Home বাংলাদেশ নরসিংদীতে কিশোরীকে ধর্ষণের পর হত্যার ঘটনায় এইচআরএসএসের তীব্র নিন্দা, ক্ষোভ ও দৃষ্টান্তমূলক...

নরসিংদীতে কিশোরীকে ধর্ষণের পর হত্যার ঘটনায় এইচআরএসএসের তীব্র নিন্দা, ক্ষোভ ও দৃষ্টান্তমূলক বিচারের দাবী

57
0

২৭ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬

হিউম্যান রাইটস সাপোর্ট সোসাইটি (এইচআরএসএস) নরসিংদীতে এক কিশোরীকে ধর্ষণের পর নির্মমভাবে হত্যার ঘটনায় গভীর শোক, তীব্র ক্ষোভ ও কঠোর নিন্দা প্রকাশ করছে। গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, কিশোরীর মরদেহ উদ্ধার হয়েছে এবং ধর্ষণের পর হত্যার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনা আমাদের রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা, আইন প্রয়োগ এবং নারী-শিশু সুরক্ষা কাঠামোর গুরুতর দুর্বলতাকে সামনে নিয়ে এসেছে।
একজন কিশোরীর জীবন, মর্যাদা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের সাংবিধানিক ও আন্তর্জাতিক বাধ্যবাধকতা। এ ধরনের অপরাধ শুধু ফৌজদারি আইন লঙ্ঘন নয়; এটি আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইনেরও চরম লঙ্ঘন। বাংলাদেশ যে সকল আন্তর্জাতিক সনদে অঙ্গীকারবদ্ধ—
-Convention on the Elimination of All Forms of Discrimination Against Women (CEDAW) -Convention on the Rights of the Child (CRC) -Universal Declaration of Human Rights (UDHR)
—সেসব সনদের আলোকে নারী ও শিশুর জীবন, নিরাপত্তা, মর্যাদা ও সহিংসতা থেকে সুরক্ষা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের বাধ্যতামূলক দায়িত্ব।
এইচআরএসএস-এর সংগৃহীত তথ্য অনুযায়ী ২০২৫ সালে কমপক্ষে ২০৪৭ জন নারী ও কন্যা শিশু নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। এর মধ্যে ধর্ষণের শিকার হয়েছেন কমপক্ষে ৮২৮ জন, যাদের মধ্যে ৪৭৪ (৫৭%) জন ১৮ বছরের কম বয়সী শিশু। এটা অত্যন্ত উদ্বেগের বিষয় যে, ১৭৯ (২১%) জন নারী ও কন্যা শিশু গণধর্ষনের শিকার হয়েছেন এবং ধর্ষনের পর হত্যা করা হয়েছে ২৮ জনকে ও আত্মহত্যা করেছেন ১০ জন নারী । ৪১৪ জন নারী ও কন্যা শিশু যৌন নিপীড়ণের শিকার হয়েছেন তন্মধ্যে শিশু ২৩৬ জন। এই সময়ে যৌতুকের জন্য নির্যাতনের ঘটনায় নিহত হয়েছেন অন্তত ৩৫ জন ও আহত হয়েছেন ৩২ জন এবং আত্মহত্যা করেছেন ৪ জন নারী । পারিবারিক সহিংসতার শিকার হয়ে নিহত হয়েছেন অন্তত ৩৮৩ জন, আহত হয়েছেন ১৩৩ জন এবং আত্মহত্যা করেছেন কমপক্ষে ১৯৪ জন নারী। এসিড সহিংসতার শিকার হয়ে নিহত হয়েছেন ২ এবং আহত হয়েছেন ২ জন। অন্যদিকে, এই সময়ে কমপক্ষে ১৩৭১ জন শিশু নির্যাতনের শিকার হয়েছেন যাদের মধ্যে ২৮৮ জন প্রান হারিয়েছেন এবং ১০৮৩ জন শিশু শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের শিকার হয়েছেন।
এইচআরএসএস মনে করে, ধর্ষণ ও নারী-শিশু হত্যা কেবল ব্যক্তিগত অপরাধ নয়; এটি সামাজিক নিরাপত্তা ও আইনের শাসনের বিরুদ্ধে সুস্পষ্ট আঘাত। অপরাধীদের দ্রুত গ্রেপ্তার, নিরপেক্ষ তদন্ত ও বিচার নিশ্চিত না হলে দণ্ডহীনতার সংস্কৃতি আরও বিস্তৃত হবে।

পড়ুনঃ  বিশ্বনাথে ওয়ান পাউন্ড হটপিটালের উদ্যোগে ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প ও ঔষধপত্র বিতরণ

এইচআরএসএস সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে এই ঘটনার অবিলম্বে নিরপেক্ষ, স্বচ্ছ ও পেশাদার তদন্ত নিশ্চিত করতে এবং জড়িত সকল ব্যক্তিকে দ্রুত গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনতে আহবান জানাচ্ছে। নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের অধীনে দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে মামলা পরিচালনা করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। ভুক্তভোগী পরিবারের নিরাপত্তা, আইনি সহায়তা ও মানসিক সহায়তা নিশ্চিত করতে এবং স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দায়িত্বহীনতা বা অবহেলা থাকলে তারও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে। একইসাথে নারী ও শিশুদের সুরক্ষায় কার্যকর প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা, কমিউনিটি নজরদারি এবং সচেতনতা কার্যক্রম জোরদার করতে হবে।
আমরা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, এ ধরনের নৃশংস ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে কেবল বিচার নয়—দ্রুত, দৃশ্যমান ও দৃষ্টান্তমূলক বিচার অপরিহার্য। রাষ্ট্রকে প্রমাণ করতে হবে যে নারী ও শিশুর জীবন ও মর্যাদা রক্ষায় সে আপসহীন।
হিউম্যান রাইটস সাপোর্ট সোসাইটি নিহত কিশোরীর আত্মার শান্তি কামনা করছে এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানাচ্ছে। একইসঙ্গে সংশ্লিষ্ট সকল কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছে— অবিলম্বে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করে দেশে আইনের শাসন ও মানবাধিকার সুরক্ষার প্রতি জনগণের আস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠা করুন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here