গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবরে জানা যায় যে, গতকাল ৮ মে শুক্রবার ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা সীমান্তে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) গুলি চালালে দুই বাংলাদেশি নাগরিক নিহত হন। প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ঘটনাটি সীমান্ত অতিক্রম বা সংশ্লিষ্ট কার্যকলাপকে কেন্দ্র করে ঘটে, যেখানে বিএসএফ সদস্যরা গুলি চালালে ঘটনাস্থলেই ওই দুইজন নিহত হন। এ ঘটনায় স্থানীয় জনগণের মধ্যে আতঙ্ক ও ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে।
এই নৃশংস ঘটনার তীব্র নিন্দা ও গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস সাপোর্ট সোসাইটি (এইচআরএসএস)। এইচআরএসএস- মনে করে, নিরস্ত্র নাগরিকদের ওপর এ ধরনের প্রাণঘাতী শক্তি প্রয়োগ আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইন ও মানবিক নীতিমালার সুস্পষ্ট লঙ্ঘন এবং এটি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
হিউম্যান রাইটস সাপোর্ট সোসাইটি (এইচআরএসএস) এর সংগৃহীত তথ্যমতে, ২০২৬ সালের জনুয়ারি থেকে মে মাস (চলমান) পর্যন্ত বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) কমপক্ষে ২২ টি হামলার ঘটনায় নিহত হয়েছেন কমপক্ষে ৫ জন, আহত হয়েছেন ১৪ জন, যাদের মধ্যে গুলিবিদ্ধ হয়ে আহত হয়েছন ০৮ জন। এছাড়া ভারতীয় নাগরিক খাসিয়াদের গুলিতে ২ জন বাংলাদেশি নিহত হয়েছেন এবং ২৩ জন বাংলাদেশীকে বিভিন্ন সীমান্ত থেকে আটক করেছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) ।
গত বছর ২০২৫ সালে বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তে কমপক্ষে ৮০ টি হামলার ঘটনায় ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) কর্তৃক গুলিবিদ্ধ হয়ে অন্তত ৩০ জন ও পিটিয়ে ২ জনসহ ৩২ জন বাংলাদেশী নিহত, ৩৯ জন আহত, ও ৬৩ জন গ্রেফতার হয়েছেন। সীমান্তবর্তী এলাকায় ভারতীয় নাগরিকদের গুলিতে ও হামলায় অন্তত ৭ জন বাংলাদেশী নিহত হয়েছেন। দেশের বিভিন্ন সীমান্তবর্তী এলাকা দিয়ে কমপক্ষে ৩৪৯৩ জনকে বাংলাদেশে পুশইন করেছে বিএসএফ। এছাড়া গত নভেম্বর মাসে ভারতীয় জলসীমার কাছে বঙ্গোপসাগর থেকে ১৪৩ জেলেকে ধরে নিয়ে গেছে ভারতীয় কোস্টগার্ড ।
এইচআরএসএস-মনে করে, সীমান্তে আইন প্রয়োগের নামে গুলি চালিয়ে মানুষ হত্যা একটি গুরুতর বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড। কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকলে তা অবশ্যই আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে মোকাবিলা করতে হবে; সরাসরি প্রাণনাশের মতো কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ মানবাধিকারের মৌলিক অধিকার—বিশেষত বেঁচে থাকার অধিকার—লঙ্ঘন করে। বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যকার বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক থাকা সত্ত্বেও সীমান্তে বারবার এমন হত্যাকাণ্ড দুই দেশের পারস্পরিক আস্থার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে কার্যকর ও দৃশ্যমান পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।
এইচআরএসএস-এই ঘটনার অবিলম্বে নিরপেক্ষ, স্বচ্ছ ও বিশ্বাসযোগ্য তদন্ত নিশ্চিত করতে এবং দায়ী বিএসএফ সদস্যদের চিহ্নিত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আওতায় আনতে জোড় দাবি জানাচ্ছে। সেইসাথে নিহতদের পরিবারকে যথাযথ ক্ষতিপূরণ ও পুনর্বাসন সহায়তা প্রদান করতে হবে। সীমান্তে প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহারের নীতি পুনর্বিবেচনা করে মানবাধিকারসম্মত বিকল্প ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। এছাড়া, বাংলাদেশ সরকারকে জোরালো কূটনৈতিক প্রতিবাদ জানিয়ে ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে।
পরিশেষে, এইচআরএসএস নিহতদের পরিবারের প্রতি গভীর শোক ও সমবেদনা জ্ঞাপন করছে এবং সীমান্তে মানবাধিকার সুরক্ষায় সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষকে দায়িত্বশীল ও সংযত আচরণের আহ্বান জানাচ্ছে।
Home বাংলাদেশ সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে দুই বাংলাদেশি নিহতের ঘটনায় এইচআরএসএস-এর তীব্র নিন্দা ও বিচারের...

