ব্রিটিশ মুসলিম বুদ্ধিজীবী, এইচএফএ-এর প্রতিষ্ঠাতা সদস্য ও প্রথম চেয়ারম্যান ড. গিয়াসউদ্দিন সিদ্দিকী-কে রবিবার, ১৯ এপ্রিল, চেশাম কবরস্থানে দাফন করা হয়। তাঁর জানাজার নামাজ চেশামের একটি মসজিদে বিপুল উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত হয়। উপস্থিত সবাই তাঁর প্রতি শেষ শ্রদ্ধা নিবেদন করেন এবং তাঁর রূহের মাগফিরাত কামনা করেন।
দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে মানুষ তাঁকে শেষ শ্রদ্ধা জানাতে ছুটে আসেন। পরিবারের সদস্য, বন্ধু-বান্ধব, বিভিন্ন চ্যারিটি ও মসজিদের নেতৃবৃন্দ, কমিউনিটি কর্মী, সাংবাদিক, লেখক, প্রতিবেশী ও স্থানীয় বাসিন্দারা জানাজায় অংশ নেন এবং ব্রিটিশ মুসলিম সমাজ ও বৃহত্তর সমাজের জন্য তাঁর আজীবন নিষ্ঠা ও সেবার ভূয়সী প্রশংসা করেন।
ড. সিদ্দিকী মূলধারার বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করেছেন, পত্র-পত্রিকায় প্রবন্ধ লিখেছেন এবং মুসলিম সমাজ ও সামগ্রিক সামাজিক বিষয় নিয়ে বহু জাতীয় ও আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে সাক্ষাৎকার দিয়েছেন। তিনি দ্য মুসলিম ইনস্টিটিউট, হালাল ফুড অথরিটিসহ আরও কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।
জানাজার আগে সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে বিশিষ্টজন ও পরিবারের সদস্যরা তাঁর বহু সৎকর্ম স্মরণ করেন এবং তাঁকে এমন এক আদর্শ ব্যক্তিত্ব হিসেবে আখ্যায়িত করেন, যিনি অসংখ্য মানুষকে অনুপ্রাণিত করেছেন। তারা বলেন, তিনি কমিউনিটির জন্য অপরিসীম অবদান রেখে গেছেন এবং বহু বছর ধরে স্মরণীয় হয়ে থাকবেন।
ড. গিয়াসউদ্দিন সিদ্দিকী (৮৭) শনিবার, ১৮ এপ্রিল, সকাল প্রায় ৮টায় চেশামে তাঁর নিজ বাসভবনে ইন্তেকাল করেন। ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন। মহান আল্লাহ (সুবহানাহু ওয়া তা’আলা) তাঁকে ক্ষমা করুন, তাঁর সৎকর্মসমূহ কবুল করুন এবং তাঁকে জান্নাতুল ফিরদাউস দান করুন।
আমরা দোয়া করি, মহান আল্লাহ তাঁকে তাঁর অসীম রহমতে আচ্ছাদিত করুন এবং জান্নাতের সর্বোচ্চ স্থানে অধিষ্ঠিত করুন।
ড. গিয়াসউদ্দিন সিদ্দিকী ছিলেন একজন বিশিষ্ট ব্রিটিশ মুসলিম বুদ্ধিজীবী, সমাজকর্মী ও কমিউনিটি নেতা। ১৯৩৯ সালে দিল্লিতে জন্মগ্রহণ করেন। পরে তিনি পাকিস্তানে যান এবং ১৯৬৪ সালে যুক্তরাজ্যে স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করেন। তিনি ১৯৭৩ সালে দ্য মুসলিম ইনস্টিটিউট-এর সহ-প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন এবং পরে এর পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৯৬ সালের পর তিনি মুসলিম পার্লামেন্ট অব গ্রেট ব্রিটেন-এর নেতৃত্বও দেন।
তিনি ব্রিটেনে নাগরিক অধিকার, আন্তধর্মীয় সংলাপ, সামাজিক ন্যায়বিচার এবং মুসলিম কমিউনিটির উন্নয়নে তাঁর নিরলস কাজের জন্য ব্যাপকভাবে সম্মানিত ছিলেন। হালাল ফুড অথরিটি-র প্রতিষ্ঠাতা সদস্য ও প্রথম চেয়ারম্যান হিসেবে তিনি শিক্ষা, মানবাধিকার এবং ব্রিটিশ মুসলমানদের যথাযথ প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করতে দশকের পর দশক কাজ করে গেছেন।


