Home কমিউনিটি ফিনটেক ও এআই খাতে অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ওবিই খেতাবে ভূষিত হলেন রুহুল আমিন

ফিনটেক ও এআই খাতে অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ওবিই খেতাবে ভূষিত হলেন রুহুল আমিন

87
0

লন্ডন, ৩০ ডিসেম্বর ২০২৫: অনফিডোর সহপ্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান স্থপতি (কো ফাউন্ডার অ্যান্ড চিফ আর্কিটেক্ট) রুহুল আমিনকে ফিনটেক এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) খাতে অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ কিংস নিউ ইয়ার অনার্স ২০২৬-এ অফিসার অব দ্য অর্ডার অব দ্য ব্রিটিশ এম্পায়ার (ওবিই) হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

২০১২ সালে রুহুল আমিন অনফিডো প্রতিষ্ঠা করেন । অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের উদ্যোগ হিসেবে শুরু হওয়া প্রতিষ্ঠানটিকে তিনি বৈশ্বিক পরিচয় যাচাইকারী প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানে রূপ দিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। অনফিডোর প্রযুক্তিতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও মেশিন লার্নিং ব্যবহৃত হয়, যা নিরাপদ ডিজিটাল অনবোর্ডিং নিশ্চিত করতে এবং আইডিয়েন্টি ফ্রড (পরিচয় জালিয়াতি) শনাক্তে প্রতিষ্ঠানগুলোকে সহায়তা করে।

২০২৪ সালের এপ্রিল মাসে এনট্রাস্ট অনফিডোকে অধিগ্রহণ সম্পন্ন করে । ৬৫০ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের বেশি মূল্যের এই চুক্তির মাধ্যমে আইডিয়েন্টি যাচাই প্রযুক্তিকে এনট্রাস্টের বিশ্বস্ত পেমেন্ট, পরিচয় এবং ডেটা সুরক্ষা সমাধানের বৃহত্তর পরিসরের সঙ্গে একত্র করা হয়।

এই সম্মাননা এমন এক সময়ে আমিনের অবদানকে স্বীকৃতি দিচ্ছে, যখন আইডিয়েন্টি ফ্রড ক্রমেই রূপ বদলাচ্ছে এবং ডিপফেকসহ এআই সক্ষম ডিজিটাল জাল নথির ব্যবহার বাড়ছে। এনট্রাস্ট জানিয়েছে, বছরভিত্তিক হিসাবে ডিজিটাল ডকুমেন্ট প্রতারণার হার উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে এবং আধুনিক জিরো ট্রাস্ট পদ্ধতির অংশ হিসেবে পরিচয়কেন্দ্রিক শক্তিশালী নিরাপত্তা কাঠামোর প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেছে।

যা বললেন রুহুল আমিন :
এক প্রতিক্রিয়ায় রুহুল আমিন বলেন, ওবিই পাওয়া আমার জন্য বড় সম্মানজনক। আমরা যখন অনফিডো শুরু করি, তখন বিশ্বাস ছিল আইডিয়েন্টি যাচাই এমন হতে পারে যা নিরাপদও হবে, আবার নির্বিঘ্নও হবে, যাতে মানুষ সহজে সেবা পেতে পারে। আমরা যা গড়ে তুলেছি তা নিয়ে আমি গর্বিত, আর যাদের সঙ্গে কাজ করার সুযোগ পেয়েছি সেই অসাধারণ মানুষগুলোর প্রতি আমি আরও বেশি কৃতজ্ঞ।

এই স্বীকৃতি আমার জন্য ব্যক্তিগতভাবেও গভীর অর্থ বহন করে। আমি বাংলাদেশি অভিবাসী বাবা-মায়ের সন্তান হিসেবে পূর্ব লন্ডনে বেড়ে উঠেছি । তারা একটি উন্নত জীবনের আশায় এদেশে এসেছিলেন। তাদের কঠোর পরিশ্রম এবং শিক্ষা, কমিউনিটি ও উদ্যোক্তা মানসিকতার ওপর বিশ্বাসই পরবর্তী সবকিছুর ভিত গড়ে দেয় । আমি বিশেষভাবে আমার পরিবারের প্রতি কৃতজ্ঞ, পাশাপাশি যারা এই পথচলায় আমাকে সমর্থন করেছেন, প্রশ্ন করেছেন, চ্যালেঞ্জ করেছেন এবং বিশ্বাস রেখেছেন তাদের সবাইকে ধন্যবাদ।
প্রযুক্তি খাতের বাইরেও রুহুল আমিন কমিউনিটি ও শিক্ষা উদ্যোগে যুক্ত ছিলেন । তিনি স্বেচ্ছাসেবী কাজ করেছেন এবং তরুণদের প্রযুক্তিখাতে ক্যারিয়ার গঠনে মেন্টরিং সহায়তা দিয়েছেন।

পড়ুনঃ  গ্লোবাল জালালাবাদ এসোসিয়েশন এর উদ্যোগে মাতৃভাষা দিবস উদযাপন ও এম এ জি ওসমানীর মৃত্যু বাষির্কী পালন

উল্লেখ্য, রুহুল আমিনের দেশের বাড়ি সিলেটের দক্ষিণ সুরমা উপজেলায়। তিনি সপরিবারে পুর্ব লন্ডনের বার্কিংয়ে বসবাস করেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here