জাহেদী ক্যারল, মদিনা থেকে
২১ মার্চ ২০২৬:
ইরানকে কেন্দ্র করে চলমান সামরিক উত্তেজনা ও আঞ্চলিক সংঘাতের প্রভাবে মধ্যপ্রাচ্যের আকাশপথে ব্যাপক অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। নিরাপত্তাজনিত ঝুঁকির কারণে বেশ কয়েকটি দেশ আংশিক বা সম্পূর্ণভাবে তাদের আকাশসীমা বন্ধ করে দেওয়ায় বহু আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক ফ্লাইট বাতিল বা স্থগিত করা হয়েছে।
পবিত্র রমজান মাসে উমরাহ পালন করতে লন্ডনসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে হাজার হাজার মুসল্লি মক্কা ও মদিনায় গিয়েছিলেন। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে তাদের মধ্যে অনেকেই নির্ধারিত সময়ে নিজ দেশে ফিরতে পারেননি। নতুন করে হোটেলে থাকার জায়গা না পাওয়ায় অনেক যাত্রী চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন।
মক্কা ও মদিনার প্রায় সব হোটেলই বর্তমানে পূর্ণ থাকায় (হাউজফুল), অনেক যাত্রী বাধ্য হয়ে হোটেলের লবি বা বিমানবন্দরে বসে সময় কাটাচ্ছেন। এর ফলে সৌদি আরবসহ উপসাগরীয় বিভিন্ন দেশে শত শত যাত্রী আটকা পড়েছেন।
সাম্প্রতিক সংঘাতের জেরে ইরান, ইরাক, কুয়েত, কাতার এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের আকাশসীমায় বিভিন্ন ধরনের বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। কিছু আন্তর্জাতিক এয়ারলাইন বিকল্প রুট ব্যবহার করে সীমিতভাবে ফ্লাইট পরিচালনা করছে, তবে নিরাপত্তা বিবেচনায় অনেক ফ্লাইট পুরোপুরি বাতিল করা হয়েছে।
সৌদি আরবের জেদ্দা ও রিয়াদ বিমানবন্দরে যাত্রীদের দীর্ঘ লাইনে অপেক্ষা করতে দেখা গেছে। যাদের ট্রানজিট ফ্লাইট ছিল বা যারা নিজ দেশে ফেরার অপেক্ষায় ছিলেন, তাদের অনেকেই বিমানবন্দর ও হোটেলে আটকা পড়ে আছেন। এয়ারলাইনগুলো যাত্রীদের জন্য ফ্লাইট পুনর্নির্ধারণ ও বিকল্প ভ্রমণ ব্যবস্থার কথা জানিয়েছে। বর্তমান অস্থির পরিস্থিতিতে বহু ফ্লাইট বাতিল বা অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত থাকলেও বেশিরভাগ এয়ারলাইন যাত্রীদের টিকিটের পূর্ণ অর্থ ফেরত দিচ্ছে না। অনেক ক্ষেত্রে যাত্রীদের নগদ রিফান্ডের পরিবর্তে ভবিষ্যৎ ভ্রমণের জন্য ভাউচার বা ফ্লাইট রি-শিডিউলের প্রস্তাব দেওয়া হচ্ছে। এতে করে ইতোমধ্যে আর্থিক ও মানসিক চাপে থাকা যাত্রীরা আরও ভোগান্তির মুখে পড়েছেন।
আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, সংঘাত শুরুর পরপরই হাজার হাজার ফ্লাইট বাতিল হয়েছে এবং পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে আরও সময় লাগতে পারে।
এদিকে বিভিন্ন দেশ তাদের নাগরিকদের অপ্রয়োজনীয় ভ্রমণ এড়িয়ে চলার পরামর্শ দিয়েছে এবং যাত্রীদের নিয়মিতভাবে ফ্লাইট আপডেট যাচাই করার আহ্বান জানিয়েছে।
দ্রুত পরিবর্তনশীল এই পরিস্থিতিতে মধ্যপ্রাচ্যের আকাশপথে স্বাভাবিক ফ্লাইট চলাচল কবে পুরোপুরি শুরু হবে, তা এখনও অনিশ্চিত।





