লন্ডন: টাওয়ার হ্যামলেটস কাউন্সিলের হোম কেয়ার সার্ভিসের অন্তর্বর্তীকালীন চুক্তি থেকে বাদ পড়ার চ্যালেঞ্জ জানিয়ে করা আপাসেনের (Apasen) আইনি আবেদন খারিজ করে দিয়েছে হাইকোর্ট। আদালতের এই রায়কে কাউন্সিলের স্বচ্ছতা ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের বড় জয় হিসেবে দেখা হচ্ছে।
২০২৫ সালের ১৮ জুন টাওয়ার হ্যামলেটস কাউন্সিল কিছু বিদ্যমান সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের সাথে হোম কেয়ার সেবার অন্তর্বর্তীকালীন চুক্তি করার সিদ্ধান্ত নেয়। তবে এই তালিকায় রাখা হয়নি দীর্ঘদিনের পরিচিত সংস্থা আপাসেন-কে। কাউন্সিলের পক্ষ থেকে জানানো হয়, স্বাধীন হিসাবরক্ষকদের মাধ্যমে পরিচালিত তদন্তে আপাসেনের অভ্যন্তরীণ সুশাসন এবং আর্থিক নিয়ন্ত্রণের বিষয়ে কিছু উদ্বেগজনক তথ্য পাওয়ায় তারা এই সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়েছে।
আইনি লড়াই ও আদালতের পর্যবেক্ষণ
কাউন্সিলের এই সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করে আপাসেন হাইকোর্টে একটি ‘জুডিশিয়াল রিভিউ’ (বিচার বিভাগীয় পর্যালোচনা) আবেদন করে। তাদের দাবি ছিল কাউন্সিলের সিদ্ধান্তটি বেআইনি এবং অবিলম্বে তাদের সাথে চুক্তি সম্পন্ন করতে হবে।
তবে হাইকোর্ট আপাসেনের এই দাবি নাকচ করে দিয়ে মামলার কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার অনুমতি দিতে অস্বীকার করেছে। আদালতের পর্যবেক্ষণে বলা হয়:
- আপাসেনের অবস্থান যুক্তিসঙ্গত বা সঠিক ছিল না।
- কাউন্সিল অত্যন্ত যৌক্তিকভাবে এবং সঠিক কারণ দর্শিয়েই এই সিদ্ধান্তে পৌঁছেছে।
- কাউন্সিলের সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়াটি ছিল আইনসম্মত।
পাবলিক প্রকিউরমেন্ট আইন ভঙ্গের অভিযোগে আপাসেনের অন্য একটি মামলা ঝুলে থাকলেও, জুডিশিয়াল রিভিউ মামলার বিচারক অভিমত দিয়েছেন যে, কাউন্সিলের প্রতিরক্ষা যুক্তিগুলো ঐ মামলার অভিযোগ খণ্ডন করার জন্যও যথেষ্ট।
“আমরা আদালতের এই রায়কে স্বাগত জানাই। আমাদের সিদ্ধান্তগুলো যে বলিষ্ঠ, আইনসম্মত এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের সর্বোত্তম স্বার্থ রক্ষায় নেওয়া হয়েছে—আদালতের এই আদেশ তারই প্রতিফলন।”
— টাওয়ার হ্যামলেটস কাউন্সিল কর্তৃপক্ষ
কাউন্সিল আশা প্রকাশ করেছে যে, এই রায়ের মাধ্যমে দীর্ঘস্থায়ী এই আইনি বিবাদের অবসান ঘটবে এবং তারা এখন সেবার মানোন্নয়নে পূর্ণ মনোযোগ দিতে পারবে।


