— সিরাজুল ইসলাম শাহীন।
জুলাই বিপ্লব উত্তর জাতীয় নির্বাচনে গনমানুষের প্রকৃত আজাদী নিশ্চিত হয়ে ফ্যাসিবাদী অপশাসনের কবর রচনাই কাম্য। রাজনৈতিক সাংস্কৃতিক সামাজিক সংগঠন ও ব্যাক্তিত্বগন এই নীতিগত বিষয় সামনে নিয়ে কার্যকরভাবে এগিয়ে আসতে পারলে নতুন বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্ন বাস্তবে রূপায়িত হতে পারে। ১২ ফেব্রুয়ারি অবাধ, সুষ্ট ও উৎসবমুখর পরিবেশে নিজ নিজ ভোটাধিকার প্রয়োগ করে তা পূরণের প্রত্যাশা দেশবাসীর।
তবে শেষ মুহূর্তে এসে স্বভাবিকভাবে কার্যকর সকলের আসল চেহারা প্রকাশ হতে যাচ্ছে। কোন কোন মহলের কথায় কাজের বিস্তর ফারাক অথবা অজ্ঞতা রীতিমত বেদনাদায়ক। মুখে ফ্যাসিবাদ বিরোধিতা ও জুলাই বিপ্লবের পক্ষের শক্তি দাবি করে এখন প্রকাশ্যে পতিত খুনীবাহিনীর রক্ষকের ভূমিকায় অবতীর্ন হচ্ছেন ভোটের আশায়। অন্যরা শুধুমাত্র দলীয় হীন স্বার্থে বা হিংসায় জ্বলে এদের সহায়ক হয়ে যাচ্ছেন। কোন কোন ক্ষেত্রে স্থানীয় ভোটারদের উপর বেইনসাফী চাপিয়ে দেয়া হয়েছে। জোটগত আসন বাড়াতে গিয়ে দুর্বল প্রার্থী দিয়ে সম্ভাবনাময় যোগ্যদের সরিয়ে দিতে হয়েছে ঐক্য ধরে রাখতে। আগামীতে সংশ্লিষ্টদের কাছে আরো উদারতা ও বিচক্ষণতা আশা করা বাঞ্চনীয়।
বিশেষ করে বিএনপি ও উলামায়ে কেরামের কোন কোন অংশে ফ্যাসিবাদী গোলামী আচরণ রীতিমত অবিশ্বাস্য। প্রমাণিত মিথ্যা দিয়ে অনর্গল বলে যাচ্ছেন নেতা -কর্মীরা। পুরোনো ট্যাগিং- ফ্রেমিং- ত্রাস চালিয়ে যাচ্ছেন নির্লজ্জ্বভাবে। বামেরা যথারীতি একচামচ এগিয়ে নির্বাচন কমিশনে আমীরে জামায়াতের প্রার্থিতা বাতিলের হাস্যকর দাবি করে এসেছেন। রক্তপিপাসু হাসিনাকে কওমি জননী উপাধিদাতাদের সাথে ফুলতলী ও শাহবাগী সহ ফ্যাসিবাদের সুবিধাভূগীরা ঐপক্ষ নিয়ে ফেলেছেন। চরমোনাই থেকে গোপন বার্তা গেছে একইদিকে। যে কারনে বাবুনগরী ও পীর সাহেবে চরমোনাইর ফতোয়ার কামান ছুটছে একই টার্গেটে। বায়তুল মোকাররমের খতিব পর্যন্ত মাসলকের বৃত্ত থেকে বের হতে পারছেন না। তাঁর খুৎবা গণভোটে ‘না’ এবং সন্ত্রাস-চাঁদাবাজি-দুর্নীতির পক্ষে গেলে জাতীয় বিপর্যয়ের দায় যে নিতে হবে, এইটুকু খেয়াল করছেন না। এদিকে ফ্যাসিবাদের অস্ত্র শানিত সকল সরকারি সংস্থা ও কর্মকর্তা অভ্যাসমত ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে ব্যাস্ত হয়ে পড়েছেন।
এই কোটারি স্বার্থের বেপরোয়া রূপ থেকেই ফ্যাসিবাদের জন্ম হয়। সহজাত আজাদীর চেতনা অনেকের থাকলেও বাস্তবে হয়ে উঠেন ফ্যাসিবাদী গোলাম। যে যাঁতাকলে পিষ্ট হতে থাকে সমাজ, রাষ্ট্র ও জনগণ। ফ্যাসিবাদী গোলামীর এই মানসিকতা মানব ইতিহাসে নতুন নয়। এর একমাত্র প্রতিষেধক হচ্ছে জনতার আজাদী বিপ্লব। সময়ের বাঁকে বাঁকে এই গণবিপ্লব সংগঠিত হয়ে রচিত হয়েছে নতুন অধ্যায়ের। একই ধারাবাহিকতায় এ ভূখণ্ডে ৪৭, ৬৯, ৭১ থেকে ৯১ হয়ে ৩৬ জুলাই ২৪ ঘটেছে। কিন্তু রন্ধ্রে রন্ধ্রে রোগটির শক্ত অবস্থান পৃথিবীর অনন্য এ জুলাই বিপ্লবকে পূর্ণাঙ্গ সফল হতে দেয়নি।
সুযোগ এখন জনগনের হাতের মুঠোয়। শেষ বলটি মিস করা যাবে না। কাংখিত নতুন দেশ গড়ার প্রত্যয়ে প্রকৃত আজাদী আদায় করে নিতে হবে। ১২ ফেব্রুয়ারি সকলে মিলে ভোট দিতে হবে। প্রচন্ড শক্তিশালী জুলাই হয়ে বের হয়ে সর্বত্র সর্বক্ষন পাহারা দিতে হবে। কোন অপশক্তিকে গণরায় ছিনতাই করার দুঃসাহস করতে দেয়া যাবে না। পরিবর্তনের পক্ষে ফলাফল নিয়ে ঘরে ফিরতে হবে। শুরু হবে নতুন বাংলদেশের শুভ অভিযাত্রা, ইনশাআল্লাহ।
sirajulislamshaheen@yahoo.com; 08/02/2025; London 14.30





