মোহাম্মদ আব্দুল মুনিম জাহেদী ক্যারল, মদিনা থেকে।
আলহামদুলিল্লাহ, আজ শনিবার ২১ মার্চ ইসলামের ইতিহাসের প্রথম মসজিদ মসজিদে কুবা সফর করার সৌভাগ্য অর্জন করেছি। সেখানে মাগরিবের নামাজ আদায় করার পর দুই রাকাআত নফল সালাত আদায় করতে পেরে মহান আল্লাহর দরবারে শুকরিয়া আদায় করছি। এ সফরে আমার সঙ্গে ছিলেন হাফিজ মনসুর আহমেদ শাওন, মিজানুল চৌধুরী এবং সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী।
মসজিদে কুবা ৬২২ খ্রিস্টাব্দে মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) মক্কা থেকে মদিনায় হিজরতের সময় কুবা নামক স্থানে প্রতিষ্ঠা করেন। সাহাবীদের সহযোগিতায় নির্মিত এই মসজিদটিই ইসলামের ইতিহাসে প্রথম মসজিদ হিসেবে পরিচিত এবং এটি তাকওয়া বা আল্লাহভীতির ভিত্তির ওপর প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। মসজিদটি মদিনা থেকে প্রায় ৩.২৫ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত।
হিজরতের পর রাসূল (সা.) মদিনায় প্রবেশের আগে কয়েকদিন কুবায় অবস্থান করেন এবং নিজ হাতে এই মসজিদের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। পবিত্র কুরআনের সূরা আত-তওবার ১০৮ নম্বর আয়াতে এই মসজিদের কথা উল্লেখ করে একে “তাকওয়ার ওপর প্রতিষ্ঠিত মসজিদ” হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে।
হাদিসে বর্ণিত আছে, মসজিদে কুবায় দুই রাকাআত সালাত আদায় করলে একটি উমরার সমপরিমাণ সওয়াব পাওয়া যায়। এই মহান ফজিলতের আশাতেই মূলত আমাদের এই সফর। এছাড়া রাসূল (সা.) প্রতি শনিবার পায়ে হেঁটে এখানে আসতেন এবং সালাত আদায় করতেন—যা তাঁর সুন্নাতের একটি উজ্জ্বল নিদর্শন।
আজ মসজিদে প্রচুর মুসল্লির ভিড় ছিল। জায়গা সংকুলান না হওয়ায় আমরা প্রথমে মসজিদের বাইরে মাগরিবের নামাজ আদায় করি। পরে ভিড় কিছুটা কমলে ভেতরে প্রবেশ করে দুই রাকাআত নফল সালাত আদায় করি। সেই মুহূর্তটি ছিল অত্যন্ত প্রশান্তিময় ও হৃদয়স্পর্শী।
১৯৯২ সালে হজ পালন শেষে আমার শ্রদ্ধেয় পিতার সঙ্গে আট দিনের জন্য মদিনা মুনাওয়ারায় অবস্থান করার সৌভাগ্য হয়েছিল। তিনি হজ ও ইসলামী ইতিহাস বিষয়ে অত্যন্ত জ্ঞানী ছিলেন। সে সময় প্রায় প্রতিদিন ফজরের নামাজ আদায় করে রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর রওজায় দরুদ পাঠ, জান্নাতুল বাকী কবরস্থান জিয়ারত এবং পায়ে হেঁটে মসজিদে কুবা সফর করার সুযোগ হয়েছিল। বর্তমানে প্রশাসনের উদ্যোগে মদিনা থেকে কুবা পর্যন্ত হাঁটার পথ আরও উন্নত ও সুন্দর করা হয়েছে, ফলে যাতায়াত এখন অনেক সহজ হয়েছে।
সৌদি আরব সরকার এই ঐতিহাসিক মসজিদের ব্যাপক সম্প্রসারণ ও সৌন্দর্যবর্ধনের কাজ হাতে নিয়েছে। সৌদি যুবরাজ মুহাম্মদ বিন সালমান মদিনা সফরকালে এই বৃহৎ সম্প্রসারণ প্রকল্পের উদ্বোধন করেন। পরিকল্পনা অনুযায়ী প্রায় ৫০ হাজার বর্গমিটার এলাকা জুড়ে মসজিদটি সম্প্রসারিত হবে এবং একসঙ্গে প্রায় ৬৬ হাজার মুসল্লি এখানে নামাজ আদায় করতে পারবেন।
আল্লাহ তাআলা যেন আমাদের সবাইকে এই পবিত্র স্থানগুলো বারবার জিয়ারত করার তাওফিক দান করেন এবং আমাদের ইবাদত কবুল করেন। আমিন 🤍






