Home বিশ্ব ইরান অভিযানে ৪০টির বেশি মার্কিন বিমান ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস: ফ্লাইটগ্লোবাল রিপোর্ট

ইরান অভিযানে ৪০টির বেশি মার্কিন বিমান ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস: ফ্লাইটগ্লোবাল রিপোর্ট

32
0


যুক্তরাষ্ট্রের ইরানবিরোধী সামরিক অভিযানে ৪০টিরও বেশি মার্কিন সামরিক বিমান ধ্বংস, ভূপাতিত বা গুরুতরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানিয়েছে বিমান ও প্রতিরক্ষা বিষয়ক আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম FlightGlobal। প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, ইরানের বিরুদ্ধে পরিচালিত আকাশযুদ্ধে মার্কিন বাহিনী উল্লেখযোগ্য ক্ষতির মুখে পড়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, মোট ৪২টি মার্কিন বিমান বিভিন্নভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ২৪টি MQ-9A Reaper ড্রোন, সাতটি KC-135 Stratotanker আকাশে জ্বালানি সরবরাহকারী বিমান এবং একাধিক যুদ্ধবিমান। কিছু বিমান সরাসরি ইরানের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার হামলায় বিধ্বস্ত হয়েছে, আবার কিছু বিমান ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় ঘাঁটিতেই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

মার্কিন কংগ্রেসের কাছে জমা দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এসব ক্ষতির আর্থিক মূল্য প্রায় ২.৬ বিলিয়ন ডলার। ক্ষতিগ্রস্ত বিমানের মধ্যে অত্যাধুনিক F-35A Lightning II যুদ্ধবিমান, MQ-4C Triton নজরদারি ড্রোন এবং E-3 Sentry গোয়েন্দা বিমানও রয়েছে। সৌদি আরবে অবস্থানরত একটি E-3 Sentry ইরানি ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় আঘাতপ্রাপ্ত হয় বলে জানা গেছে।

এদিকে মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর প্রকৃত ক্ষয়ক্ষতির সম্পূর্ণ তথ্য প্রকাশ করেনি বলেও প্রতিবেদনে ইঙ্গিত করা হয়েছে। কংগ্রেসের সদস্যরা অভিযোগ করেছেন, পেন্টাগনের দেওয়া হিসাব অসম্পূর্ণ হতে পারে এবং প্রকৃত ক্ষতির পরিমাণ আরও বেশি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

যুদ্ধ চলাকালে মার্কিন বাহিনীর বেশ কয়েকটি বিমান ইরানের ভেতরে ভূপাতিত হওয়ার খবর আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলোতে প্রকাশিত হয়। এপ্রিল মাসে একটি F-15E Strike Eagle যুদ্ধবিমান ইরানের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার হামলায় বিধ্বস্ত হয় বলে বিভিন্ন সূত্রে দাবি করা হয়। ওই ঘটনার পর মার্কিন বাহিনী বড় ধরনের উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করে।

এছাড়া ইরানি হামলায় মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন মার্কিন ঘাঁটির অবকাঠামো ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলেও অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। স্যাটেলাইট চিত্র বিশ্লেষণ করে মার্কিন সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, অন্তত ২২৮টি স্থাপনা ও সামরিক সরঞ্জাম ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, এই সংঘাত আধুনিক যুদ্ধক্ষেত্রে ড্রোন, ক্ষেপণাস্ত্র ও সমন্বিত আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার কার্যকারিতা নতুনভাবে সামনে নিয়ে এসেছে। একই সঙ্গে এটি মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক উপস্থিতি ও কৌশল নিয়ে নতুন প্রশ্নও তৈরি করেছে।

পড়ুনঃ  মুসলিম শিশু রোগ বিশেষজ্ঞকে ছুরিকাঘাতে হত্যা করলো শ্বেতাঙ্গ তরুণ

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here