মো: আব্দুল মুনিম জাহেদী ক্যারল
সাউথ আমেরিকার উত্তর উপকূলে অবস্থিত এক অনন্য দেশ Guyana—যেখানে প্রকৃতি, সংস্কৃতি আর শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের এক অসাধারণ মেলবন্ধন। এই মহাদেশের একমাত্র ইংরেজিভাষী দেশটির রাজধানী Georgetown, আর তার বুক চিরে বয়ে চলেছে বিশাল Essequibo River।
গায়না যেন বৈচিত্র্যের এক রঙিন ক্যানভাস। এখানে পাশাপাশি বসবাস করেন Indo-Guyanese, Afro-Guyanese ও Amerindian জনগোষ্ঠী—ভিন্ন শেকড়, ভিন্ন সংস্কৃতি, অথচ একসাথে গড়ে তুলেছেন সম্প্রীতির এক অনন্য উদাহরণ। ধর্মীয় দিক থেকেও রয়েছে দৃষ্টিনন্দন সহাবস্থান—হিন্দু, মুসলিম ও খ্রিস্টানরা একসাথে উদযাপন করেন Diwali, Eid al-Fitr ও Christmas।
প্রাকৃতিক সম্পদে ভরপুর এই দেশটি আজ দ্রুত উন্নয়নের পথে এগিয়ে চলছে—তেল, স্বর্ণ, হীরা, বনসম্পদ ও কৃষি গায়নার অর্থনীতিকে দিয়েছে নতুন গতি। দেশের নেতৃত্বে রয়েছেন প্রেসিডেন্ট Irfaan Ali এবং প্রধানমন্ত্রী Mark Phillips—একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র হিসেবে গায়না এগিয়ে যাচ্ছে আত্মবিশ্বাস নিয়ে।
প্রকৃতিপ্রেমীদের জন্য গায়না সত্যিই এক স্বর্গরাজ্য।
গভীর অরণ্যের বুক চিরে নেমে আসা Kaieteur Falls—বিশ্বের অন্যতম শক্তিশালী জলপ্রপাত, যার গর্জন যেন প্রকৃতির নিজস্ব সংগীত।
অপরদিকে Iwokrama Forest—অসীম সবুজে ঘেরা এক রহস্যময় রেইনফরেস্ট, যেখানে বন্যপ্রাণী আর নিস্তব্ধতা মিলেমিশে সৃষ্টি করেছে এক অনন্য পরিবেশ।
শহরের বুকে দাঁড়িয়ে থাকা St. George’s Cathedral—বিশ্বের অন্যতম উঁচু কাঠের গির্জা, যেন ইতিহাসের এক নিঃশব্দ সাক্ষী। আর সমুদ্রতীরের Shell Beach—যেখানে সামুদ্রিক কচ্ছপেরা ডিম পাড়তে আসে, প্রকৃতির এক কোমল বিস্ময়।
উষ্ণ ও আর্দ্র আবহাওয়া, বছরের দুইবার বর্ষা—সব মিলিয়ে গায়না যেন এক জীবন্ত, শ্বাসপ্রশ্বাস নেওয়া প্রকৃতির দেশ।
গায়না শুধু একটি দেশ নয়, এটি এক অভিজ্ঞতা—যেখানে মানুষ, প্রকৃতি আর সংস্কৃতি মিলে তৈরি করেছে এক শান্ত, সৌন্দর্যময় পৃথিবী। এখানে প্রতিটি মুহূর্ত যেন নতুন কিছু শেখায়, নতুন করে ভালোবাসতে শেখায় পৃথিবীকে।
৬ স্ঠ দিন: গায়না – এক অনন্য অভিজ্ঞতার দিন
আজকের দিনটি ছিল ভিন্ন এক অনুভূতির—আত্মিকতা, জ্ঞান আর ভ্রাতৃত্ববোধে ভরা এক স্মরণীয় দিন।
সকালের নরম আলোয়, নাস্তা শেষ করে আমরা যাত্রা শুরু করলাম। আমাদের দক্ষ গ্রুপ লিডার দিলোয়ার খান আগেই সব আয়োজন সুন্দরভাবে সম্পন্ন করেছিলেন। মিনিবাসে করে আমরা পৌঁছে গেলাম Guyana Muslim Institute—গায়ানার মুসলিম সমাজের এক ঐতিহাসিক ও প্রভাবশালী কেন্দ্র।
প্রবেশ করতেই উষ্ণ অভ্যর্থনায় আমাদের স্বাগত জানালেন প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যান, বিশিষ্ট আলেম শেখ আব্দুল আলিম। তাঁর আন্তরিকতা আর সৌজন্য যেন মুহূর্তেই আমাদের আপন করে নিল। সেখানে উপস্থিত ছিল অনেক ছাত্র—তাদের উজ্জ্বল চোখে ছিল জানার আগ্রহ, শেখার তৃষ্ণা।
কুশল বিনিময়ের পর শুরু হলো এক প্রাণবন্ত জ্ঞানচর্চার পর্ব। বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ড. মুসলেহ ফারাদী -এর নেতৃত্বে ছাত্রদের নিয়ে অনুষ্ঠিত হলো একটি অনুপ্রেরণামূলক ক্লাস—যেখানে জ্ঞানের আলো ছড়িয়ে পড়লো হৃদয় থেকে হৃদয়ে। প্রায় এক ঘণ্টার সেই সেশনটি ছিল গভীর মনোযোগ ও ভাবনার এক অপূর্ব মেলবন্ধন।

এরপর আমরা সবাই একসাথে আদায় করলাম যোহরের নামাজ। নামাজ শেষে ছাত্রদের সঙ্গে বসে একত্রে লাঞ্চ—যেন এক পরিবারে মিলিত হওয়ার অনুভূতি। সরল অথচ আন্তরিক সেই মুহূর্তগুলো আজীবন মনে রাখার মতো।
লাঞ্চের পর আবার বসা হলো চেয়ারম্যান শেখ আব্দুল আলিমের সঙ্গে। তাঁর মুখ থেকে শুনলাম এই প্রতিষ্ঠানের গৌরবময় ইতিহাস। আনুমানিক ১৮৯০-এর দশকে প্রতিষ্ঠিত এই প্রতিষ্ঠানটি গড়ে উঠেছিল ভারতীয় উপমহাদেশ থেকে আগত মুসলিম অভিবাসীদের হাত ধরে। তাদের লক্ষ্য ছিল—প্রবাসে থেকেও ধর্মীয় ও সামাজিক পরিচয় অটুট রাখা।
Georgetown-এর South Road এলাকায় অবস্থিত এই প্রতিষ্ঠানে রয়েছে একটি বৃহৎ মসজিদ, মাদরাসা ও কমিউনিটি হল। শিক্ষা কার্যক্রমে তারা অত্যন্ত সক্রিয়—শিশুদের কোরআন শিক্ষা, আরবি ভাষা, ইসলামিক স্টাডিজ (আকিদা, ফিকহ, হাদিস) এবং নিয়মিত সাপ্তাহিক ও সন্ধ্যাকালীন ক্লাস পরিচালনা করে।
শুধু ধর্মীয় ক্ষেত্রেই নয়, সামাজিক দায়িত্বেও তারা অগ্রণী। যাকাত বিতরণ, রমজানে ইফতার আয়োজন, ঈদের জামাত, বিয়ে-জানাজাসহ নানা সামাজিক কর্মকাণ্ডে তাদের সক্রিয় ভূমিকা সত্যিই প্রশংসনীয়।
দৈনিক পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ, জুমা, রমজানে তারাবিহ, মিলাদ ও মাহফিল—সব মিলিয়ে Guyana Muslim Institute যেন গায়ানার মুসলিম সমাজের প্রাণকেন্দ্র।
আজকের দিনটি শুধু একটি ভ্রমণ নয়—এটি ছিল আত্মার এক সফর। প্রবাসের মাটিতে থেকেও কীভাবে মানুষ তাদের ধর্ম, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যকে আঁকড়ে ধরে রাখে—তার জীবন্ত উদাহরণ দেখলাম আমরা।
এই অভিজ্ঞতা আমাদের হৃদয়ে রেখে গেল গভীর শ্রদ্ধা, ভালোবাসা আর এক অদ্ভুত প্রশান্তি।
গায়নার একটি মসজিদ ও দাওয়াত সেন্টার পরিদর্শন
একটি মসজিদ ও দাওয়াত সেন্টার পরিদর্শনের মধ্য দিয়ে আমাদের দিনের কার্যক্রম শুরু হয়। সেখানে গিয়ে আমরা ইমাম শেখ উজির ও
ছাত্রদের সাথে আন্তরিকভাবে মিলিত হই এবং তাদের সঙ্গে কিছু সময় কাটাই। এরপর একসাথে মধ্যাহ্নভোজ সম্পন্ন করি, যা ছিল বেশ আনন্দঘন ও স্মরণীয়।
লাঞ্চের পর ছাত্রদের নিয়ে একটি মতবিনিময় সভার আয়োজন করা হয়। সভায় বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনা হয় এবং সবার মধ্যে একটি সুন্দর ভাবের আদান-প্রদান গড়ে ওঠে।
আমাদের সাথে গাইড হিসেবে ছিলেন স্থানীয় বাসিন্দা মনতাজ। তিনি এলাকাবাসীর কাছে অত্যন্ত জনপ্রিয় ও সবার সাথে সুপরিচিত একজন ব্যক্তি। তার আন্তরিক সহযোগিতা ও দিকনির্দেশনার ফলে পুরো ভ্রমণটি আরও সহজ, সুন্দর এবং উপভোগ্য হয়ে ওঠে।
গায়ানার সহ-রাষ্ট্রপতি ভারত জাগডিও–এর সঙ্গে ব্রিটিশ-বাংলাদেশি প্রতিনিধিদলের সৌজন্য সাক্ষাৎ
গায়ানার প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেতা ও সহ-রাষ্ট্রপতি ভারত জাগদিও –এর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ ও মতবিনিময় করেছেন যুক্তরাজ্যভিত্তিক এক ব্রিটিশ-বাংলাদেশি প্রতিনিধিদল। সোমবার (৬ এপ্রিল) অনুষ্ঠিত এই সাক্ষাতে দুই পক্ষ পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন।

সহ-রাষ্ট্রপতি জাগদিও আগত অতিথিদের উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান এবং তাদের সঙ্গে গায়ানার উন্নয়ন, আন্তর্জাতিক সহযোগিতা ও কমিউনিটি পর্যায়ে কাজের বিভিন্ন দিক নিয়ে মতবিনিময় করেন।
লন্ডন থেকে আগত প্রতিনিধিদলে ছিলেন—লন্ডন থেকে আগত প্রতিনিধিদলে ছিলেন—লন্ডন ইস্ট একাডেমির সাবেক প্রিন্সিপাল, মুসলিম কমিউনিটি এসোসিয়েশনের বার বার নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট, লেখক ও গবেষক ড. মুসলেহ ফারাদী, লন্ডন বাংলা প্রেসক্লাবের সাবেক প্রেসিডেন্ট ও ইস্ট এন্ড চ্যারিটি সংস্থার প্রেসিডেন্ট সাংবাদিক নবাব উদ্দিন; যুক্তরাজ্যের সর্ববৃহৎ যুব সংগঠন ইয়াং মুসলিম অর্গানাইজেশনের সাবেক প্রেসিডেন্ট এবং ইস্ট লন্ডন মসজিদের সাবেক প্রেসিডেন্ট আয়ুব খান; ইস্ট লন্ডন মসজিদের সাবেক ডিরেক্টর ও ইসলামিক ফোরাম ইউরোপের সাবেক প্রেসিডেন্ট দিলোয়ার হোসেন খান;
ব্রিটেনের উচ্চ আদালতের প্র্যাকটিসিং ব্যারিস্টার, লেখক ও সংবিধান বিশেষজ্ঞ ব্যারিস্টার নাজির আহমেদ; হেইবারিং কলেজের লেকচারার ও রেডব্রিজ কাউন্সিলের কাউন্সিলর ড. জামাল উদ্দিন; ব্রিট কলেজের চিফ এক্সিকিউটিভ ও ইস্ট লন্ডন মসজিদের সাবেক ট্রেজারার মুসাদ্দিক আহমেদ; লন্ডন বাংলা প্রেসক্লাবের আজীবন সদস্য ও ফাইন্যান্স বিশেষজ্ঞ বাব-উল-হক;
ইস্ট লন্ডন মসজিদের হেড অব অ্যাসেট অ্যান্ড অপারেশন আসাদুজ্জ মোহাম্মদ জামান; ডাগেনহাম কমিউনিটি ফোরাম এর চেয়ারম্যান,কমিউনিটি ব্যক্তিত্ব সুহেল সিরাজী; এবং লেখক ও কলামিস্ট, এলবি ২৪–এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক, ইউরো বাংলা’র প্রধান সম্পাদক ও লন্ডন এডুকেশন ট্রাস্টের প্রেসিডেন্ট সাংবাদিক মোহাম্মদ আব্দুল মুনিম জাহেদী ক্যারল।
উল্লেখ্য, Bharat Jagdeo ১৯৬৪ সালের ২৩ জানুয়ারি গায়ানার ডেমেরারা-মাহাইকা অঞ্চলের ইউনিটি গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। ছাত্রজীবনেই তিনি পিপলস প্রগ্রেসিভ পার্টির (PPP) যুব সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত হন এবং পরবর্তীতে রাশিয়ার Patrice Lumumba University থেকে অর্থনীতিতে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন।
রাজনৈতিক জীবনে তিনি ১৯৯৫ সালে অর্থমন্ত্রী এবং ১৯৯৯ সালে মাত্র ৩৫ বছর বয়সে গায়ানার রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। ১৯৯৯ থেকে ২০১১ সাল পর্যন্ত টানা দুই মেয়াদে রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন তিনি। বর্তমানে ২০২০ সাল থেকে তিনি গায়ানার সহ-রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
তার নেতৃত্বে গায়ানার অর্থনীতি উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পায়, বৈদেশিক ঋণ কমে আসে এবং অবকাঠামো উন্নয়নে বড় অগ্রগতি হয়। এছাড়া জলবায়ু পরিবর্তন ও আঞ্চলিক সহযোগিতার ক্ষেত্রেও তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছেন।
সাউথ আমেরিকার গায়ানার ৬ষ্ট দিন
সকালে নাস্তা খেয়ে আমাদের যাত্রা শুরু ইসলামিক একাডেমি পরিদর্শন
লেগুয়ান দ্বীপ: এসেকুইবো নদীর বুকে একদিন
দ্বীপ ভ্রমণের পুরো সময়জুড়ে আমাদের সাথে ছিলেন স্থানীয় একজন মানুষ—মনতাজ। তিনি ছিলেন আমাদের গাইড, সহযাত্রী এবং এক অর্থে এই ভ্রমণের প্রাণ। অত্যন্ত পরিশ্রমী ও আন্তরিক মানুষ মনতাজ সবসময় আমাদের পাশে থেকে দ্বীপের বিভিন্ন জায়গা ঘুরিয়ে দেখিয়েছেন। তার সহজ-সরল আচরণ আমাদের মন ছুঁয়ে যায়।
দ্বীপে পৌঁছানোর যাত্রাটাও ছিল বেশ রোমাঞ্চকর। আমরা ১২ সিটের একটি ছোট নৌকা ভাড়া করি। উত্তাল ঢেউয়ের দোলায় দুলতে দুলতে প্রায় ২৫ মিনিটের মধ্যেই পৌঁছে যাই লেগুয়ান দ্বীপে। সেই যাত্রার প্রতিটি মুহূর্ত ছিল রোমাঞ্চে ভরপুর—একদিকে নদীর বিশালতা, অন্যদিকে প্রকৃতির টান, সব মিলিয়ে এক অসাধারণ অভিজ্ঞতা।
দক্ষিণ আমেরিকার গায়ানার উপকূলে, এসেকুইবো নদীর ব-দ্বীপে ছোট্ট এক শান্ত দ্বীপ—লেগুয়ান আইল্যান্ড। নদীর বিশাল জলরাশির মাঝে অবস্থিত এই দ্বীপটি যেন প্রকৃতির এক নিভৃত আশ্রয়। পাখির ডানার মতো আকৃতির এই দ্বীপটি প্রায় ৯ মাইল লম্বা এবং প্রায় ২ মাইল চওড়া, মোট আয়তন প্রায় ১২ বর্গমাইল। দুটি মসজিদ আছে।
লেগুয়ান নামটির পেছনেও রয়েছে মজার একটি ইতিহাস। বহু বছর আগে যখন প্রথম বসতি স্থাপনকারীরা এখানে আসেন, তখন দ্বীপজুড়ে ছিল অসংখ্য ইগুয়ানা। সেই থেকেই নাম হয় “লেগুয়ান”, যা ডাচ ভাষায় ইগুয়ানাকে বোঝায়।
দ্বীপে পা রাখতেই মনে হয় সময় যেন একটু ধীরে চলে। চারদিকে সবুজের সমারোহ, শান্ত পরিবেশ আর নদীর মৃদু স্রোত—সব মিলিয়ে এক অনন্য অনুভূতি। শহরের কোলাহল থেকে দূরে এই দ্বীপ যেন প্রকৃতির সাথে একান্তে সময় কাটানোর আদর্শ স্থান।
স্থানীয় মানুষের জীবনযাপনও খুবই সরল ও আন্তরিক। কৃষিকাজ, মাছ ধরা আর ছোটখাটো ব্যবসার মধ্য দিয়েই তাদের দিন কাটে। তাদের হাসিমুখ আর অতিথিপরায়ণতা ভ্রমণকে আরও স্মরণীয় করে তোলে।
লেগুয়ান দ্বীপে ভ্রমণ শুধু একটি স্থান দেখা নয়, বরং এটি একটি অনুভূতি—প্রকৃতির কাছে ফিরে যাওয়ার, সরল জীবনের স্বাদ নেওয়ার এবং ইতিহাসের ছোঁয়া অনুভব করার এক অনন্য সুযোগ।
দ্বীপ ভ্রমণের পুরো সময়জুড়ে আমাদের সাথে ছিলেন স্থানীয় এক আপন মানুষ—মনতাজ। তিনি শুধু গাইডই নন, অল্প সময়েই যেন আমাদেরই একজন হয়ে উঠেছিলেন। তার পরিশ্রম, আন্তরিকতা আর হাসিমাখা সহজ-সরল আচরণ আমাদের বারবার মুগ্ধ করেছে। দ্বীপের প্রতিটি কোণ তিনি এমন ভালোবাসা দিয়ে দেখিয়েছেন, যেন নিজের ঘরের দরজাই আমাদের জন্য খুলে দিয়েছেন।
এই দ্বীপ সত্যিই এক ফলের ভাণ্ডার—চারদিকে নারিকেল, আম, আনারস, পেঁপে আর নানান রকমের ফলের সমারোহ। প্রকৃতি যেন এখানে অকৃপণ হাতে তার দান বিলিয়ে দিয়েছে। কাঠাল ছাড়া বাকি সব ফল মন ভরে উপভোগ করার এক নতুন অভিজ্ঞতা হয়েছে। আমরা যখন হালকা করে কাঠালের কথা বলেছিলাম, মনতাজ তা নীরবে মনে রেখে দিয়েছিলেন। কিছুক্ষণ পরই তিনি একটি পাকা, সুগন্ধি কাঠাল নিয়ে এসে আমাদের হাতে তুলে দেন। সেই ছোট্ট যত্ন আর আন্তরিকতায় আমরা গভীরভাবে আপ্লুত হই।
রাতে হোটেলে ফিরে সেই কাঠালকে ঘিরে বসে আরেকটি আনন্দমুখর আসর। হাসি-আড্ডার উচ্ছ্বাসে সবাই মিলে কাঠালের মিষ্টি স্বাদ উপভোগ করতে করতে দিনের স্মৃতিগুলো আরও রঙিন হয়ে ওঠে। মুহূর্তগুলো ছিল খুবই সাধারণ, অথচ তাতে মিশে ছিল এক অপূর্ব মাধুর্য—যা ভ্রমণের আসল সৌন্দর্যকে আরও গভীরভাবে অনুভব করায়।
চলবে…



