০৭ এপ্রিল, ২০২৬
ভোলায় ফেসবুক পোস্টকে কেন্দ্র করে একজন নারী রাজনৈতিক কর্মী বিবি সাওদা (৩৭) কে গ্রেপ্তার ও হয়রানির ঘটনায় “হিউম্যান রাইটস সাপোর্ট সোসাইটি (এইচআরএসএস)” তীব্র নিন্দা ও গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করছে এবং মনে করছে যে এ ধরনের পদক্ষেপ সংবিধান, প্রচলিত আইন এবং আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইনের একাধিক মৌলিক অধিকারের ধারার সঙ্গে সাংঘর্ষিক।
বাংলাদেশের সংবিধানের ৩৯ অনুচ্ছেদে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও চিন্তার স্বাধীনতা নিশ্চিত করা হয়েছে। শুধুমাত্র সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মতপ্রকাশের কারণে কাউকে গ্রেপ্তার করা হলে তা এই মৌলিক অধিকারের লঙ্ঘন হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। এছাড়া ৩১ অনুচ্ছেদে আইনের আশ্রয় লাভের অধিকার এবং ৩২ অনুচ্ছেদে ব্যক্তি স্বাধীনতার নিশ্চয়তা প্রদান করা হয়েছে—যা কোনো যথাযথ ও ন্যায়সংগত প্রক্রিয়া ছাড়া হস্তক্ষেপ করা যায় না। এছাড়া ফৌজদারি বিচার ব্যবস্থার মৌলিক নীতি অনুযায়ী, কোনো ব্যক্তিকে গ্রেপ্তারের ক্ষেত্রে যুক্তিসঙ্গত কারণ, স্বচ্ছতা এবং যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ করা আবশ্যক। যদি গ্রেপ্তারটি শুধুমাত্র মতপ্রকাশের কারণে হয়ে থাকে এবং তা সহিংসতা বা আইনশৃঙ্খলা বিঘ্নের সাথে সরাসরি সম্পর্কিত না হয়, তবে তা আইনের অপব্যবহার হিসেবে প্রতীয়মান হতে পারে।
বাংলাদেশ স্বাক্ষরিত সার্বজনীন মানবাধিকার ঘোষণা (UDHR)-এর ১৯ অনুচ্ছেদে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা হয়েছে। একইভাবে, আন্তর্জাতিক নাগরিক ও রাজনৈতিক অধিকার সনদ (ICCPR)-এর ১৯ অনুচ্ছেদে মতামত প্রকাশের স্বাধীনতা স্বীকৃত। এছাড়াও, ICCPR-এর ৯ অনুচ্ছেদে ব্যক্তির স্বাধীনতা ও নিরাপত্তার অধিকার নিশ্চিত করা হয়েছে, যেখানে বলা হয়েছে যে কাউকে ইচ্ছামতো বা খামখেয়ালিভাবে গ্রেপ্তার বা আটক করা যাবে না।
হিউম্যান রাইটস সাপোর্ট সোসাইটি (এইচআরএসএস) মনে করে যে, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নাগরিকের মানবাধিকার ও একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের ভিত্তি। এই ধরনের গ্রেপ্তার ও হয়রানি কেবল ব্যক্তি অধিকারের পরিপন্থী নয়, বরং সামগ্রিকভাবে গণতান্ত্রিক পরিবেশকে সংকুচিত করে। এইচআরএসএস অবিলম্বে ঘটনাটির একটি নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ তদন্তের আহ্বান জানাচ্ছে এবং ভবিষ্যতে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা রক্ষায় কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি জোর দাবি জানাচ্ছে।






