এইচআরএসএস-এর নিন্দা, প্রতিবাদ ও গভীর উদ্বেগ
২৯ জানুয়ারি, ২০২৬
মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস সাপোর্ট সোসাইটি (এইচআরএসএস) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রচারণাকালে দেশের অন্তত ৮টি জেলায় বাংলাদেশ জামাতে ইসলামীর নারী কর্মীদের উপর হামলা, হেনস্থা, হিজাব খুলতে জোরাজুরি, শারীরিক নির্যাতন, ছিনতাই, অবরুদ্ধকরণ, এবং লাঞ্ছনার ঘটনায় তীব্র নিন্দা, প্রতিবাদ এবং গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করছে। এসব ঘটনা শুধু নারীদের ব্যক্তিগত নিরাপত্তা নয়, বরং বাংলাদেশের নারীদের ভোটাধিকার গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া, লৈঙ্গিক সমতা, ধর্মীয় ও মত প্রকাশের স্বাধীনতার মৌলিক ভিত্তিকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে।
সাম্প্রতিক সময়ে গণমাধ্যমের ও এইচআরএসএস এর সংগৃহীত তথ্য অনুযায়ী, লালমনিরহাটের হাতীবান্ধায় বিএনপি নেতাকর্মীরা মহিলা জামায়াত কর্মীদের হিজাব খুলতে জোরাজুড়ি করলে সংঘর্ষ ঘটে যাতে অন্তত ২০ জন আহত হন; একই দিন চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গায় নারী কর্মীদের প্রচারে বাধা ও হামলায় ১৩ জন আহত; টাঙ্গাইলের গোপালপুরে পর্দানশীন নারীর তলপেটে লাথি মারা; যশোরের ঝিকরগাছায় যুবদল নেতা আরাফাত রহমান কল্লোলের নেতৃত্বে ১০ জন নারীকে মারধর ও হেনস্থা, মোবাইল ও ব্যাগ ছিনতাই; মিরপুরের পীরেরবাগে নারী কর্মীদের ৪ ঘণ্টা আটক রেখে হেনস্থা ও তাদের উদ্ধারে আসা জামাতের পুরুষ কর্মীদের সাথে বিএনপির সংঘর্ষে ১৬ জন আহত; কেরানীগঞ্জে নারীদের ওড়না ছিঁড়ে লাথি-ঘুষি; লক্ষ্মীপুরে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রচারে বিএনপির বাধা প্রদান ও সংঘর্ষে নারী কর্মী সহ ৬ জন আহত; নাটোরে ছাতনি সেন্টারে জামাতের নারী কর্মীদেরকে গালিগালাজ, লাঞ্ছনা; পাবনায় বুদেরহাটে ধাক্কাধাক্কি, হুমকি প্রদর্শণ; মেহেরপুরে গহরপুরে হেনস্থা; ঢাকা-৪ আসনে কাইল্লা পট্টিতে বিএনপি কর্মী দ্বারা জামাত এর মহিলা কর্মী মারিয়া বেবীর উপর রামদা দিয়ে হামলা; ভোলায় জামাতের প্রচারকালে এক নারী কর্মীকে বিএনপি নেতার লাঠি দিয়ে মাথায় আঘাত এবং কানের লোতি ছিঁড়ে ফেলা, এমতাবস্থায় ভুক্তভোগী নারীর সাহায্যে তার অন্তস্বত্ত্বা কন্যা এগিয়ে এলে তাকে আঘাত করে আহত করা। এসব ঘটনায় প্রশাসনের নীরবতায় জনমনে ক্ষোভ বৃদ্ধি করছে। এইচআরএসএস মনে করে, এ ধরনের লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতা নারীদের রাজনৈতিক অংশগ্রহণকে ভয় দেখিয়ে গণতন্ত্রকে দুর্বল করে এবং আন্তর্জাতিক মানবাধিকার চুক্তিসমূহ লঙ্ঘন করে।
মানবাধিকার সংগঠন এইচআরএসএস-
এসব ঘটনার সঙ্গে জড়িত সকল দায়ীদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার জোরালো দাবি জানাচ্ছে;
অবিলম্বে স্বচ্ছ, নিরপেক্ষ ও কার্যকর তদন্ত পরিচালনা এবং নির্বাচন কমিশনের তৎক্ষণাৎ হস্তক্ষেপের আহ্বান জানাচ্ছে;
সারাদেশে জামায়াতসহ সকল রাজনৈতিক দলের নারী কর্মীদের নির্বাচনী প্রচারণাকালীন নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে জেলা প্রশাসন, পুলিশ, সেনাবাহিনী ও নির্বাচন কমিশনের কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানাচ্ছে;
সকল রাজনৈতিক দলকে নির্বাচনী আচরণবিধি মেনে নারী কর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আহ্বান জানাচ্ছে এবং ভবিষ্যতের জন্য নারী কর্মীদের প্রশিক্ষণ ও সুরক্ষা ব্যবস্থা গ্রহণের জোড় দাবী জানাচ্ছে।
এইচআরএসএস দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করে, নারীদের সুরক্ষিত রাজনৈতিক অংশগ্রহণ ছাড়া সত্যিকারের গণতন্ত্র, লৈঙ্গিক সমতা এবং মানবাধিকার সুরক্ষা অসম্ভব। এমনিতেই বাংলাদেশের রাজনীতিতে ও নির্বাচনী প্রচারনায় নারীদের অংশগ্রহণ আশানূরুপ নয়। এসব হামলার বিরুদ্ধে রাষ্ট্র, সমাজ, গণমাধ্যম, আন্তর্জাতিক সংস্থা ও সচেতন নাগরিকদের সম্মিলিত সোচ্ছার হওয়া জরুরি।
মানবাধিকার সংগঠন এইচআরএসএস অবিলম্বে এই সহিংসতা বন্ধ, দোষীদের শাস্তি এবং নির্বাচনী প্রচারণাকালীন সকল নারী কর্মীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য সংশ্লিষ্ট সকলের কার্যকর ভূমিকা প্রত্যাশা করছে। এটি ছাড়া নারী ভোটারদের মধ্যে ভীতি ছড়িয়ে যেতে পারে যা সুষ্ঠু নির্বাচনী প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্থ ও ক্ষতিগ্রস্থ করতে পারে।



