধিকাংশ সময় ফজরের নামাজের পর প্রচারনা শুরু করতেন। উনার ফেসবুকে এই সংক্রান্ত অনেক ভিডিও পোস্ট পাওয়া যায়। তিনি এক বক্তব্যে বলেন, ‘‘আমাদেরকে গুলি করার আগ পর্যন্ত কোনো কিছু আমার গায়ে লাগে না, যতক্ষণ পর্যন্ত বুকে বা মাথায় গুলি চলবে ততক্ষণ পর্যন্ত স্টার্গল মনে করি না এবং এক্সট্রা কোনো সিকিউরিটি লাগবে না। শুধু আমাদেরকে যদি কেউ গুলি করে মেরে ফেলে তাকে যেন ধরে বিচার করা হয়। আপনি যদি আজকে আমাকে যাবেরকে টিমকে মেরে ফেলেন এবং তার যদি বিচার করতে না পারেন তাহলে নতুন কেউ জন্মাবে না। শুধু এই জন্য তার বিচার করে ফেলতে হবে। আর কোনো সিকিউরিটি লাগবে না। https://www.facebook.com/share/r/17fTUUVf8C/|

পড়ুনঃ  প্রবাসী ভোটাধিকার: সম্ভাবনার আলো নাকি হারিয়ে যাওয়ার সতর্কতা

মানুষের হ্রদয়ের গভীরে তার স্থান
ফেসবুকে, ইউটিউবে হাজার হাজার মানুষ লিখেছেন: “ভাই, আপনি ছিলেন আমাদের সাহস।“আপনার কথা শুনলে মনে হতো আপনি আমারই কথা বলছেন।“আমার ছেলে যেন আপনার মতো হয়-এই দোয়া করি। “এই সমাজে যারা সত্য বলে, তারাই হয় টার্গেট। আর আমরা বসে থাকি, একে একে হারিয়ে ফেলি আমাদের বিবেক। একজন ছাত্র লিখেছে: “আপনার গলায় যেন নিজের মনের কথা শুনতাম।”একজন সাংবাদিক লিখেছে: “আপনি ছিলেন সাহসের সংজ্ঞা, ইসলামের আলোকবর্তিকা।”আরেকজন লিখেছেন, হাদিকে আমি ভালোবাসি, কারণ তিনি বিএনপি, আওয়ামী লীগ, জামায়াতসহ সকল রাজনৈতিক মতাদর্শের ঊর্ধ্বে উঠে নিরপরাধ মানুষের পক্ষে ইনসাফের কথা বলেন। তিনি ইনসাফের প্রতীক। ইনসাফের প্রতীক হিসেবে তাঁকে আমি সংসদে দেখতে চাই। তিনি জীবিত থাকুন কিংবা মৃত্যুর পরেও থাকুন। আমার দেশ পত্রিকার সম্পাদক বলেন- ফজরের নামাজের পরে ফরিয়াদ করেছি, আমার সব কিছুর বিনিময়ে হাদীকে ফিরিয়ে দিন। হাদী সুস্থ হওয়া পর্যন্ত তার কাজ আমি সম্পূর্ণ করবো। তরুণরা যখন বই পড়া ছেড়ে দিয়েছে তখন সে বিভিন্ন জায়গা থেকে বই সংগ্রহ করছে, আগামী প্রজন্মকে উপযুক্ত করবার জন্য, কালচারার ফেসিজম মোকাবেলার জন্য। https://www.facebook.com/share/v/1KYHunwsX1/


হামলা কি আকস্মিক? না পরিকল্পিত?
পুলিশ রিপোর্ট, মিডিয়া ও তদন্ত বলছে-এই হামলা একটি সুপরিকল্পিত হত্যাচেষ্টা, যেটি নির্বাচনের ঠিক পরের দিন ঘটেছে। তদন্তে উঠে এসেছে, হামলাকারীরা এক মাসের বেশি সময় ধরে ওনাকে অনুসরণ করছিল। প্রকাশিত রিপোর্ট অনুযায়ী পেছন থেকে মোটরসাইকেলে এসে গুলি চালায় ফয়সাল করিম মাসুদ নামক ব্যক্তি। সাথে ছিলো আরও দুজন। তাদের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। সন্দেহ করা হচ্ছে তারা ভারত দিয়ে পালিয়েছে। কারো কারো মতে এটা গুজব। এই হত্যা এটা আধিপত্যবাদবিরোধী কন্ঠরোধের গভীল চক্রান্ত। কিন্তু হামলার পর প্রায় এক সপ্তাহ পের হলো এখনও মূল খুণীদের ধরতে পারেনি আইন শৃংখলা বাহিনী; এটা রাষ্ট্রীয় ব্যর্থতা বলে ইতোমধ্যে স্বরাষ্ট্রউপদেষ্টাসহ কতিপয় উপদেষ্টার পদত্যাগের দাবী উঠেছে। আমাদের প্রিয় ওসমান হাদিকে গুলিবর্ষণ করেছে ফয়সাল করিম মাসুদ নামের এক ছাত্রলীগ সন্ত্রাসী। তাকে জঅই গ্রেফতার করেছিল গত বছর। এরপর তার জামিন হয়েছে হাইকোর্ট থেকে। এই প্রসঙ্গে, জামিন দেয়ার ন্যয্যতা নিয়ে বিভিন্ন মহলে আলোচনা-বিতর্ক উঠছে।


ওসমান হাদীর বেড়ে উঠা
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পরদিন ঢাকা-৮ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী ও ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরীফ ওসমান বিন হাদিকে গুলির ঘটনা এখন দেশের সবচেয়ে আলোচিত ইস্যু। ২০২৪ সালের বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন এবং আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধ আন্দোলনের অন্যতম পরিচিত মুখ ওসমান হাদির রাজনৈতিক অবস্থান এবং তার ব্যতিক্রমী বক্তব্যগুলোর সমন্বয়ে হয়ে উঠেছেন বাংলাদেশের রাজনীতিতে এক অনন্য চরিত্র। শরীফ ওসমান বিন হাদি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের ২০১০-২০১১ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। ২০২৪ সালের বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে ভূমিকার জন্য তিনি পরিচিতি পান। হাদির গ্রামের বাড়ি ঝালকাঠির নলছিটিতে, বাবা ছিলেন মাদ্রাসার শিক্ষক। নেছারাবাদ কামিল মাদ্রাসায় হাদির শিক্ষাজীবনের শুরু, শেষ করেন দাখিল ও আলিম। পরে ভর্তি হন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে। এক সময় ইংরেজি শেখার কোচিং সেন্টার সাইফুরস এ শিক্ষকতা করেছেন হাদি। সর্বশেষ ইউনিভার্সিটি অব স্কলারস নামে একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে তিনি শিক্ষকতা করছিলেন বলে ইনকিলাব মঞ্চের কর্মীরা জানিয়েছেন। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর ওসমান হাদির হাত ধরে গড়ে ওঠে সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক প্লাটফর্ম ‘ইনকিলাব মঞ্চ’। ‘সব ধরনের আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব রক্ষা ও ইনসাফভিত্তিক রাষ্ট্র বিনির্মাণ’ সংগঠনটির ঘোষিত লক্ষ্য। আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে সোচ্চার ওসমান হাদি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে শেখ হাসিনার মৃত্যুদণ্ডের রায়ের পর বলেন, এই রায় পুরো পৃথিবীর জন্য নজির স্থাপন করেছে।

পড়ুনঃ  বিশ্বাস, ত্যাগ ও রাষ্ট্রনায়কোচিত এক জীবনের মহাকাব্য


গত নভেম্বর মাসে হাদি নিজের ফেসবুকের এক পোস্টে দাবি করেন, দেশি-বিদেশি অন্তত ৩০টি ফোন নম্বর থেকে তাকে ফোন এবং মেসেজ পাঠিয়ে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়েছে, তার বাড়িতে আগুন দেওয়া ও তার মা, বোন ও স্ত্রীকে ধর্ষণের হুমকি দেওয়া হয়েছে। ওই পোস্টে তিনি লেখেন, আওয়ামী লীগের ‘খুনি’ সমর্থকরা তাকে সর্বক্ষণ নজরদারিতে রাখছে। ‘জীবননাশের আশঙ্কা’ সত্ত্বেও তিনি ‘ইনসাফের লড়াই’ থেকে পিছিয়ে যাবেন না। হাদি হলো ভারতীয় আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে অকুতোভয়ে বীরসেনানী। হাদির গল্পগাথা ও আত্মত্যাগ উৎসাহ যোগাবে প্রজন্ম থেকে প্রজন্ম। হাদীদের খুব বেশী দরকার।


হাদি ভাইয়ের জন্মসাল ১৯৯৩। সে হিসেবে এখন তাঁর বয়স ৩২। এই সংক্ষিপ্ত জীবনে তিনি যে ইমপ্যাক্ট তৈরি করেছেন, দেশ-জাতি এবং উম্মাহর জন্য যে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন তা পৃথিবীতে খুবই বিরল। সোশাল মিডিয়াতে একজন লিখেছেন, ‘‘ ওসমান হাদিরা যুগে যুগে আমাদের চোখ খুলে দিয়ে যান, আমাদের শিখিয়ে যান জীবনের সত্যিকার দর্শন। এখন ওদের দেখে আর ন্যূনতম সম্ভ্রম জাগে না, লোভ হয় না। লোভ হয় ওসমান হাদিদের জীবন দেখে। যে ক্যারিয়ার আর এস্টাবলিশমেন্ট ইমপ্যাক্ট তৈরি করতে পারে না, দেশ এবং উম্মাহর জন্য কাজে লাগে না; তার কতটুকুই বা মূল্য আছে! আমার কাছে সফলতার মানদণ্ড ইমপ্যাক্ট তৈরি করতে পারা‘‘। হাদি যথার্থই বলেছেন , ‘‘আগামী ৫০ বছর বাঁচলাম আমাকে দিয়ে কোনো ইমফেক্ট তৈরি হলো না, দেশের জন্য, রাষ্ট্রের জন্য, উম্মার জন্য, জাতির জন্য কিন্তু ধরেন আমি পাঁচ বছর বাঁচলাম সেটার মধ্যে দিয়ে আগামী পঞ্চাশ বছরের ইমফেক্ট তৈরি হয়। তাহলে কি অনেক দিনে বেচেঁ থাকা কি সাফল্যের বলেন? আমি স্বপ্ন দেখে যেতে চাই এমন টিম এবং সন্তানকে দেখে যেতে চায়আমার মুত্যুর পরে যেন এই লড়াই বন্ধ না হয়। এই লড়াই যেন বাংলাদেশে কেয়ামত পর্যন্ত জারী থাকে‘।https://www.facebook.com/share/r/17ZRpdvHPZ/

এখন আমাদের কী করা উচিত?
আমরা অনেকেই তার মতো সাহসী নই। কিন্তু আমরা তার জন্য দোয়া করতে পারি। আমরা তার কণ্ঠ না হলেও তার চেতনাকে বাঁচিয়ে রাখতে পারি। আমরা তাকে ভুলে না গিয়ে নিজের সন্তানকে বলতে পারি-“তুমি যেন ওসমান হাদীর মতো হতে পারো।”আমরা হাদি ফাউন্ডেশন করে তার চিন্তা ও দর্শন এর উপর ছাত্র-ছাত্রীদের রচনা প্রতিযোগিতা, উচ্চতুর গবেষনা করতে পারি। যেই রোডে হাদি গুলিবিদ্ধ হয়েছে উক্ত রোডের নামকরণ করতে পারি তার নামে- জাতীয় স্মরণ সভা করতে পারি‘ হাদি চত¡ের‘। আমাদেরকে হাদির লড়াই অব্যাহত রাখতে হবে; গড়তে হবে জাতীয় ঐক্য। কোন বিভাজন নয়; ভিনদেশী তাবেদারী নয়। দেশ গড়ার জন্য বাংলাদেশ পন্থী , দেশপ্রেমিক সকল শক্তির ঐক্য প্রয়োজন। হাদী ভাইয়ের কন্ঠে কন্ঠ মিলিয়ে আসুন সবাই বলি, ‘‘আমি মরে যাই, আমি শহীদ হই, আমার চার পাশের ভাই-বোনেরা, এই লড়াই যতদিন বাঁচায় রাখবে, স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব, ইনসাফ এবং সততার জন্য লড়াই করবো এটাই আমাদের জন্য জিহাদ- ইনশাআল্লাহ https://www.facebook.com/share/r/1C7irfwYcp/
ওসমান হাদী ভাই-আপনি চলে গেছেন আল্লাহর সান্নিধ্যে। আমরা মনে করি জান্নাতের পাখি হয়ে আপনি এখন বিচরণ করছেন। কিন্তু আজ মিলিয়ন হৃদয় আপনার জন্য কান্না করে। আপনি আমাদের জন্য একটি মিরর ছিলেন। আপনার কণ্ঠ হয়তো স্তব্ধ, কিন্তু আপনার আদর্শ কোটি মানুষের হৃদয়ে গেঁথে আছে । নতুন বাংলাদেশ গড়ার জন্য অনুপ্রেরণা যোগাবে যুগ যুগ ধরে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here