— সিরাজুল ইসলাম শাহীন।
মানব জমিন সম্পাদক মতিউর রহমান চৌধুরীকে কাছের লোকজন মতি ভাই বলে ডাকেন। এই উচ্চারণের মধ্যে শ্রদ্ধা ও আবেগের সংমিশ্ৰণ আছে। সরাসরি কথা না হলেও প্রসঙ্গ আসলে এই নামেই ডাকি। মনে হয় এটি তার ব্যাক্তিত্বের অর্জন। যদিও আদর্শিক অবস্থান যোজন যোজন দূরত্বে। জাতীয় অগ্রগতির স্বার্থে ইনক্লুসিভ যাত্রা পথে উনাদের নির্মোহ বিশ্লেষণ, সাহসী ও সত্য উচ্চারণ কাম্য ছিল। দূরের নাটাই ছিন্ন করে আত্বমর্যাদাশীল দেশ গঠনে ব্রতী হবেন। জুলাই উত্তর নতুন বাংলাদেশ বিনির্মানে জাতীয় আকাঙ্খার অনুগামী হয়ে নিজেদের অন্তত এখন বদলাবেন। কিন্তু আফসোস, তথৈ বচ !
গতকাল বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সাথে মতবিনিময়ে পুরোনো গণভবন নাটকের মত তোষামোদী করতে দেখা গেল (লিংক কমেন্টে )। একই সাথে অত্যন্ত আপত্তিকর দুটি রেটরিক, ” মব ও উগ্রবাদ ” উপস্থাপন করে জুলাই বিপ্লবীদের মনে ছুরিকাঘাত করেছেন অন্ধের মত। অথচ পতিত ফ্যাসিবাদী গোষ্ঠী ও তাদের পৃষ্ঠপোষকদের অবিরাম ব্যবহৃত এই বিষাক্ত অস্ত্র দুটির কোন বাস্তব ভিত্তি নাই। বরং ২৪ এর অসাধারন বিপ্লব বিতর্কিত করতে শুরু থেকেই সুপরিকল্পিত ভাবে এসব বলে চিৎকার করা হচ্ছে।
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্বের পর আজ পর্যন্ত হিটলারের দল সেই দেশে শুধু নিষিদ্বই নয়, নাৎসী আদর্শের পক্ষের কারো নাগরিকত্ব থাকে না। অথচ আওয়ামীলীগ ও তার দোসরদের পুনর্বাসনের অপচেষ্টা এখানে এখনই দৃশ্যমান। বিডিআর ম্যাসাকার, ট্রাইব্যুনাল কেলেঙ্কারী, আয়নাঘর বীভৎসতা ও নির্বাচন প্রক্রিয়া ধ্বংসের পরেও আওয়ামীলীগ নিষিদ্ব ও বিচার নিয়ে টালবাহানায় ক্ষোভ সৃষ্টি হওয়াটা খুবই স্বাভাবিক। জুলাই গনহত্যা ও শহীদ হাদীর ন্যায়বিচার নিয়ে তামাশা অসহনীয়। প্রথম আলো -ডেইলী ষ্টারদের ফ্যাসিবাদী আমলের ধারাবাহিকতায় আধিপত্যবাদী ও ইসলামবিদ্বেষী অব্যাহত উস্কানী দেশপ্রেমিক জনগণ মেনে নিতে পারে না।
সহস্র সন্তানের রক্তের সাথে এইসব গাদ্দারি দেখে নেমে আসে গন প্রতিবাদ। এটা মুক্তি পাগল মানুষের অধিকার আদায়ের শেষ বাহন। বঞ্চনার এই তাড়না থেকেই ৪৭, ৫২, ৭১, ৬৯, ৯০ হয়ে ২৪ ঘটেছে। আমরা পেয়েছি স্বাধীনতা, অধিকার, গনতন্র ও ফ্যাসিবাদ মুক্ত জীবন। সুতরাং এ সব লড়াই কোনদিন মব নয়। জন আকাঙ্খার বিপরীতে অবস্থান নেয়া সংশ্লিষ্ট মহল ও সরকারের নীতিনির্ধারক কর্তৃপক্ষই এজন্য দায়ী। মূল কার্যকারণ স্বীকার করে সমাধানের পথে গাইড করার পরিবর্তে ” মব ” বলে আগুনে ঘৃতাহুতি দিয়ে তৃতীয় পক্ষের উদ্দেশ্য সাধন করা হয়।
৫ আগস্টের পর থেকে মন্দির, হিন্দু বসতবাড়ী পাহারা দিয়েছেন জামায়াত, শিবির, মাদ্রাসার শিক্ষার্থী ও ওলামায়ে কেরামগণ। মাজার ভাঙা সহ কিছু দুঃখজনক ঘটনার তাৎক্ষণিক প্রতিবাদ করেছেন তারা। এ পর্যন্ত কোন তদন্তে মূলধারা ইসলামী মহলের দূরতম সম্পর্কের কোন প্রমান নেই। ওবায়দুল কাদেরের পূর্ব ঘোষনা অনুযায়ী হাসিনার পতনের কদিনে কমপক্ষে ৫ লাখ নিহত হওয়ার কথা। আজ পর্যন্ত ১৮ মাস গত হলেও এমন কিছুই ঘটেনি। বিপ্লব উত্তর পরিস্থিতিতে বিক্ষোব্দ জনসাধারণের এমন ধৈর্য্যের নজির বিরল। জুলাই বিপ্লবীদের অন্তত এ জন্য মতি ভাইয়েরা ধন্যবাদ দিতে পারতেন। কিন্তু পারেন নি। উলটো ” উগ্রবাদের ” কাল্পনিক উথখানের কথা বলে গোটা বিপ্লব অপমান করেছেন।
ইসলামী রাজনীতি তথা জামায়াত শিবিরের অগ্রযাত্রা দেখে দূরের নাটাইয়ের টানে পুরোনো গান গেয়ে লাভ নেই। মুসলিম জাতি রাষ্ট্রের উন্নতি রোধে এসব পশ্চিমা ও ইসলামের দোষমনদের ভোঁতা অস্ত্র।মূলত ইসলামের সাথে উগ্রবাদের কোন স্থান নেই। সম্রাট আওরঙ্গজেবের ভারতবর্ষের সাথে এখনকার মোদী বাবুর দিল্লীর এখানেই মৌলিক পার্থক্য। জেন ”G” দের এই সময়ে সত্য এখন আপন চোখে দেখা যায়। এইজন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের মেধাবী ছাত্রছাত্রীরা সিদ্ধান্ত নিতে দেরি করে না। জীবন দিতে এবং প্রতিরোধ করতেও জানে। আর তাদের সাথে মাবাবা, শিশুকিশোর, বৃদ্ববৃদ্ধারাও রাজপথে নামেন। তাই এখন সময়, বদলানোর। নিজেকে বদলিয়ে দেশ গড়ার শপথ নেয়ার।
লন্ডনে সাঈদী সাহেবের একটি হাল্কাচ্ছলে কথা থেকে মতি ভাই সেদিন অপ সাংবাদিকতা করেছিলেন। আগুন লাগিয়ে দিয়েছিলেন লন্ডন থেকে সিলেট হয়ে দেশের রাজনীতিতে। অনুশোচনা করেন কি না, জানিনা। জীবনের শেষ সময়ে অনেক কাঠ খড় পুড়িয়ে এসেছেন। রঙিন চশমাটা খুলুন। বিবেকের জানালায় দেখুন। জানতে চাইলে সুযোগ দিন। সুযোগ নিন। আপনারা বদলালে নতুন জেনারেশন সহজেই দেশটা স্বপ্নের মত সাজাতে সক্ষম হবে। চার খলিফার একজন নূরে আলম সিদ্দিকী বঙ্গবন্ধুর সামনে সত্য বলতে পেরেছিলেন। সেক্টর কমান্ডার মেজর জলিল বিজয়ের মাস না যেতেই প্রতিবাদী হয়েছিলেন। আপনারাও পারবেন।
নিজের মনের এই আকুতি রেখে আজকের মত সমাপ্তি টানছি, ” যুদ্ব করে দেশ স্বাধীন করা মতি ভাইয়েরা কি বদলাবেন না, এখনো ” ?
sirajulislamshaheen@yahoo.com; 11/01/2026; London 13.30.




