তেহরান: দেশজুড়ে ব্যাপক বিক্ষোভ ও অসন্তোষের মুখে অবশেষে নমনীয় হওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছে ইরান সরকার। ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান সরকারি কর্মকর্তাদের নির্দেশ দিয়েছেন বিক্ষোভকারীদের ‘যৌক্তিক দাবি’গুলো মনোযোগ দিয়ে শোনার জন্য। মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর ২০২৫) গার্ডিয়ানের এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।
ইরানের জাতীয় মুদ্রার (রিয়াল) রেকর্ড দরপতন এবং জীবনযাত্রার ব্যয় অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাওয়ার প্রতিবাদে গত রবিবার থেকে এই বিক্ষোভ শুরু হয়। তেহরানের প্রধান বাণিজ্যিক এলাকাগুলোতে দোকানপাট ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে ধর্মঘট পালন করেন ব্যবসায়ীরা। পরবর্তীতে এই বিক্ষোভ রাজধানী ছাড়িয়ে ইসফাহান, শিরাজ ও মাশহাদের মতো বড় শহরগুলোতেও ছড়িয়ে পড়ে।
প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘এক্স’-এ (সাবেক টুইটার) এক বার্তায় লিখেছেন, “জনগণের জীবনমান নিয়ে আমি প্রতিদিন উদ্বিগ্ন।” তিনি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে নির্দেশ দিয়েছেন বিক্ষোভকারীদের প্রতিনিধিদের সাথে সংলাপে বসতে এবং তাদের সমস্যাগুলো সমাধানের পথ খুঁজে বের করতে।
বিক্ষোভের কেন্দ্রস্থলগুলোতে নিরাপত্তা বাহিনীর সাথে আন্দোলনকারীদের সংঘর্ষের খবর পাওয়া গেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ফুটেজে দেখা গেছে, পুলিশ বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে টিয়ার গ্যাস ব্যবহার করছে। ২০২২ সালে মাহসা আমিনীর মৃত্যুর পর ইরানে এটিই সবচেয়ে বড় গণবিক্ষোভ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, মুদ্রাস্ফীতি এবং মানুষের ক্রয়ক্ষমতা কমে যাওয়া দেশটিতে চরম অর্থনৈতিক সংকট তৈরি করেছে। যদিও সরকার আলোচনার প্রস্তাব দিয়েছে, তবে অনেক বিক্ষোভকারী এবং বিশ্লেষক মনে করছেন এটি আন্দোলনের গতি দমানোর একটি কৌশল হতে পারে।
অন্যদিকে, আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও ইরান চাপের মুখে রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সোমবার ইরানকে পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে নতুন করে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। তবে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি জানিয়েছেন, পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও স্বার্থ বজায় থাকলে তেহরান ওয়াশিংটনের সাথে আলোচনার পথ খোলা রাখতে রাজি।





