Home বিশ্ব সৌদি যুবরাজ ইরানে হামলার জন্য ট্রাম্পকে গোপনে প্ররোচিত করেছিলেন

সৌদি যুবরাজ ইরানে হামলার জন্য ট্রাম্পকে গোপনে প্ররোচিত করেছিলেন

156
0

মার্চ ০১, ২০২৬

মার্কিন প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম The Washington Post-এর এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, সৌদি আরবের ক্রাউন প্রিন্স মুহাম্মদ বিন সালমান গোপনে সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প-কে ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপ নিতে উৎসাহিত করেছিলেন। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা চরমে ওঠার সময় এই তৎপরতা চালানো হয় এবং তা ছিল প্রকাশ্য কূটনৈতিক অবস্থানের সঙ্গে ভিন্নধর্মী।

ওয়াশিংটন পোস্টের তথ্যমতে, সৌদি নেতৃত্ব প্রকাশ্যে আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ও কূটনৈতিক সমাধানের পক্ষে কথা বললেও আড়ালে তারা ইরানের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিতে যুক্তরাষ্ট্রকে রাজি করানোর চেষ্টা চালায়। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, একাধিক সরাসরি যোগাযোগ ও উচ্চপর্যায়ের বার্তার মাধ্যমে ট্রাম্প প্রশাসনের কাছে ইরানকে একটি তাৎক্ষণিক নিরাপত্তা হুমকি হিসেবে উপস্থাপন করা হয়। সৌদি কর্মকর্তাদের যুক্তি ছিল, তেহরানের আঞ্চলিক প্রভাব বৃদ্ধি এবং তাদের সামরিক সক্ষমতা উপসাগরীয় নিরাপত্তার জন্য দীর্ঘমেয়াদি ঝুঁকি তৈরি করছে।

একই সময়ে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বিনইয়ামিন নেতানিয়াহু-ও ইরান ইস্যুতে ওয়াশিংটনের কঠোর অবস্থানের পক্ষে জোরালো অবস্থান নেন বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। ইসরায়েল বহুদিন ধরেই ইরানের সামরিক ও পারমাণবিক কার্যক্রমকে নিজেদের জাতীয় নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হিসেবে বিবেচনা করে আসছে। ফলে রিয়াদ ও তেল আবিব—দুই পক্ষের অবস্থান অনেক ক্ষেত্রে অভিন্ন হয়ে ওঠে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ট্রাম্প প্রশাসনের ভেতরে ইরান প্রশ্নে মতপার্থক্য ছিল। কিছু গোয়েন্দা মূল্যায়নে বলা হয়েছিল যে পরিস্থিতি তাৎক্ষণিক সামরিক সংঘর্ষের পর্যায়ে পৌঁছেনি। তবে আঞ্চলিক মিত্রদের জোরালো অবস্থান ও কৌশলগত চাপ নীতিনির্ধারণী আলোচনাকে প্রভাবিত করে। হোয়াইট হাউসের ভেতরের আলোচনায় সৌদি আরবের উদ্বেগ ও নিরাপত্তা হিসাব-নিকাশ গুরুত্ব পেয়েছিল বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

ইরান, যার সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনেই, দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের সঙ্গে টানাপোড়েনের সম্পর্কের মধ্যে রয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যে প্রভাব বিস্তার, ইয়েমেন, সিরিয়া ও লেবাননে সংশ্লিষ্টতা এবং পারমাণবিক কর্মসূচি—এসব বিষয় ঘিরে ওয়াশিংটন ও তেহরানের সম্পর্ক বহু বছর ধরেই উত্তপ্ত। এই প্রেক্ষাপটে সৌদি আরব ও ইসরায়েলের কৌশলগত উদ্বেগ যুক্তরাষ্ট্রের নীতিতে কীভাবে প্রতিফলিত হয়েছে, সেটিই ওয়াশিংটন পোস্টের প্রতিবেদনের মূল অনুসন্ধান।

পড়ুনঃ  কপ আলোচনা বাঁচাতে যুক্তরাজ্যে ওবামা

রিয়াদ, তেল আবিব ও ওয়াশিংটনের ত্রিমুখী কূটনৈতিক সমীকরণ সাম্প্রতিক বছরগুলোতে নতুন রূপ নিয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আঞ্চলিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা এখন আর কেবল প্রকাশ্য বিবৃতির মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই; বরং পর্দার আড়ালের কূটনৈতিক তৎপরতাই অনেক সময় নীতিনির্ধারণে বড় ভূমিকা রাখছে। ওয়াশিংটন পোস্টের এই প্রতিবেদন সেই গোপন কূটনৈতিক প্রভাবের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক উন্মোচন করেছে, যা মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনীতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here