২০২৪ সালের আগস্টে ছাত্র-জনতার সহস্রাধিক জীবনের বিনিময়ে অর্জিত গণ-অভ্যুত্থানের মাধ্যমে গঠিত নোবেল বিজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার মূলত বিচার সংস্কার ও নির্বাচনকে প্রাধান্য দিয়ে তাদের সামগ্রিক কার্যক্রম পরিচালনা করে। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট সুষ্ঠু হলেও সহিংসতামুক্ত ছিলনা। নির্বাচনের ফল ঘোষণার পর দেশের বিভিন্ন জেলায় সহিংসতা ছড়িয়ে পড়েছে যা খুবই উদ্বেগজনক।
অক্টোবর ২০২৫ হতে ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ পর্যন্ত নির্বাচনকেন্দ্রীক সাত শতাধিক সহিংসতার ঘটনায় আহত হয়েছেন কমপক্ষে ২৫০৩ জন এবং নিহত হয়েছেন ১০ জন । এছাড়াও এই সময়ে নির্বাচনী সহিংসতায় কমপক্ষে ৩৪ জনের অধিক গুলিবিদ্ধ এবং পাঁচ শতাধিক বাড়ি-ঘর, যানবাহন, ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে ও নির্বাচনী কার্যালয়, ভোটকেন্দ্র ভাংচুর, অগ্নিসংযোগ ও লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে। তফসিল ঘোষনার পর ১১ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত নির্বাচনকেন্দ্রীক অন্তত ২৫৪ টি সহিংসতার ঘটনায় আহত হয়েছেন কমপক্ষে ১৬৫০ জন এবং নিহত হয়েছেন ৫ জন। এছাড়াও এই সময়ে নির্বাচনী সহিংসতায় কমপক্ষে ২৪ জনের অধিক গুলিবিদ্ধ এবং ২০০ এর অধিক বাড়ি-ঘর, যানবাহন, ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে ও নির্বাচনী কার্যালয়, ভোটকেন্দ্র ভাংচুর, অগ্নিসংযোগ ও লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে। শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট সম্পন্ন হলেও নির্বাচনের ফল ঘোষণার পর দেশের বিভিন্ন জেলায় সহিংসতা ছড়িয়ে পড়েছে। সহিংসতার পৃথক ৩ টি ঘটনায় মুন্সীগঞ্জ ও বাগেরহাটের দুই যুবক এবং ময়মনসিংহের হালুয়াঘাটে এক শিশু নিহত হয়েছেন। সারাদেশের অধিকাংশ জেলায় নির্বাচনের দিনে নির্বাচন ঘিরে অন্তত ৩৯৩টি অপরাধমূলক ঘটনা যেমন কেন্দ্রে বিশৃঙ্খলা, জাল ভোট, পোলিং এজেন্ট বের করে দেওয়া এবং বিভিন্ন প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এছাড়া নির্বাচনী পরবর্তী সময়ে বিএনপি, জামায়াত ও স্বতন্ত্র প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে অন্তত ৩০ টি জেলায় দুই শতাধিক পৃথক সংঘর্ষে তিন শতাধিক মানুষ আহত হয়েছেন এবং অন্তত ৩৫০ টি অফিস, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, ঘরবাড়ি ভাঙচুর, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগ করা হয়েছে।
তফসিল ঘোষনার পর (১১ ডিসেম্বর হতে ১১ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত) নির্বাচনী সহিংসতা
২০২৫ সালের ১১ ডিসেম্বর ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর দেশজুড়ে রাজনৈতিক অস্থিরতা ও সহিংসতার চিত্র ছিল উদ্বেগজনক। নির্বাচনী তফসিল ঘোষণার পর থেকেই বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের মনোনয়ন প্রত্যাশী, স্বতন্ত্র প্রার্থী এবং কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষ, হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা জনমনে এক ধরণের আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে। বিশেষ করে দলীয় ও অন্তর্কোন্দলের জেরে হতাহতের সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে। পাশাপাশি নারীদের ওপর হামলা এবং রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ডের মতো ঘটনাগুলো নির্বাচনী পরিবেশকে করে তুলেছিল কণ্টকাকীর্ণ। এছাড়া ঋণখেলাপি ও দ্বৈত নাগরিকত্ব সংক্রান্ত অভিযোগ ও আইনি জটিলতা সত্ত্বেও প্রার্থীদের অংশগ্রহণের সুযোগ নির্বাচন প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। ক্রমবর্ধমান সহিংসতা ও আইনি চ্যালেঞ্জসমূহের মধ্যে সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের আয়োজন ছিল অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ ।
হিউম্যান রাইটস সাপোর্ট সোসাইটি ১৫ টি জাতীয় দৈনিক পত্রিকা, ১৫০ টির অধিক স্থানীয় পত্রিকা এবং জেলা প্রতিনিধিদের থেকে প্রাপ্ত তথ্য এবং তথ্যানুসন্ধানের ভিত্তিতে তফসিল ঘোষণার পর হতে ১১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ পর্যন্ত নির্বাচনী সহিংসতার প্রতিবেদনে নিম্নোক্ত তথ্য উঠে এসেছে:
২০২৫ সালের ১১ ডিসেম্বর হতে ১১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ পর্যন্ত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্রকরে বিভিন্ন দল এবং দলের মনোনীত প্রার্থী ও বঞ্চিত প্রার্থীর কর্মী-সমর্থকের মধ্যে সংঘর্ষ, হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। এছাড়া বিভিন্ন জায়গায় মিছিল, বিক্ষোভ সমাবেশ, মহাসড়ক অবরোধ ও টায়ার জ্বালিয়ে বিক্ষোভ, বাড়িঘর– নির্বাচনী কার্যালয়ে, ভোটকেন্দ্রে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা গভীর উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। তফসিল ঘোষনার পর নির্বাচনকেন্দ্রীক অন্তত ২৫৪ টি সহিংসতার ঘটনায় আহত হয়েছেন কমপক্ষে ১৬৫০ জন এবং নিহত হয়েছেন ৫ জন ।
তফসিল ঘোষনার পর ১১ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত নির্বাচনী সহিংসতার ২৫৪ টি ঘটনার মধ্যে বিএনপির অন্তর্কোন্দলে ৬৮টি ঘটনায় আহত হয়েছেন অন্তত ৫৯৫ জন ও নিহত ০৩ জন । এছাড়া ১০০ টি বিএনপি-জামায়াতের মধ্যে সংঘর্ষে আহত হয়েছেন ৯১৫ জন ও নিহত ০১ জন, ১২ টি বিএনপি-এনসিপি মধ্যে সংঘর্ষে আহত হয়েছেন ৫৮ জন জন, ০৩ টি বিএনপি-আওয়ামী লীগের মধ্যে সংঘর্ষে আহত হয়েছেন ০৩ জন, ০২ টি এনসিপি- জাতীয় পার্টর মধ্যে সংঘর্ষে আহত হয়েছেন ২৩ জন জন এবং ১৪টি বিএনপি-অন্যান্য দলের মধ্যে সংঘর্ষে আহত হয়েছেন ৪৬ । এছাড়া, বিভিন্ন দলের মধ্যে ০৩ টি ঘটনায় আহত হয়েছেন ১০ জন । নিহত ০৫ জনের মধ্যে বিএনপির ০৩ জন ও জামায়াতের ১ জন, ইনকিলাব মঞ্চের ১ জন।
এছাড়াও এই সময়ে নির্বাচনী সহিংসতায় কমপক্ষে ২৪ জনের অধিক গুলিবিদ্ধ এবং ২০০ এর অধিক বাড়ি-ঘর, যানবাহন, ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে ও নির্বাচনী কার্যালয়, ভোটকেন্দ্র ভাংচুর, অগ্নিসংযোগ ও লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে।
নির্বাচনের দিনে অনিয়ম-বিশৃঙ্খলা-সংঘর্ষ
বড় ধরনের রক্তক্ষয়ী সংঘাত-সহিংসতা ছাড়াই শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সম্পন্ন হয়েছে। তবে দেশের কয়েকটি স্থানে হামলা-পাল্টা হামলা ও সংঘর্ষ হয়েছে। সারাদেশের অধিকাংশ জেলায় নির্বাচনের দিনে নির্বাচন ঘিরে অন্তত ৩৯৩টি অপরাধমূলক ঘটনা যেমন কেন্দ্রে বিশৃঙ্খলা, জাল ভোট, পোলিং এজেন্ট বের করে দেওয়া এবং বিভিন্ন প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে বরিশাল ও রাজশাহীতে বেশি এবং কম বিশৃঙ্খলা হয়েছে ঢাকা ও ময়মনসিংহ বিভাগে। তবে দেশের কোথাও নির্বাচন ঘিরে সংঘর্ষে এদিন কেউ নিহত হননি।
নিচের টেবিলে নির্বাচনের দিনে অনিয়ম-বিশৃঙ্খলা-সংঘর্ষ উল্লেখ করা হলো:
| অনিয়ম-বিশৃঙ্খলা-সংঘর্ষ | ঘটনা | আহত |
| ভোটকেন্দ্রে বিশৃঙ্খলা | ১৪৯ | |
| প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষ | ১০৫ | ১৪৫ |
| জাল ভোট দেওয়ার ঘটনা | ৫৯ | |
| পোলিং এজেন্ট বের করে দেওয়ার ঘটনা | ১৯ | |
| দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তির অবহেলা | ১৩ | |
| ভোটকেন্দ্রে প্রবেশে বাধা | ১৮ | |
| প্রার্থীকে মারধরের ঘটনা | ৬ | |
| ব্যালট বাক্স ছিনতাই | ৩ | |
| অগ্নিসংযোগ | ২ | |
| অন্যান্য বিশৃঙ্খলা | ৩১ | |
| মোট ঘটনা | ৩৯৩ | |
| গেফতার | ৫০ | |
| প্রিসাইডিং ও পোলিং অফিসার প্রত্যাহার | ১৩ | |
| কারাদন্ড ও জরিমানা | ৫৫ | |
| সাংবাদিক আহত | ৫ | |
| ভোট বাতিল কেন্দ্র | ৩ | |
| AI দিয়ে অপতথ্য ছড়ানো | ৬৪ |
নির্বাচন পরবর্তী সহিংসতা
শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট সম্পন্ন হলেও নির্বাচনের ফল ঘোষণার পর দেশের বিভিন্ন জেলায় সহিংসতা ছড়িয়ে পড়েছে। সহিংসতার পৃথক ৩ টি ঘটনায় মুন্সীগঞ্জ ও বাগেরহাটের দুই যুবক এবং ময়মনসিংহের হালুয়াঘাটে এক শিশু নিহত হয়েছেন। এছাড়া নোয়াখালীর হাতিয়া উপজেলার চানন্দী ইউনিয়নে ‘শাপলা কলি’ প্রতীকে ভোট দেওয়াকে কেন্দ্র করে এক তিন সন্তানের জননীকে (৩২) ধর্ষণের ও শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে যা ন্যাক্কারজনক ও উদ্বেগজনক। মুন্সীগঞ্জ, ময়মনসিংহ, বাগেরহাট, পটুয়াখালী, ফরিদপুর, পাবনা, ঝিনাইদহ, সিরাজগঞ্জ, রংপুর, পঞ্চগড়, নাটোর, নেত্রকোনা, নড়াইল, চট্টগ্রাম, কুষ্টিয়া, সাতক্ষীরা, নোয়াখালী, কুড়িগ্রাম, নারায়ণগঞ্জ, ফেনী, ঝালকাঠি, চুয়াডাঙ্গা, পিরোজপুর, চাঁদপুর ও ঝালকাঠিসহ অন্তত ৩০ টি জেলায় বিএনপি, জামায়াত ও স্বতন্ত্র প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে দুই শতাধিক পৃথক সংঘর্ষে তিন শতাধিক মানুষ আহত হয়েছেন এবং অন্তত ৩৫০ টি অফিস, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, ঘরবাড়ি ভাঙচুর, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগ করা হয়েছে।
মুন্সীগঞ্জে নির্বাচন পরবর্তী সহিংসতায় মো. জসিম নায়েব (৩০) নিহত হয়েছেন। তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. মহিউদ্দিনের সমর্থক ছিলেন। গতকাল শুক্রবার দুপুরে সদর উপজেলার আধারা ইউনিয়নের চর আব্দুল্লাহ গ্রামে এ হামলা ঘটে। নিহত জসিম ওই এলাকার মাফিক নায়েবের ছেলে। হামলায় তাঁর বাবা মাফিক নায়েবও গুরুতর আহত হয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। নিহত জসিম স্থানীয় একটি মাদ্রাসা পরিচালনার দায়িত্বে ছিলেন।
ময়মনসিংহ হালুয়াঘাটে সহিংসতায় বিএনপি কর্মীর এক শিশু সন্তান ও অন্য এক ঘটনায় বিএনপির তিন কর্মী আহত হয়েছেন। নিহত শিশু স্বদেশী ইউনিয়নের বাউশা গ্রামের বিএনপির কর্মী দুলাল মিয়ার ছেলে ইমন (১২)। আহতরা হলো ভূবনকুড়া ইউনিয়নের শ্রমিক দলের সাধারণ সম্পাদক রুহুল আমিন, স্বেচ্ছাসেবক দলের সহসভাপতি মোশাররফ হোসেন, বিএনপিকর্মী উসমান গণী।
বাগেরহাটের কচুয়া উপজেলায় নির্বাচন–পরবর্তী সহিংসতায় বিএনপির ‘বিদ্রোহী’ প্রার্থীর এক সমর্থক নিহত হয়েছেন। গতকাল শুক্রবার সন্ধ্যায় বিএনপি ও দলের ‘বিদ্রোহী’ প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষে আহত হওয়ার পর আজ শনিবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়। নিহত ব্যক্তির নাম ওসমান সরদার (২৯)। তিনি সদর উপজেলার পাড়নওয়াপাড়া গ্রামের শাহজাহান সরদারের ছেলে এবং বিএনপির ‘বিদ্রোহী’ প্রার্থী জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি এম এ এইচ সেলিমের সমর্থক ছিলেন।
নারী কর্মীদের ওপর হামলা
এবারের নির্বাচনে নারী প্রার্থীদের সংখ্যা কম থাকলেও নির্বাচনী প্রচার প্রচারণায় নারীদের অংশগ্রহণ উল্রেখযোগ্য হারে বেড়েছে। তবে প্রচার-প্রচারণাকে কেন্দ্র করে নারী সহিংসতা, হামলা, হেনস্থা, লাঞ্ছিতের ঘটনাও বেড়েছে। তফসিল ঘোষণার পর থেকে ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ পর্যন্ত অন্তত ৩২ টি ঘটনায় কমপক্ষে ৪৫ জন নারী হেনস্তার শিকার হয়েছেন এবং ২৩ জন নারী আহত হয়েছেন। হেনস্থার শিকার এসব নারীদের মধ্যে ৩৯ জন জামায়াত সমর্থক এবং ১ জন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সমর্থক নারী রয়েছেন। এছাড়াও ৫ জন নারী রয়েছেন যাদের রাজনেতিক পরিচয় পাওয়া যায়নি। তবে ৩২ টি হেনস্থা ও হামলার ঘটনার মধ্যে ৩১ টি ঘটনায় বিএনপি ও তার সহযোগী সংগঠন এবং স্বতন্ত্র প্রার্থীর নেতা-কর্মী এবং ১ টি ঘটনায় জামাতের সংশ্লিষ্টতার রয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
সাম্প্রতিক সময়ে গণমাধ্যমের ও এইচআরএসএস এর সংগৃহীত তথ্য অনুযায়ী, লালমনিরহাটের হাতীবান্ধায় বিএনপি নেতাকর্মীরা মহিলা জামায়াত কর্মীদের হিজাব খুলতে জোরাজুড়ি করলে সংঘর্ষ ঘটে যাতে অন্তত ২০ জন আহত হন; একই দিন চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গায় নারী কর্মীদের প্রচারে বাধা ও হামলায় ১৩ জন আহত; টাঙ্গাইলের গোপালপুরে পর্দানশীন নারীর তলপেটে লাথি মারা; যশোরের ঝিকরগাছায় যুবদল নেতা আরাফাত রহমান কল্লোলের নেতৃত্বে ১০ জন নারীকে মারধর ও হেনস্থা, মোবাইল ও ব্যাগ ছিনতাই; মিরপুরের পীরেরবাগে নারী কর্মীদের ৪ ঘণ্টা আটক রেখে হেনস্থা ও তাদের উদ্ধারে আসা জামাতের পুরুষ কর্মীদের সাথে বিএনপির সংঘর্ষে ১৬ জন আহত; কেরানীগঞ্জে নারীদের ওড়না ছিঁড়ে লাথি-ঘুষি; লক্ষ্মীপুরে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রচারে বিএনপির বাধা প্রদান ও সংঘর্ষে নারী কর্মী সহ ৬ জন আহত; নাটোরে ছাতনি সেন্টারে জামাতের নারী কর্মীদেরকে গালিগালাজ, লাঞ্ছনা; পাবনায় বুদেরহাটে ধাক্কাধাক্কি, হুমকি প্রদর্শণ; মেহেরপুরে গহরপুরে হেনস্থা; ঢাকা-৪ আসনে কাইল্লা পট্টিতে বিএনপি কর্মী দ্বারা জামাত এর মহিলা কর্মী মারিয়া বেবীর উপর রামদা দিয়ে হামলা; ভোলায় জামাতের প্রচারকালে এক নারী কর্মীকে বিএনপি নেতার লাঠি দিয়ে মাথায় আঘাত এবং কানের লোতি ছিঁড়ে ফেলা, এমতাবস্থায় ভুক্তভোগী নারীর সাহায্যে তার অন্তস্বত্ত্বা কন্যা এগিয়ে এলে তাকে আঘাত করে আহত করা। এসব ঘটনায় প্রশাসনের নীরবতায় জনমনে ক্ষোভ বৃদ্ধি করছে। এইচআরএসএস মনে করে, এ ধরনের লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতা নারীদের রাজনৈতিক অংশগ্রহণকে ভয় দেখিয়ে গণতন্ত্রকে দুর্বল করে এবং আন্তর্জাতিক মানবাধিকার চুক্তিসমূহ লঙ্ঘন করে।
গত ২৬ জানুয়ারি ২০২৬ এ টাংগাইলের গোপালপুরে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী সমর্থিত টাংগাইল–২ আসনের সংসদ সদস্য পদপ্রার্থীর পক্ষে ভোটার সংযোগে গেলে দলটির নারী কর্মীদের ওপর স্থানীয় বিএনপি কর্মীদের দ্বারা হামলা ও লাঞ্ছনার ঘটনা ঘটে। এ সংক্রান্ত একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। তাতে দেখা যায়, গোপালপুর পৌরসভার ৭নং ওয়ার্ডের সূতী নয়াপাড়া গ্রামের ৪-৫ জন সন্ত্রাসী ভোট চাইতে যাওয়া মহিলাদের উপর হামলা করে। বাকবিতন্ডার জেরে এক পর্যায়ে তারা অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করতে থাকে। এর প্রতিবাদ করলে সাইফুল ইসলাম বাবু নামে এক ব্যক্তি মহিলা কর্মীদের উপর হামলা ও হেনস্থা করে।
নোয়াখালীর হাতিয়া উপজেলার চানন্দী ইউনিয়নে ‘শাপলা কলি’ প্রতীকে ভোট দেওয়াকে কেন্দ্র করে এক তিন সন্তানের জননীকে (৩২) নিজ ঘরে ধর্ষণ ও শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগী নলেরচর এলাকার একটি আশ্রয়ণ প্রকল্পের বাসিন্দা। অভিযোগে বলা হয়, হামলাকারীরা ঘরে ভাঙচুর করে তাকে টেনে বের করে মারধর করে এবং ভোট দেওয়ার বিষয়টি নিয়ে কটূক্তি করে। মারধরের ফলে তিনি গুরুতর আহত হয়ে স্বাভাবিকভাবে হাঁটাচলা করতে পারছেন না। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, অভিযুক্তরা আগে আওয়ামী লীগের সঙ্গে যুক্ত থাকলেও সরকার পরিবর্তনের পর বিএনপির পরিচয়ে এলাকায় প্রভাব বিস্তার করছে।
এছাড়া ২৮ জানুয়ারি, ২০২৬ একই দিন দুপুরে ঢাকার কদমতলী থানাধীন ৫২ নম্বর ওয়ার্ডের ডিপটির গলির কাইল্লা পট্টি এলাকায় নির্বাচনি গণসংযোগকালে জাময়াতের ইসলামীর ঢাকা–৪ আসনের প্রার্থী সৈয়দ জয়নুল আবেদীনের পক্ষে প্রচারণার সময় নারী নেতাকর্মীদের ওপর দুর্বৃত্তদের দ্বারা হামলার অভিযোগ পাওয়া গেছে। হামলায় দলটির রুকন ও নারী নেত্রী কাজী মারিয়া ইসলাম বেরি গুরুতর আহত হন।




