বাংলাদেশি প্রবাসীরা কেবল রেমিট্যান্সের উৎসই নয়, বরং উদ্ভাবন, নেতৃত্ব এবং উন্নয়নের জন্যও একটি প্রধান শক্তি।
মনজুর রাজা চৌধুরী একজন কীর্তিমান ব্যক্তিত্ব। তিনি একাধারে সমাজসেবক, শিক্ষাবিদ এবং প্রকৌশলী। তবে তাঁর সবচেয়ে বড় পরিচয় তিনি একজন কমিউনিটি ব্যক্তিত্ব। শিক্ষা-সাহিত্য-সংস্কৃতি এবং সার্বজনীন জীবনব্যবস্থার প্রচার-প্রসারে তিনি নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। তাঁর সামগ্রিক জীবন এমন একটি আলোক বিন্দুতে প্রতিভাত হয়েছে যার দরুন তাঁর জীবনোদ্দেশ্যকে সেদিকেই নিবেদিত করেছেন। মা, মাটি ও দেশমাতৃকার প্রেমে সিক্ত ব্যক্তিত্ব মনজুর রাজা চৌধুরী দেশ এবং প্রবাসে বিভিন্ন কল্যাণমূলক কর্মকাণ্ড সম্পন্ন করছেন। সমাজ এবং দেশের প্রতি তাঁর মমত্ববোধ মানুষের কাছে তাঁর সম্মান ও মর্যাদাকে প্রতিষ্ঠিত করেছে। শিক্ষার প্রসার, সমাজসেবায় তিনি এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। মনজুর রাজা চৌধুরীর জীবনধারা এমন একটি স্রোতে প্রবাহিত হয়েছে যা সার্থকতারই বহিঃপ্রকাশ। এ ক্ষেত্রে খুব বেশি মনে পড়ে জনৈক দার্শনিক ও সমাজসংস্কারের একটি বক্তব্য, ‘পৃথিবীতে যখন এসেছিস, দাগ রেখে যা’। এ কথাটি অত্যন্ত প্রযোজ্য মনজুর রাজা চৌধুরীর ক্ষেত্রে। কারণ তাঁর জীবনে তিনি যা কিছু করেছেন বা করছেন সবকিছুই সেই দাগ রাখার একটি সার্থক প্রয়াস। মনজুর রাজা চৌধুরী ইতিহাস-ঐতিহ্যের বিবেচনায় কালপ্রবাহে আটকে না থেকে মানবকল্যাণেই নিজেকে উজাড় করে দিচ্ছেন। এখানেই তাঁর ব্যক্তি স্বতন্ত্রতা।
মনজুর রাজা চৌধুরী ঐতিহ্যগত দিক দিয়ে একটি সম্ভ্রান্ত রাজ পরিবারের প্রতিনিধি। কালের বিবর্তনে এ রাজবংশের ইতিহাস-ঐতিহ্য বিলীন হলেও এর সাক্ষী প্রোজ্জ্বলভাবে সমাদৃত হয়ে আছে। ঔপনিবেশ কাল থেকে বৃহত্তর সিলেট অঞ্চল যেসকল রাজ্যে বিভক্ত ছিল, প্রতাবগড় বা জফরগড় রাজ্য ছিল তার অন্যতম। মূলত খৃস্টীয় চতুদর্শ শতাব্দীতে বর্তমান মৌলভীবাজার অঞ্চলের পূর্বাঞ্চল এলাকা নিয়ে প্রতাবগড় রাজ্য গঠিত হয়েছিল। এ রাজ্যে পাথারিয়া পরগনা বর্তমান মৌলভীবাজার অঞ্চলের অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। মনজুর রাজা চৌধুরী সে রাজবংশেরই একজন সার্থক উত্তরাধিকারী। তিনি তাঁর কর্মদ্বারা সে ইতিহাস-ঐতিহ্যকে অম্লান রেখে চলেছেন। ব্যক্তিজীবনে তিন সন্তানের জনক মনজুর রাজা চৌধুরী অবসর সময়ে বই পড়া, ভ্রমণ এবং বাগান করাকেই বেশি পছন্দ করেন।
মনজুর রাজা চৌধুরীর সামগ্রিক জীবন একটি মহত্তর বিবেচনার দাবি রাখে। ব্যক্তি, পরিবার এবং সামাজিক ক্ষেত্রে তিনি এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। শিক্ষার প্রচার-প্রসারে তিনি যে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন তা একজন প্রোজ্জ্বল ব্যক্তিত্বেরই স্মারক। ব্যক্তি, সমাজ এবং পারিপার্শ্বিক দায়বোধ তাঁর নিজস্বতায় যে নৈতিক প্রভাব ফেলেছে, তাঁর নানামুখী কার্যক্রমেই সেটা প্রতিফলিত হচ্ছে। কালবিবেচনায় তিনি যে ভূমিকা রেখে চলেছেন তা সময় অত্যন্ত নিষ্ঠার সাথে পাঠযোগ্য করে রাখবে—বিশেষ করে তাঁর আদর্শিকতা, নৈতিকতা, সামাজিক দায়বদ্ধতা এবং স্বজাত্যবোধ্যতা। প্রবাসের গণ্ডি পেরিয়েও যার মন পড়ে থাকে দেশের কোণে, তাঁর ব্যক্তিপ্রভা বিবেচনায় বলতেই হয়—তিনি একজন সার্থক মানুষ। সার্থক তাঁর মানবজীবন। জীবনের সার্বিক এবং সামগ্রিকতায় তাঁর জীবনের যে পরিপূর্ণতা তা যেন আত্মতৃপ্তিতেই পরিসমাপ্তি হয়—এটাই প্রত্যাশা। আমি তাঁর দীর্ঘজীবন কামনা করি।





