ক্যারিবীয় অঞ্চলের দেশ গ্রেনেডার সাথে বাংলাদেশের আনুষ্ঠানিক কূটনীতিক সম্পর্ক স্থাপন হয়েছে। লন্ডনে বাংলাদেশ হাইকমিশন একটি যৌথ ঘোষণা স্বাক্ষরের মধ্য দিয়ে দুই দেশের মধ্যে কূটনীতিক সম্পর্কের আনুষ্ঠানিক সূচনা হয়।
বাংলাদেশ ও গ্রেনাডা উভয় দেশই ১৭ সেপ্টেম্বর ১৯৭৪ সালে জাতিসংঘের সদস্যপদ লাভ করে। পরবর্তী বছরগুলোতে দুই দেশের মধ্যে বিভিন্ন ধরনের যোগাযোগ ও আদান-প্রদান অব্যাহত থাকলেও এতদিন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপিত হয়নি।
বৃহস্পতিবার বিকেলে লন্ডনে দুই দেশের পক্ষে যৌথ ঘোষণায় স্বাক্ষর করেন যুক্তরাজ্যে বাংলাদেশের হাইকমিশনার আবিদা ইসলাম ও যুক্তরাজ্যে গ্রেনাডার হাইকমিশনার রাচের ক্রোনি। লন্ডনে বাংলাদেশ হাইকমিশনে এই আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হয়।
বাংলাদেশের হাইকমিশনার আবিদা ইসলাম তার বক্তব্যে এই কুটনীতিক আনুষ্ঠানিকতাকে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র সম্পর্কের ইতিহাসে এক গুরুত্বপূর্ণ ও স্মরণীয় মুহূর্ত হিসেবে বর্ণনা করেন।
তিনি বলেন, “মাননীয় প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনুসের নেতৃত্বাধীন উপদেষ্টা পরিষদের অনুমোদিত এই ঐতিহাসিক পদক্ষেপ দক্ষিণ–দক্ষিণ সহযোগিতার এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা নির্দেশ করে।”
হাইকমিশনার আবিদা ইসলাম বলেন, এটি কেবল একটি কূটনৈতিক আনুষ্ঠানিকতা নয়; বরং দক্ষিণ এশিয়া ও ক্যারিবীয় অঞ্চলের মধ্যে একটি সেতুবন্ধন। পারস্পরিক শ্রদ্ধা এবং ন্যায়সংগত বৈশ্বিক ব্যবস্থার জন্য অভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গির ওপর এ সম্পর্কের ভিত্তি গড়ে উঠছে।
কমনওয়েলথভুক্ত রাষ্ট্র হিসেবে আমরা সার্বভৌমত্বের মূল্য এবং জাতি গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় দৃঢ়তা গভীরভাবে উপলব্ধি করি।
তিনি বলেন, উভয় দেশ কমনওয়েলথের সদস্য হিসেবে একটি অনন্য ঐতিহাসিক যোগসূত্র রয়েছে। “আমরা একসঙ্গে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আমাদের কণ্ঠ আরও জোরালো করব।
তিনি বলেন, দুর্যোগ সহনশীলতায় বাংলাদেশের বৈশ্বিক নেতৃত্ব এবং ক্ষুদ্র দ্বীপ উন্নয়নশীল রাষ্ট্রসমূহ (SIDS)-এর মধ্যে গ্রেনাডার প্রভাবশালী অবস্থানকে একত্রিত করে একটি শক্তিশালী জোট গড়ে তোলা যেতে পারে।
বাংলাদেশের ঔষধ ও বস্ত্রখাতে বৈশ্বিক সক্ষমতা এবং ক্যারিবীয় অঞ্চলে গ্রেনাডার কৌশলগত অবস্থানকে কাজে লাগিয়ে বাণিজ্য ও শিল্প সম্প্রসারণে একযোগে কাজ করা হবে বলে উল্লেখ করেন হাইকমিশনার আবিদা ইসলাম।
পারস্পরিক সম্পৃক্ততা আরও গভীর করবে— যেখানে আমাদের দেশসমূহ ন্যায্য উন্নয়ন ও জলবায়ু ন্যায়বিচারের পক্ষে নিরন্তরভাবে সোচ্চার।
অনুষ্ঠানে গ্রেনাডার হাইকমিশনার রাচের ক্রোনি বলেন, বাংলাদেশ ও গ্রেনাডা উভয়ই কমনওয়েলথের সদস্য। উভয় দেশ কমনওয়েলথের নীতি – গণতন্ত্র, উন্নয়ন, আইনের শাসন এবং বহুপাক্ষিক সহযোগিতার অভিন্ন নীতির দ্বারা আবদ্ধ।
গ্রেনাডার হাইকমিশনার বলেন, গ্লোবাল সাউথের উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে বাংলাদেশ ও গ্রেনাডা বহু ক্ষেত্রে অভিন্ন চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি— বিশেষত জলবায়ু পরিবর্তন, টেকসই উন্নয়ন এবং অর্থনৈতিক সহনশীলতার ক্ষেত্রে।
আনুষ্ঠানিক কূটনৈতিক সম্পর্ক প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ, শিক্ষা ও সক্ষমতা বৃদ্ধি, জলবায়ু কর্মকাণ্ডসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সহযোগিতার নতুন দ্বার উন্মোচিত হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
একই সঙ্গে, জাতিসংঘ ও কমনওয়েলথসহ বহুপাক্ষিক ফোরামে বাংলাদেশ ও গ্রেনাডার পারস্পরিক সম্পৃক্ততা আরও গভীর করবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।




