ওয়াশিংটন/ইসলামাবাদ: মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনা ও ইরানের সঙ্গে সংঘাতের স্থায়ী অবসানে ১৫ দফার একটি শান্তি প্রস্তাব পেশ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। দীর্ঘদিনের বৈরিতা কাটিয়ে শান্তি ফেরানোর এই উদ্যোগে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে পাকিস্তান।
মঙ্গলবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সাংবাদিকদের জানান যে, ইরান পরমাণু অস্ত্র তৈরি না করার বিষয়ে প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। তিনি বলেন, “আমরা এই মুহূর্তে আলোচনার মধ্যে রয়েছি। অন্য পক্ষও একটি চুক্তিতে আসতে চায়।” ট্রাম্প আরও দাবি করেন যে, তেহরান থেকে একটি অত্যন্ত মূল্যবান ‘উপহার’ পাঠানো হয়েছে, যা মূলত তেল ও গ্যাস সংক্রান্ত।
কী আছে এই ১৫ দফা প্রস্তাবে?
যদিও মার্কিন প্রশাসন নিরাপত্তার স্বার্থে এই ১৫ দফা প্রস্তাবের সব বিষয় জনসমক্ষে আনেনি, তবে কূটনৈতিক সূত্রে জানা গেছে এই প্রস্তাবের মূল লক্ষ্যগুলো হলো:
১. ইরানের পরমাণু কর্মসূচি স্থায়ীভাবে বন্ধ করা।
২. ইরানের ব্যালেস্টিক মিসাইল বা ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচির ওপর কঠোর সীমাবদ্ধতা আরোপ।
৩. মধ্যপ্রাচ্যে হিজবুল্লাহ ও হুতির মতো সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে ইরানের সমর্থন প্রদান বন্ধ করা।
৪. হরমুজ প্রণালী দিয়ে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল নির্বিঘ্ন রাখা।
পাকিস্তানের ভূমিকা:
পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরীফ জানিয়েছেন, তার দেশ যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে অর্থবহ আলোচনার পরিবেশ তৈরি করতে প্রস্তুত। ইসলামাবাদের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, তারা সবসময়ই আলোচনার মাধ্যমে আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখার পক্ষে।
আলোচনায় জেডি ভ্যান্সের নাম:
কূটনৈতিক মহলে গুঞ্জন শোনা যাচ্ছে যে, ইরানের সঙ্গে এই গুরুত্বপূর্ণ শান্তি আলোচনায় মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সকে প্রধান মধ্যস্থতাকারী হিসেবে দেখা যেতে পারে। জানা গেছে, আগের মধ্যস্থতাকারীদের বিষয়ে ইরানের কিছুটা আপত্তি থাকায় ভ্যান্সকে সামনে আনা হতে পারে।
এদিকে, তেহরান আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো আলোচনার কথা অস্বীকার করলেও মার্কিন প্রেসিডেন্ট আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে জানিয়েছেন যে, দুই দেশ প্রায় সব বিষয়েই ঐকমত্যে পৌঁছানোর কাছাকাছি রয়েছে। যদি এই ১৫ দফা প্রস্তাব কার্যকর হয়, তবে তা বিশ্ব অর্থনীতি ও বিশেষ করে জ্বালানি তেলের বাজারের জন্য একটি বড় স্বস্তির খবর হবে।
সূত্র: জিবি নিউজ





