লন্ডন, ১০ মার্চ ২০২৬ : ইস্ট লন্ডন মসজিদের উদ্যোগে বিভিন্ন ধর্মের বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গের সম্মানে ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে । এ বছরের অনুষ্ঠানের মূল প্রতিপাদ্য ছিল ‘কল্যাণের জন্য ঐক্য’ । এতে রাষ্ট্রদূত, ধর্মীয় নেতা, আইনজীবী, সাংবাদিক, কমিউনিটি সংগঠনের প্রতিনিধি এবং সমাজের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিবর্গ অংশগ্রহণ করেন।
অনুষ্ঠানে অতিথিদের স্বাগত জানান ইস্ট লন্ডন মসজিদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা জুনায়েদ আহমেদ। তিনি রমজানের আধ্যাত্মিক গুরুত্ব নিয়ে কথা বলেন। তিনি বলেন, রমজান হলো আত্মসমালোচনা, উদারতা এবং আত্মিক নবায়নের সময়। রোজা মানুষকে আল্লাহভীরু হতে সাহায্য করে এবং মানুষের মধ্যে সম্পর্ক আরও দৃঢ় করে।
তিনি বলেন “কল্যাণের জন্য ঐক্য” শুধু একটি থিম নয়—এটি একটি আহ্বান। যখন সমাজের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান, বেসরকারি খাত এবং কমিউনিটি একসাথে আন্তরিকতা ও উদ্দেশ্য নিয়ে কাজ করে, তখন তার প্রভাব অনেক বড় হয়—যা একা কেউ করতে পারে না।
অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র কুরআন থেকে তেলাওয়াত করেন শায়খ মু’তাজ আল গান্নাম। এরপর বক্তব্য রাখেন ইস্ট লন্ডন মসজিদ ট্রাস্টের চেয়ারম্যান ড. আব্দুল হাই মুর্শেদ । তিনি রমজানের ফজিলত নিয়ে আলোচনা করেন এবং বলেন, বিভিন্ন ধর্মের মানুষের উচিত ন্যায়বিচার ও মানবিকতার জায়গায় একসাথে দাঁড়ানো। মানুষের মধ্যে সম্পর্কের গুরুত্ব সম্পর্কে তিনি বলেন, শুধু প্রতিষ্ঠান দিয়ে সম্পর্ক তৈরি হয় না—মানুষই সম্পর্ক তৈরি করে। তিনি আরও বলেন, যখন মানুষ সততার সাথে ধর্মীয় মূল্যবোধ মেনে চলে, তখন তা সমাজে সহানুভূতি এবং আশার শক্তি হয়ে ওঠে।
অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বসনিয়া ও হার্জেগোভিনার রাষ্ট্রদূত ওসমান টপচাগিচ । তিনি তার শৈশবের রমজানের স্মৃতিচারণ করে বলেন, যখন বসনিয়ায় মুসলিম, খ্রিস্টান এবং ইহুদিরা একসাথে বসবাস করত. তখন একে অপরের উৎসব ভাগাভাগি করত। তিনি বসনিয়ার যুদ্ধের কথা উল্লেখ করে বলেন, যখন মানুষের মধ্যে সেই সামাজিক সম্পর্ক ভেঙে যায়, তখন সংঘাত সৃষ্টি হয় । তাই তিনি বলেন, ইস্ট লন্ডন মসজিদের এই ধরনের ইফতার অনুষ্ঠানের মাধ্যমে সমাজের মানুষের মধ্যে সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করা খুবই গুরুত্বপূর্ণ ।
চার্চ অব ইংল্যান্ডের স্টেপনি এলাকার আর্চডিকন পিটার ফার্লি-মোর । তিনি মানুষের মধ্যে সংহতির গুরুত্ব তুলে ধরেন । তিনি বলেন, সংহতি মানে হলো কঠিন সময়ে একে অপরের পাশে দাঁড়ানো এবং বিভিন্ন কমিউনিটির মধ্যে ঐক্য বজায় রাখা । একসাথে বসে খাবার খাওয়া এবং ভিন্ন সংস্কৃতি ও ধর্মের মানুষের মধ্যে সম্পর্ক তৈরি করা আমাদের পৃথিবীতে শান্তির জন্য একটি শক্ত ভিত্তি তৈরি করে।
লেখক ও টিভি উপস্থাপিকা সারা জোসেফ তাঁর বক্তব্যে সহযোগিতার গুরুত্ব তুলে ধরেন । তিনি বলেন, ইসলামে আমরা সবার কল্যাণের জন্য কাজ করি। আমাদেরকে সমাজ থেকে আলাদা হয়ে থাকতে বলা হয়নি, বরং কল্যাণের জন্য একসাথে কাজ করতে বলা হয়েছে । তিনি আরও বলেন, মুসলমানদের উচিত ভবিষ্যতের কথা ভেবে কাজ করা এবং এমন একটি সমাজ গড়ে তোলা, যা আগামী প্রজন্মের জন্য ভালো উদাহরণ হয়ে থাকবে।
অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণের জন্য লন্ডন ফায়ার ব্রিগেড, মেট্রোপলিটন পুলিশ, টাওয়ার হ্যামলেটস কাউন্সিল, সুদানের দূতাবাস, দ্য স্যালভেশন আর্মি, সেন্ট জর্জ-ইন-দ্য-ইস্ট চার্চ, সেন্ট পলস ক্যাথেড্রাল এবং স্থানীয় বিভিন্ন স্কুলের প্রধানদের ধন্যবাদ জানানো হয়।






