Home বিশ্ব ইরানে অর্থনৈতিক সংকটে উত্তাল বিক্ষোভ এখন ‘রণক্ষেত্র’: নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতে নিহতের সংখ্যা...

ইরানে অর্থনৈতিক সংকটে উত্তাল বিক্ষোভ এখন ‘রণক্ষেত্র’: নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৭

77
0
বিক্ষোভ করছে ইরানিরা। সূত্রঃ এন ডি টিভি

ইরানে আকাশছোঁয়া দ্রব্যমূল্য এবং চরম অর্থনৈতিক সংকটের প্রতিবাদে শুরু হওয়া আন্দোলন এখন রক্তক্ষয়ী সংঘাতে রূপ নিয়েছে। নতুন বছরের শুরুতেই দেশজুড়ে ছড়িয়ে পড়া এই বিক্ষোভ দমনে নিরাপত্তা বাহিনীর কঠোর অবস্থানের কারণে পরিস্থিতি এখন এক ভয়াবহ ‘রণক্ষেত্রে’ পরিণত হয়েছে। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম ও স্থানীয় মানবাধিকার সংস্থাগুলোর দেওয়া তথ্যমতে, সংঘর্ষে এখন পর্যন্ত অন্তত ৭ জনের মৃত্যু নিশ্চিত করা হয়েছে, যার মধ্যে বিক্ষোভকারী এবং নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য উভয়ই রয়েছেন।

গত কয়েক দিনে ইরানের মুদ্রার (রিয়াল) নজিরবিহীন দরপতন এবং বার্ষিক মূল্যস্ফীতি ৪২ শতাংশ ছাড়িয়ে যাওয়ার প্রতিবাদে প্রথমে তেহরানের বাজারগুলোতে ধর্মঘট শুরু হয়। কিন্তু দ্রুতই এই ক্ষোভ রাজনৈতিক রূপ নেয় এবং তা গ্রামীণ প্রদেশগুলোতেও ছড়িয়ে পড়ে। বিশেষ করে লোরেস্তান প্রদেশের আজনা শহরে পরিস্থিতি অত্যন্ত উদ্বেগজনক। সেখানে বিক্ষোভকারীরা একটি পুলিশ সদর দপ্তরে হামলা চালালে নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতে অন্তত ৩ জন নিহত এবং ১৭ জন আহত হন। প্রত্যক্ষদর্শীদের ধারণ করা ভিডিওতে দেখা গেছে, ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন রাস্তায় বিক্ষোভকারীরা ‘শরম! শরম!’ বলে স্লোগান দিচ্ছেন এবং গুলির শব্দে চারপাশ প্রকম্পিত হচ্ছে।

সংঘর্ষ কেবল আজনাতেই সীমাবদ্ধ নেই। চাহারমাহাল ও বাখতিয়ারি প্রদেশের লোরদেগান শহরেও নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সরাসরি লড়াইয়ে দুই বিক্ষোভকারীর মৃত্যু হয়েছে। অন্যদিকে, কুহদাশত শহরে বিক্ষোভকারীদের হামলায় বাসিজ (আধা সামরিক বাহিনী) এর ২১ বছর বয়সী এক সদস্য নিহত হয়েছেন বলে দাবি করেছে ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম। এই প্রথম চলমান আন্দোলনে নিরাপত্তা বাহিনীর কোনো সদস্যের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেল, যা সরকারের পক্ষ থেকে আরও কঠোর দমনপীড়নের পথ প্রশস্ত করতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

ইরানের বর্তমান অর্থনীতি খাদের কিনারে দাঁড়িয়ে আছে। গত বছরের জুন মাসে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের বিমান হামলায় ইরানের পারমাণবিক ও সামরিক অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পর থেকে দেশটির আর্থিক অবস্থা আরও শোচনীয় হয়ে পড়ে। প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান বিক্ষোভকারীদের জীবিকার সংকটকে ‘যৌক্তিক’ বলে স্বীকার করলেও সহিংসতার জন্য বিদেশি মদতপুষ্ট ষড়যন্ত্রকারীদের দায়ী করেছেন। ইতিমধ্যে অন্তত ৩০ জনকে তেহরান থেকে এবং সাতজনকে বিদেশি গোষ্ঠীর সঙ্গে যুক্ত থাকার অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

পড়ুনঃ  বিশ্ব রাজনীতিতে উত্তেজনা: তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ কি ইতিমধ্যেই শুরু হয়ে গেছে?

মানবাধিকার সংস্থাগুলো বলছে, ২০২২ সালের মাহসা আমিনির মৃত্যুর পর এটিই ইরানে সবচেয়ে বড় গণবিক্ষোভ। যদিও এবারের আন্দোলনের মূল কারণ অর্থনীতি, কিন্তু রাজপথে শোনা যাচ্ছে ‘মোল্লাতন্ত্র নিপাত যাক’ এবং রাজতন্ত্র ফিরিয়ে আনার মতো সরকারবিরোধী কড়া স্লোগান। সরকার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে গত বুধবার দেশজুড়ে সাধারণ ছুটি ঘোষণা করলেও আন্দোলনকারীরা দমে যাননি। বরং মারভদাশত, কেরমানশাহ এবং হামেদানের মতো শহরগুলোতে রাতভর বিক্ষোভ ও সংঘর্ষের খবর পাওয়া যাচ্ছে। ইরান সরকার ইন্টারনেট সেবা সীমিত করার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে, যাতে আন্দোলনের প্রকৃত চিত্র বিশ্ববাসীর কাছে পৌঁছাতে না পারে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here