Home বিশ্ব ইরানের সর্বোচ্চ নেতার ছেলের বিরুদ্ধে বৈশ্বিক সম্পত্তি সাম্রাজ্য গড়ার অভিযোগ — অনুসন্ধানী...

ইরানের সর্বোচ্চ নেতার ছেলের বিরুদ্ধে বৈশ্বিক সম্পত্তি সাম্রাজ্য গড়ার অভিযোগ — অনুসন্ধানী প্রতিবেদন

103
0


তেহরান/লন্ডন: ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির ছেলে মোজতবা খামেনি বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বিলিয়ন ডলার মূল্যের একটি গোপন সম্পত্তি ও বিনিয়োগ সাম্রাজ্য গড়ে তুলেছেন—এমন অভিযোগ উঠে এসেছে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম ব্লুমবার্গ ও এনডিটিভির যৌথ অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, যুক্তরাজ্য, সংযুক্ত আরব আমিরাত, জার্মানি, স্পেন, ফ্রান্স ও কানাডায় ছড়িয়ে থাকা একাধিক বিলাসবহুল সম্পত্তি ও বাণিজ্যিক বিনিয়োগ এই নেটওয়ার্কের অংশ। তবে এসব সম্পত্তির মালিকানা সরাসরি মোজতবা খামেনির নামে নয়; বরং শেল কোম্পানি, মধ্যস্থতাকারী ও অফশোর করপোরেট কাঠামোর মাধ্যমে নিয়ন্ত্রিত হচ্ছে বলে দাবি করা হয়েছে।
লন্ডনসহ ইউরোপে উচ্চমূল্যের সম্পত্তি
অনুসন্ধানে উল্লেখ করা হয়েছে, লন্ডনের অভিজাত এলাকা দ্য বিশপস অ্যাভিনিউ—যা ‘বিলিয়নেয়ার্স রো’ নামে পরিচিত—এ একাধিক উচ্চমূল্যের সম্পত্তির সঙ্গে এই নেটওয়ার্কের সংযোগ রয়েছে। এছাড়া দুবাইয়ে বিলাসবহুল ভিলা, জার্মানির ফ্রাঙ্কফুর্টে বাণিজ্যিক ভবন, স্পেনের মায়োরকায় পাঁচ তারকা হোটেল এবং কানাডার টরন্টোতে ফোর সিজনস রেসিডেন্সে একটি পেন্টহাউসের কথাও প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।
নিষেধাজ্ঞা এড়িয়ে অর্থ স্থানান্তরের অভিযোগ
প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, এসব বিনিয়োগের একটি বড় অংশের অর্থ এসেছে ইরানি তেল রপ্তানি থেকে অর্জিত রাজস্ব থেকে, যা আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা এড়িয়ে বিভিন্ন ব্যাংকিং চ্যানেল ও করপোরেট কাঠামোর মাধ্যমে বিদেশে স্থানান্তর করা হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এতে আন্তর্জাতিক আর্থিক ব্যবস্থার স্বচ্ছতার ঘাটতি এবং নিষেধাজ্ঞা কার্যকরের দুর্বলতা স্পষ্ট হয়েছে।
আলি আনসারি ও মধ্যস্থতাকারী নেটওয়ার্ক
এই আর্থিক নেটওয়ার্কের সঙ্গে ইরানি ব্যবসায়ী আলি আনসারি-র সংশ্লিষ্টতার কথাও উঠে এসেছে। তিনি যুক্তরাজ্যের নিষেধাজ্ঞার আওতায় রয়েছেন এবং ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (IRGC)-এর সঙ্গে আর্থিক সংযোগের অভিযোগে অভিযুক্ত।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইউরোপ ও ক্যারিবীয় অঞ্চলে নিবন্ধিত একাধিক কোম্পানির মাধ্যমে সম্পত্তি ব্যবস্থাপনা ও অর্থ স্থানান্তরের কাজ পরিচালিত হয়েছে। এসব কোম্পানির মধ্যে রয়েছে Ziba Leisure Ltd., Birch Ventures Ltd., A&A Leisure Ltd. এবং Midas Oil Trading DMCC।
তবে আলি আনসারি অভিযোগ অস্বীকার করে জানিয়েছেন, মোজতবা খামেনির সঙ্গে তার কোনো আর্থিক সম্পর্ক নেই এবং তিনি যুক্তরাজ্যের নিষেধাজ্ঞার বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নেবেন।
রাজনৈতিক প্রভাব ও উত্তরাধিকার প্রসঙ্গ
৫৬ বছর বয়সী মোজতবা খামেনিকে ইরানের সর্বোচ্চ নেতার সম্ভাব্য উত্তরসূরি হিসেবে বিবেচনা করা হয়। যদিও তিনি জনসমক্ষে খুব কমই উপস্থিত হন, তবে দেশটির রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা কাঠামোর ভেতরে তাকে প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব হিসেবে দেখা হয়।
প্রতিবেদন প্রকাশের পর ইরানের ক্ষমতাসীন অভিজাতদের সম্পদ, দুর্নীতি এবং অর্থপাচার সংক্রান্ত অভিযোগ নতুন করে আলোচনায় এসেছে।
জনমনে প্রতিক্রিয়া ও আন্তর্জাতিক উদ্বেগ
ইরানের চলমান অর্থনৈতিক সংকট, উচ্চ মূল্যস্ফীতি ও বেকারত্বের প্রেক্ষাপটে এই অভিযোগ দেশটির সাধারণ জনগণের মধ্যে ক্ষোভ আরও বাড়াতে পারে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।
একই সঙ্গে ইউরোপ ও যুক্তরাজ্যের নীতিনির্ধারকদের জন্য এটি নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে—নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকা রাজনৈতিক অভিজাতদের বিদেশি সম্পদ কীভাবে এত বছর ধরে নজর এড়িয়ে পরিচালিত হয়েছে।
তদন্ত অব্যাহত
প্রতিবেদন অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর নিয়ন্ত্রক সংস্থা ও আর্থিক তদারকি কর্তৃপক্ষ ইতোমধ্যে বিষয়টি পর্যালোচনা শুরু করেছে। ভবিষ্যতে আরও নিষেধাজ্ঞা, সম্পদ জব্দ বা আইনি তদন্ত শুরু হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

পড়ুনঃ  আফগান হাসপাতালে হামলা : নিহতদের মধ্যে রয়েছেন সিনিয়র তালেবান কমান্ডারও

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here