Home ইউকে ব্রিটিশ হতে হলে ব্রিটেনে জন্মাতে হবে – এমন ধারণা বাড়ছে।

ব্রিটিশ হতে হলে ব্রিটেনে জন্মাতে হবে – এমন ধারণা বাড়ছে।

105
0

সাম্প্রতিক এক গবেষণায় ব্রিটিশ জনগণের জাতীয় পরিচয় সংক্রান্ত দৃষ্টিভঙ্গিতে এক নাটকীয় পরিবর্তনের চিত্র ফুটে উঠেছে, যা আধুনিক ব্রিটেনের বহুত্ববাদী কাঠামোর ওপর নতুন করে আলোকপাত করে। ‘ইন্সটিটিউট ফর পাবলিক পলিসি রিসার্চ’ (IPPR) এবং জনপ্রিয় জরিপ সংস্থা ‘ইউগভ’ (YouGov) পরিচালিত এই যৌথ গবেষণায় দেখা গেছে যে, ব্রিটেনে এমন মানুষের সংখ্যা ক্রমান্বয়ে বৃদ্ধি পাচ্ছে যারা মনে করেন প্রকৃত ‘ব্রিটিশ’ হয়ে ওঠার জন্য সে দেশে জন্মগ্রহণ করা একটি অপরিহার্য শর্ত। গত দুই বছরের পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, ২০২৩ সালে যেখানে মাত্র ১৯ শতাংশ মানুষ মনে করতেন যে ব্রিটিশ হতে হলে ব্রিটেনে জন্মানো প্রয়োজন, সেখানে ২০২৫ সালের শেষ নাগাদ সেই সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়ে প্রায় ৩৬ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। অর্থাৎ, মাত্র দুই বছরের ব্যবধানে এই নির্দিষ্ট মনোভাব পোষণকারী নাগরিকের সংখ্যা প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে।

​এই দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তনের পেছনে রাজনৈতিক মতাদর্শের এক গভীর প্রভাব লক্ষ্য করা গেছে। বিশেষ করে নাইজেল ফারাজের নেতৃত্বাধীন ‘রিফর্ম ইউকে’ (Reform UK) দলের সমর্থকদের মধ্যে জাতীয় পরিচয় নিয়ে কট্টরপন্থী মনোভাব সবচেয়ে বেশি প্রকট হয়ে উঠেছে। জরিপের তথ্য অনুযায়ী, এই দলের প্রায় ৭১ শতাংশ সমর্থক বিশ্বাস করেন যে ব্রিটিশ বংশোদ্ভূত হওয়া নাগরিকত্বের প্রধান মাপকাঠি হওয়া উচিত। আরও উদ্বেগের বিষয় হলো, এই দলের প্রায় ৫৯ শতাংশ সমর্থক মনে করেন যে ব্রিটেন কোনো নাগরিক বা সামাজিক মূল্যবোধের ভিত্তিতে গড়ে ওঠা সম্প্রদায় নয়, বরং এটি মূলত একটি নির্দিষ্ট জাতিগত গোষ্ঠী। এমনকি এই জনমত জরিপে অংশ নেওয়া ১০ শতাংশ রিফর্ম ইউকে সমর্থক সরাসরি মনে করেন যে, আদর্শ ব্রিটিশ নাগরিক হওয়ার জন্য শ্বেতাঙ্গ হওয়া একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দিক।

​আইপিপিআর-এর সহযোগী পরিচালক পার্থ প্যাটেল এই গবেষণার ফলাফল বিশ্লেষণ করতে গিয়ে জানান যে, গত কয়েক বছরে ব্রিটিশ রাজনীতিতে অভিবাসন এবং জাতীয় ঐতিহ্য নিয়ে যে তীব্র বিতর্ক তৈরি হয়েছে, তার সরাসরি প্রভাব পড়ছে সাধারণ মানুষের মনস্তত্ত্বে। তিনি উল্লেখ করেন যে, একসময় ব্রিটিশ পরিচয় বলতে মূলত উদারনৈতিক গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ এবং আইনানুগ নাগরিকত্বকে বোঝানো হতো, কিন্তু বর্তমান প্রেক্ষাপটে সেই ধারণা ধীরে ধীরে জাতিগত এবং বংশগত শ্রেষ্ঠত্বের দিকে ধাবিত হচ্ছে। এই প্রবণতাটি ব্রিটিশ সমাজের অন্তর্নিহিত বিভক্তিকে আরও স্পষ্ট করে তুলছে।

পড়ুনঃ  দুই সপ্তাহের সার্কিট লকডাউন এর পরিকল্পনা

​সামগ্রিকভাবে এই প্রতিবেদনটি ইঙ্গিত দেয় যে, ব্রিটিশ জনগণের একটি বড় অংশ এখনো বহুসংস্কৃতিবাদ এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক জাতীয় পরিচয়ে বিশ্বাস রাখলেও, একটি ক্রমবর্ধমান সংখ্যালঘু অংশ এখন জাতীয় পরিচয়কে কেবল জন্মস্থান এবং জাতিসত্তার সাথে সীমাবদ্ধ রাখতে চাইছে। এই মানসিকতার পরিবর্তন ভবিষ্যতে ব্রিটেনের সামাজিক সংহতি এবং অভিবাসন নীতি নির্ধারণে বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here